আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজধানী ঢাকাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সম্ভাব্য সহিংসতা ও নাশকতা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় এবং প্রবেশপথে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশকে গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের পরিচয় যাচাই করতে দেখা গেছে। প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, সিএনজি, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকে ব্যাগ ও গাড়ির ভেতর পরীক্ষা করা হচ্ছে। সন্দেহ হলে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, কেউ যেন অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর সামগ্রী বহন করতে না পারে, সেটাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে টহল কার্যক্রম।
দুপুরে সরেজমিনে শাহবাগ এলাকায় দেখা যায়, চেকপোস্টে গাড়ি থামিয়ে চালক ও আরোহীদের তল্লাশি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে চালকদের হাত তুলে দাঁড় করিয়ে শরীর তল্লাশি করা হয় এবং সঙ্গে থাকা ব্যাগ খুলে দেখা হয়।
শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, জাতীয় প্রেস ক্লাব, আব্দুল গণি রোড, চানখারপুল, দোয়েল চত্বর, হাতিরপুল, পরীবাগ ও পলাশী এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নাশকতামূলক বস্তু উদ্ধার হয়নি।
ধানমন্ডি থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ধানমন্ডি ৮/এ, ২৭ নম্বর সড়ক, শুক্রবাদ, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ১৫ ও জিগাতলায়ও তল্লাশি চলছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি আলাদাভাবে অভিযান পরিচালনা করছে।
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. শাহরিয়ার আলী জানান, তার আওতাধীন ছয়টি থানায় বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এদিকে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে গুলশান–বাড্ডা লিংক রোডে র্যাব-১ বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্তে গাড়ি থামিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় যেকোনো ধরনের সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। দিয়া বাড়ি ক্যাম্পের মেজর গাজী মেহেদী হাসান বলেন, ভোটাররা যেন নিরাপদে কেন্দ্রে যেতে ও ফিরে আসতে পারেন, সে জন্য যৌথবাহিনী মাঠে থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ভোটের দিন এবং ভোটের পরেও এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে।