বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

অবৈধ সম্পদ ও মানি লন্ডারিং মামলায় সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড


প্রকাশ :

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট-কে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিং মামলায় মোট ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দুদক আইনে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে সম্রাটকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ১০ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে অতিরিক্ত ৬ মাসের কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, দুই ধারার সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে—ফলে মোট কারাদণ্ড দাঁড়াচ্ছে ২০ বছর।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, সম্রাট ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ২০২২ সালের ২২ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান।

আদালত সূত্র জানায়, পলাতক থাকায় সম্রাটের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়নি। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি মামলার ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় দেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় কুমিল্লা থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী যুবলীগ নেতা এনামুল হক ওরফে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে র‌্যাবের অভিযানে বিদেশি পিস্তল, ইয়াবা, বিদেশি মদ, ক্যাঙ্গারুর চামড়া ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং মাদক ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলাও দায়ের করা হয়।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। একই সঙ্গে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ায় আদালত এখন দুই ধারার সাজা কার্যকর ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছে।