রংপুর বিভাগে গত তিন মাসে হামের সংক্রমণ বেড়েছে। তবে এ সময়ে হাম বা রুবেলায় আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ সময়ের মধ্যে সাতজন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন ও পঞ্চগড়ে ২ জন শিশু রুবেলায় আক্রান্ত হয়েছে।
এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ থাকা আরও ৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে আসা প্রত্যেক রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুরে ৩ জন ও পঞ্চগড়ে ৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া, গত ৩০ মার্চ থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত রংপুর বিভাগের আট জেলায় হামের উপসর্গ থাকা ৯৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে ৩০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসাধীনদের মধ্যে লালমনিরহাটে ৩ জন, দিনাজপুরে ৩ জন, গাইবান্ধায় ৩ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ জন, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন ভর্তি রয়েছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে বিভাগের আট জেলায় মোট ১১৬ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ২৫ জন, গাইবান্ধায় ২১ জন এবং রংপুর জেলায় ১৯ জন। এছাড়া নীলফামারীতে ১৬ জন, কুড়িগ্রামে ১২ জন, পঞ্চগড়ে ১০ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৮ জন এবং লালমনিরহাটে ৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৭ জনের হাম এবং পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ জনের রুবেলা নিশ্চিত হয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আয়েশা সুলতানা বলেন, হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের হাম কর্নারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। তবে নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় অতিরিক্ত একটি কক্ষ প্রস্তুত করা হচ্ছে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক গওসুল আজিম চৌধুরী জানান, বিভাগের দুটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে হাম রোগীদের জন্য আইসোলেশন কর্নার চালু করা হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের এসব কর্নারে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে দুই বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যাই বেশি। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালগুলোতে আলাদা আইসোলেশন কক্ষে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে এবং যেসব শিশু এখনও হামের টিকা পায়নি, তাদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে।