আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে কক্সবাজারের উখিয়া–টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঝুঁকি এড়াতে নির্বাচনের আগে ও পরে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ক্যাম্পগুলো কার্যত সিলগালা করে রাখা হবে এবং রোহিঙ্গাদের বাইরে চলাচল বন্ধ থাকবে।
এ সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ নিরাপত্তা ঝুঁকি। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যে ইসি জানতে পেরেছে, কয়েকটি ক্যাম্পে আরসা, আরএসও ও আরাকান আর্মির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে এবং অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতিও মিলেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক স্বার্থে কোনো পক্ষ রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, জাল ভোট বা ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করতে পারে।
ইসির চিহ্নিত ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে—
প্রার্থীদের পক্ষে রোহিঙ্গাদের দিয়ে প্রচারণা চালানো
টাকার বিনিময়ে জাল ভোটের চেষ্টা
সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানো
সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করা
এই বাস্তবতায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—
চলাচল নিষিদ্ধ: নির্বাচনের সময় রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে যেতে পারবে না। ক্যাম্পের ভেতরেও সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে।
বাজার ও এনজিও নিয়ন্ত্রণ: বালুখালী, লেদা ও নয়াপাড়ার বড় বাজার সাময়িক বন্ধ থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এনজিও কর্মীদের প্রবেশ সীমিত করা হবে।
কড়া নজরদারি: প্রতিটি চেকপোস্টে শতভাগ পরিচয় যাচাই হবে। মসজিদের ইমাম ও মাঝিদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হবে এবং অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বিশেষ অভিযান: অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান চলবে এবং মোবাইল কোর্ট সক্রিয় থাকবে।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, সারা দেশে মোট ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর একটি বড় অংশ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে।
ইসি বলছে, এই কঠোর ব্যবস্থা কারও প্রতি বৈরিতা নয়—বরং অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।