ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ) গঠনের চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান নেন।
একই সময়ে মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড় ও পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার মোড়েও শিক্ষার্থীদের জড়ো হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর ফলে মিরপুর সড়কসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সাফওয়ান আহমেদ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানুয়ারি মাসের মধ্যেই অধ্যাদেশ জারির আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো অগ্রগতি নেই। এক দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী তসিফ হাসান বলেন, দাবি স্পষ্ট এবং এ নিয়ে আর কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বের হন। প্রায় ১২টা ৪০ মিনিটে তারা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে পৌঁছে অবস্থান নেন। বিক্ষোভে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় তারা ডিসিইউ গঠনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সড়ক অবরোধের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। ফার্মগেট থেকে সায়দাবাদগামী এক যাত্রী বলেন, বারবার সড়ক বন্ধ হওয়ায় নগরবাসী বিপাকে পড়ছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির ফলে আজিমপুর থেকে গাবতলী পর্যন্ত মিরপুর সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। মিরপুর-১, ২ ও ১০ নম্বর এলাকাতেও যান চলাচল ব্যাহত হয়। গণপরিবহন সংকটে অনেক যাত্রীকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
এর আগের দিন বুধবারও সায়েন্স ল্যাব, টেকনিক্যাল ও তাঁতীবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। একই দিনে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরাও পৃথক দাবিতে ফার্মগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করলে রাজধানীর একাধিক এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রস্তুতি ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই সাত কলেজ নিয়ে কাঠামোগত সংকট চলছে। সেই সংকট নিরসনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও খসড়া অধ্যাদেশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ এখনো কাটেনি।