বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিকুর রহমানের বাসায় ১১ বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মী মোহনাকে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার রিমান্ড শুনানিতে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানির সময় বিচারক শিশুটির জবানবন্দির গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মোহনাকে অমানবিক আচরণের মধ্যে রাখা হয়েছিল। তাকে প্রয়োজনীয় খাবার, পোশাক ও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং শারীরিকভাবে নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, এটি গুরুতর শিশু নির্যাতনের ঘটনা।
শুনানিতে উপস্থিত আইনজীবীরা শিশুটির ওপর হওয়া নির্যাতনের বিবরণ শুনে আদালতকে অনুরোধ জানান যেন আর বিস্তারিত পাঠ করা না হয়। একপর্যায়ে আসামি সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বীথি আংশিকভাবে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেন।
এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রুবেল মিয়া চার আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। মঙ্গলবার বিকেলে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের প্রতিনিধি ফাহমিদা আক্তার রিংকি বলেন, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বাসায় এমন ঘটনা দেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি বলেন, নির্যাতনের কারণ উদঘাটনে রিমান্ড জরুরি। আদালতে শতাধিক আইনজীবী রিমান্ডের পক্ষে মত দেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী এ কে আজাদ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, সাফিকুর রহমান অধিকাংশ সময় অফিসে থাকতেন এবং ঘটনাটি সম্পর্কে জানতেন না।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত বছরের জুনে মোহনাকে কাজের জন্য ওই বাসায় দেওয়া হয়। ২ নভেম্বর তার বাবা শেষবার তাকে সুস্থ অবস্থায় দেখেছিলেন। এরপর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি শিশুটি অসুস্থ জানিয়ে তাকে ফেরত দেওয়া হয় এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় মোহনার বাবা গোলাম মোস্তফা উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত চলছে এবং আদালত রিমান্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।