পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার কঠোরতা শিথিল, দক্ষতা–ভিত্তিক পরীক্ষা চালু এবং লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সাম্প্রতিক নিয়োগ বাতিলের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন হয়েছে।
আজ ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক লিখিত পরীক্ষা দিয়ে প্রকৃত দক্ষ কর্মীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও ব্যবহারিক যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন পরীক্ষা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হরিজন যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রিংকু ডোম। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক পংকজ বাসফোর। বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা বাইজু সরদার, সাবেক সহ-সভাপতি লেবু বাসফোর, গাজীপুর মহানগর সভাপতি রতন লাল, ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি গজন লাল, সম্পাদক বিমল ডোম, উত্তরের সভাপতি রুবেল, যুব পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মুকেশ বাসফোর, ছাত্র পরিষদের সম্পাদক হৃদয় দাসসহ অনেকে।
সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট উৎপল বিশ্বাস, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং টিক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ছামিউল আলম রাসু। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র আন্দোলন—প্রতিটি সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্য দূর করা। অথচ স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, ব্রিটিশ শাসনামলের মতোই হরিজন সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ সমাজে এখনো বিদ্যমান। শিক্ষা, চাকরি ও মৌলিক অধিকার—সব ক্ষেত্রেই তারা পিছিয়ে। এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে তাদের কাজ করার কথা, সেটিতেও রাজনৈতিক পছন্দের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, অনেক সময় কোনো নোটিশ ছাড়াই তাদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়, যা মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হলে তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংসদে নিজস্ব প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন বলেও মত দেন তারা।
সংহতি জানিয়ে আরও বক্তব্য দেন বিডিআরএমের কেন্দ্রীয় সম্পাদক শিপন রবিদাস এবং জাগ্রত মানবাধিকার সংগঠনের নেতারা। তারা দাবি করেন, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র এমন কঠিন করা হয় যা পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদের পরিপ্রেক্ষিতে অযৌক্তিক। এতে অভিজ্ঞ কর্মীরা অন্যায়ভাবে বাদ পড়েছেন।
মানববন্ধনে তিনটি দাবি উপস্থাপন করা হয়—
১) লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে ব্যবহারিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
২) লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নেওয়া সাম্প্রতিক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত নতুন প্রক্রিয়া প্রবর্তন করতে হবে।
৩) সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সব প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য ৮০ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগে বৈষম্য ও অযৌক্তিক মূল্যায়নের কারণে বহু অভিজ্ঞ কর্মী বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। তাই দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।