বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

গা ঢাকা দিয়েছেন নর্থ বেঙ্গল গেস্ট হাউস জোরপূর্বক দখলকারী টুল, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি


প্রকাশ :

মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছেন লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান নর্থ বেঙ্গল গেস্ট হাউজ জোরপূর্বক দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু (৫৫)। তিনি লালমনিরহাট পৌরসভার খোচাবাড়ী এলাকার মৃত আব্বাস উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে খুঁজছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি রাতে আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু দলবল নিয়ে বন্ধ থাকা গেস্ট হাউজটিতে গিয়ে জোরপূর্বক তালা লাগান। পরে ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে আগের তালা ভেঙে প্রতিষ্ঠানটি দখলে নেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা মূল্যবান এসি, টেলিভিশন, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মুকুট চন্দ্র মোহন্ত আদালতের আশ্রয় নেন। আদালত উপস্থাপিত দলিলপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে রেকর্ড করার জন্য লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে ১৪ ফেব্রুয়ারি থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলায় আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলুসহ ৮-১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

লালমনিরহাট শহরের মোগলহাট রেলগেট এলাকায় প্রায় ১৩ শতাংশ জমির ওপর পাঁচতলা ভবনটির মালিক ছিলেন প্রয়াত এবিএম শরীফ উদ্দিন। প্রায় এক বছর আগে তার মৃত্যু হলে প্রতিষ্ঠানের মালিকানা তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের কাছে হস্তান্তরিত হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, পুত্রসন্তান না থাকায় ভাই হিসেবে আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু ১০ শতাংশ অংশের মালিকানা পান। নিজের অংশের বাইরে পুরো প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা চালান তিনি। এ লক্ষ্যে আদালতে একটি মামলা দায়ের করলেও সেখানে সুবিধাজনক অবস্থানে না থাকায় টুলু ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠানটি দখলের পথ বেছে নেন।

ম্যানেজার মুকুট চন্দ্র মোহন্ত বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি দেখভালের জন্য মূল মালিক আমাকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন। আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু মনগড়া তথ্য দিয়ে আদালতে মামলা করায় প্রায় সাত মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “মামলায় সুবিধা করতে পারবেন না বুঝতে পেরে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠানটি দখল নিয়েছেন টুলু। আদালত আমাদের সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই করে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।”

তার দাবি, মালিকপক্ষ আইনগতভাবে প্রাপ্য অংশ দিতে সমঝোতার প্রস্তাব দিলেও টুলু পুরো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা দাবি করে আসছিলেন। “প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে,”—যোগ করেন তিনি।

মামলার পর থেকে আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। একাধিকবার কল করে মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। এ কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লালমনিরহাট সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল আলম বলেন,

“আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলুকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”