বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

নিপাহ ভাইরাসে নারী আক্রান্ত, WHO সতর্ক


প্রকাশ :

নওগাঁ জেলায় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নারী মারা গেছেন। রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, বর্তমানে নিপাহ ভাইরাসের কারণে আন্তর্জাতিক মহামারির ঝুঁকি কম।

সংস্থার বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিহত নারী ৪০–৫০ বছর বয়সী। ২১ জানুয়ারি থেকে তার শরীরে জ্বর, মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে ২৭ জানুয়ারি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ২৮ জানুয়ারি তার গলার শ্লেষ্মা ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ২৯ জানুয়ারি পরীক্ষা শেষে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারীর সাম্প্রতিক কোনো ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না। তবে অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। নিপাহ ভাইরাসের প্রধান বাহক হলো ফলাহারি বাদুড় (‘টেরোপাস’ প্রজাতি)। শীতকালে খেজুরের রস সংগ্রহের হাঁড়িতে বাদুড়ের লালা বা মলমূত্রের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা কাঁচা রসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশে মোট ৩৪৮ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকই কাঁচা খেজুরের রস পান করার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। বাকি সংক্রমণ হয়েছে আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে এসে।

সীমান্তবর্তী ভারতেও এই ভাইরাসের দুটি নতুন ঘটনা ধরা পড়ায় বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। WHO জানিয়েছে, বিদ্যমান তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি কম, কোনো দেশ বা অঞ্চলের ওপর ভ্রমণ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নেই।

নিপাহ ভাইরাসে কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা নেই এবং সংক্রমিতদের মধ্যে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও পরীক্ষা কার্যক্রম বাড়িয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি এড়ানোর বিষয়ে সচেতন হতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। এই সময় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ।