বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

হাতীবান্ধায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে গুদাম থেকে সার লুট


প্রকাশ :

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ ডিলারকে অবরুদ্ধ করে গুদাম থেকে সার লুটের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের মেডিকেল মোড় গোলচত্বর এলাকায় মেসার্স ওয়াছেক খান সার বিক্রয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে সকালে হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের চাষিদের জন্য বিসিআইসির ডিলার মেসার্স ওয়াছেক খান তার উপজেলা সদরের মেডিকেল মোড়ের গুদাম থেকে সার বিক্রি শুরু করেন। শুরুতেই চাহিদার তুলনায় সার কম পেয়ে কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

কৃষক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লালমনিরহাটের ব্র্যান্ডিং পণ্য ভুট্টা। চলছে ভুট্টা চাষের মৌসুম। জেলার সর্বাধিক ভুট্টা চাষ হয় হাতীবান্ধায়। মৌসুমের শুরুতেই সার সংকটের খবরে ক্ষুদ্ধ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এ নিয়ে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা।

হাতীবান্ধা ইউএনওর নির্দেশনায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদে বসে কৃষকদের হাতে সারের স্লিপ বিতরণ শুরু করেন। সেই স্লিপ নিয়ে কৃষকরা গুদাম থেকে সার সংগ্রহ করছিলেন। টিএসপি সার কম পাওয়ায় সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ একদল কৃষক ইউনিয়ন পরিষদে সার বিতরণে দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারকে অবরুদ্ধ করে রাখে। একই সময় অপর একটি দল হুড়োহুড়ি করে গুদামে ঢুকে বেশ কিছু বস্তা সার লুট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গুদামে উপস্থিত মেসার্স ওয়াছেক খানের ছেলের বউ মাহমুদা আক্তার রুমি বলেন, আমি এসে দেখি লোকজন জোরপূর্বক সারের বস্তা ভ্যানে ওঠাচ্ছে। যে যার মতো লুট করেছে আমাদের গুদাম থেকে। তবে কী পরিমাণ লুট হয়েছে তা হিসাব না করে বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নুর ইসলাম বলেন, আমাদের সার পর্যাপ্ত আছে। কৃষকরা একটু ধৈর্য্য ধরলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা সার বিতরণ করেছি। এর পরে কিছু কৃষক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে প্রায় একশ বস্তা সার লুট করে নিয়ে যায়।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মো. আমান উল্লাহ বলেন, অবরুদ্ধ নয়, ৪০-৫০ জন লোক একটু হট্টগোল করেছিল টিএসপি সারের জন্য। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। সার লুটের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।