বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার না দেখালে আটককে ‘গুম’ হিসেবে গণ্য করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর


প্রকাশ : (১ দিন আগে)
২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার না দেখালে আটককে ‘গুম’ হিসেবে গণ্য করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটকের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার না দেখালে ২৪ ঘণ্টা পরের সময়কে ‘গুম’ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কাউকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করার পর তার অবস্থান ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানো না হলে বিষয়টি সাধারণ আটক হিসেবে বিবেচনার সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তির আইনগত অধিকার এবং তার পরিবারের কাছে অবস্থান জানানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পাস হয়। নতুন আইনকে গুমের অভিযোগের বিচার ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন পাস হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত মাইলফলক। এর আগে এ বিষয়ে অধ্যাদেশ থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যায়নি। নতুন আইনের মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের বিচার এবং প্রতিকার পাওয়ার পথ আরও সুস্পষ্ট হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, অতীতে সংঘটিত গুমের অভিযোগগুলোও নতুন আইনের আলোকে পর্যালোচনা করা হবে। এতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিচার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নতুন আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি হবে না বলেও জানান তিনি।

এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত ২৫১টি গুমের ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এসব ঘটনায় একই ধরনের পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় ঘটনাগুলোকে ‘ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নেওয়া শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন