বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

রমজানের প্রস্তুতিতে সাহাবিদের অনুসরণীয় ৪ দৃষ্টান্ত


প্রকাশ :

হিজরি বর্ষপঞ্জির সর্বশ্রেষ্ঠ মাস মাহে রমজান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক বিশেষ নিয়ামত। এই মাসকে আল্লাহ ‘শাহরুল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহর মাস হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন। রমজানের একটি রাত লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।

যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রস্তুতি অপরিহার্য। ইবাদতের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ছিল ইবাদতের আগে মানসিক ও আমলগত প্রস্তুতি গ্রহণ করা। তবে রমজানকে ঘিরে সাহাবায়ে কেরামের প্রস্তুতি ছিল গভীর, সুদূরপ্রসারী ও ব্যতিক্রমী। তাদের কাছে রমজান ছিল আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। নিচে রমজানকে স্বাগত জানাতে সাহাবিদের চারটি প্রস্তুতির দিক তুলে ধরা হলো—

১. ছয় মাস আগ থেকেই রমজানের ব্যাকুলতা

সাহাবিদের জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও গভীর প্রত্যাশা। প্রখ্যাত তাবেয়ি মুয়াল্লা বিন ফজল (রহ.) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম বছরের ছয় মাস আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যেন তিনি তাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। আর রমজান শেষ হওয়ার পরের পাঁচ মাস তারা দোয়া করতেন যেন তাদের আমল কবুল হয়। অর্থাৎ, তাদের পুরো বছরই আবর্তিত হতো রমজানকে কেন্দ্র করে।

২. শাবান মাসে কোরআন তিলাওয়াতের প্রস্তুতি

সাহাবিরা রমজানের প্রধান আমল কোরআন তিলাওয়াতের প্রস্তুতি নিতেন শাবান মাস থেকেই। শাবান শুরু হলে আমর বিন কাইস (রহ.) নিজের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে পুরো সময় কোরআনের জন্য উৎসর্গ করতেন। সাহাবিরা বলতেন, শাবান হলো তিলাওয়াতকারীদের মাস, যেন রমজানে দীর্ঘ তিলাওয়াত তাদের জন্য কষ্ট নয়, বরং প্রশান্তি হয়ে ওঠে।

৩. তওবা ও আত্মশুদ্ধির মানসিক প্রস্তুতি

সাহাবিরা বিশ্বাস করতেন, গুনাহ মানুষের অন্তরকে কঠিন করে তোলে এবং ইবাদতের স্বাদ নষ্ট করে দেয়। তাই রমজান আসার আগেই তারা তওবা, ইস্তিগফার ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের পরিশুদ্ধ করতেন। উদ্দেশ্য ছিল—রমজানের প্রথম রাত থেকেই আল্লাহর রহমত লাভের উপযুক্ত হওয়া।

৪. দান-সদকার অভ্যাস গড়ে তোলা

রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানে প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল হতেন। সাহাবিরাও তাঁর এই সুন্নাহ অনুসরণ করে রমজানের আগেই দান-সদকার অভ্যাস গড়ে তুলতেন। মানুষের কষ্ট লাঘবের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এই মানসিকতা তাদের রমজানকে আরও অর্থবহ করে তুলত।

আমাদের জন্য সাহাবিদের প্রস্তুতি থেকে শিক্ষা

সাহাবিদের রমজান প্রস্তুতি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে—

  • মানসিক সংকল্প: আজ থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যে, এবারের রমজান হবে জীবনের সেরা রমজান।

  • কোরআনের সঙ্গে সখ্যতা: রমজানের আগেই তিলাওয়াতের অভ্যাস শুরু করা।

  • অপ্রয়োজনীয় কাজ বর্জন: অযথা সময় নষ্ট না করে ইবাদতের জন্য সময় বের করা।

সাহাবিদের একাগ্রতা, ব্যাকুলতা ও প্রস্তুতির সামান্য অংশও যদি আমাদের জীবনে প্রতিফলিত হয়, তবেই রমজানের সিয়াম সাধনা হবে সত্যিকার অর্থে সফল ও সার্থক।