বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

রাজস্ব আদায় ও লাইসেন্স বাণিজ্যের নামে রেলওয়ে স্টেট অফিসারের উৎকোচ বানিজ্য


প্রকাশ :

প্রথমে দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করা হয় তালা বন্ধ পরে দলীয় নেতাদের নিয়ে শুরু হয় দরবার। পরে অফিসের বাইরে অজ্ঞাত স্থানে হয় লেন দেন। এভাবেই লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মনজুর হোসেনের বিরুদ্ধে রেলের জমি থেকে রাজস্ব আদায়ের নামে উৎকোচ বানিজ্য অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, রংপুর বিভাগের ৮ টি জেলার ৮৪টি স্টেশন এলাকা লালমনিরহাট রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের আওতায়। আর এসব জায়গায় দীর্ঘদিন থেকে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে শত শত দোকানপাট। নিয়মিত অভিযানের কথা বলে এসব দোকানপাটে তালা মেরে অফিসে বসেই মোটা অংকের ঘুষ নিচ্ছেন রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মনজুর হোসেন। এমন অভিযোগ একাধিক ভুক্তভোগীর।

বিধি অনুযায়ী, রাজস্ব বা লাইসেন্সের ফি আদায়ের ক্ষেত্রে অফিসে কোনো নগদ অর্থ লেনদেন করা নিষিদ্ধ। এছাড়া কাগজপত্র পর্যা‌লোচনা এবং যথাযথ পদ্ধ‌তি  অনুসরণপূর্বক লিজ বা লাই‌সেন্স অনু‌মো‌দিত হওয়ার পর সরকা‌রি পাওনা‌দি  আদা‌য়ের জন্য ডিমান্ড নো‌টিশ ইস্যু করার বিধান থাক‌লেও মানা হচ্ছে না এসবের কোনো নিয়ম। সম্প্রতি প্রতিবেদকের হাতে আসা একাধিক কথোপকথনের রেকর্ড থেকে বেড়িয়ে এসছে থলের বিড়াল। রেকর্ডে শোনা যায়, জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার রনিউল ইসলাম, ফজলে রহমান নামের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে রাজস্ব নেয়ার কথা বলে অফিসে বসেই মনজুর হোসেন নিজ হাতে নগদ টাকা নেন যথাক্রমে ১ লক্ষ ২৫ হাজার এবং ৮৪ হাজার টাকা। তবে ৬টি সরকারি চালানে নিজ অফিসের কর্মচারীদের দিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা করান যথাক্রমে ৫৩ হাজার এবং ৩৬ হাজার টাকা। হাতে ধরিয়ে দেন ভূয়া লাইসেন্স,  যা রেলওয়ে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নামক সফটওয়্যারে এন্ট্রিকৃত তথ্যের কপি মাত্র। বার বার সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেয়ার রশিদ চাইলেও দেয়া হয়নি কোনো রশিদও। 

রেলের ভূমি ব্যবস্থাপনার সবশেষ নীতিমালা অনুযায়ী, মাষ্টারপ্লানভুক্ত করার পর উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করেই কেবল কোনো জমি বানিজ্যিক ব্যাবহারের লীজ বা লাইসেন্স দিতে হবে। রনিউল ও ফজলের বিষয়ে মানা হয়নি এসবের কোনো নিয়ম। এমনকি লাইসেন্সের ধরন পরিবর্তন এবং  জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়াও মানা হয়নি তাদের ক্ষেত্রে। অথচ মনজুর হোসেন লাইসেন্স দেয়া এবং রাজস্ব আদায়ের কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

ভুক্তভোগীরা হাতিবান্ধা উপজেলার রনিউল ইসলাম ও ফজলে রহমান জানান, দোকানে তালা দিয়ে অফিসে ডেকে এনে বানিজ্যিক ভাড়া ও অন্যান্য ফি জমা দেওয়ার একটি কাগজ দেওয়া হয়। সেই কাগজে দেওয়া টাকার পরিমানের দ্বিগুন অথবা তিনগুন টাকা আদায় করা হচ্ছে যার অধিকাংশ অর্থ আত্মসাত করছেন এই কর্মকর্তা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকান উচ্ছেসসহ মামলা করারও হুমকি দেন তিনি।

নীতিমালা অনুযায়ী, কৃষি লাইসেন্স গ্রহীতা রেলভুমি বানিজ্যিকভাবে ব্যাবহার করলে লাইসেন্স বাতিল কিংবা বানিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রতি বর্গফুটের জন্য তিনগুন জরিমানা, সার্টিফিকেট মামলা ও প্রচলিত আইনে ফৌজদারি মামলা করা যাবে। অভিযোগ রয়েছে, এই বিধিকে ঢাল বানিয়ে যোগদানের পর থেকেই সাধারন মানুষদের হয়রানি ও অর্থ লুটে নিচ্ছেন এই কর্মকর্তা। আর এতে প্রত্যক্ষ সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন ওই অফিসের অফিস সহকারী জাবের হোসেন ও ফিল্ড কানুনগো সিদ্দিকুর রহমান। তবে তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মনজুর হোসেন

নগদ টাকা গ্রহনের কথা স্বীকার করে জানান, আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন। আপনারা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন'।