কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৭ লাখ টাকার ভারতীয় স্বর্ণ কাতান শাড়ির একটি বড় চালান জব্দ করেছে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)। সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে একক অভিযানে এত বিপুল পরিমাণ মূল্যবান শাড়ি জব্দকে বিজিবি বড় সফলতা হিসেবে দেখছে।
বিজিবি জানায়, বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পূর্ব ভোটহাট এলাকায় বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাগভান্ডার বিওপি টহলদল বিশেষ অভিযান চালায়। তারা আগে থেকেই তথ্য পায়—চোরাকারবারীরা ভারতীয় স্বর্ণ কাতান শাড়ির একটি বড় চালান সীমান্ত পথে বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করছে।
ওই রাতে টহল দল সীমান্তবর্তী এলাকায় কৌশলগতভাবে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তিকে বস্তা ভর্তি মালামাল বহন করতে দেখে তাদের চ্যালেঞ্জ করা হয়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা শাড়িভর্তি বস্তাগুলো ফেলে ভারতের ভেতরে পালিয়ে যায়।
পরে টহলদল ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মোট ২৭২টি ভারতীয় স্বর্ণ কাতান শাড়ি উদ্ধার করে। এগুলোর সিজার মূল্য ২৭ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানায় ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি সাংবাদিকদের বলেন, আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি, গোয়েন্দা কার্যক্রম ও নিয়মিত টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জব্দ করা শাড়িগুলো আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শুল্ক বিভাগে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত চলছে।
বিজিবির মতে, ভারতীয় স্বর্ণ কাতান শাড়ির চাহিদা বেশি থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এই রুটে চোরাচালানের প্রবণতা বাড়ছিল। তবে সাম্প্রতিক নজরদারি বৃদ্ধির ফলে চোরাকারবারীরা প্রায়ই অভিযান মুখে পড়ছে। ১৫ বিজিবির দাবি, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত ও সতর্ক।