শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

লালমনিরহাটে স্বাধীনতা দিবসে আমন্ত্রণ পেলেন না জীবিত বীর প্রতীক ও জেলা ইউনিট কমান্ড


প্রকাশ :

লালমনিরহাটের একমাত্র জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় জেলায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে আমন্ত্রণ পাননি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ লালমনিরহাট জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়কও।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক বীর প্রতীক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমন্ত্রণের বিষয়ে একাধিকবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জানা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ৪২৬ জনকে ‘বীর প্রতীক’ উপাধিতে ভূষিত করে। লালমনিরহাটের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আজিজুল হক তাঁদের একজন।

প্রতি বছর স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারকে সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে সম্মাননা প্রদান, ফুলেল শুভেচ্ছা, আপ্যায়ন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তি‌নি।

তবে এ বছর সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বীর প্রতীক আজিজুল হক। স্বাধীনতার পর থেকে নিয়মিত আমন্ত্রণ পেলেও এবার জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। 

আজিজুল হক বীর প্রতীক বলেন, “স্বাধীনতার পর এই প্রথম আমাকে আমন্ত্রণ করা হয়নি। এর কারণও আমার জানা নেই। প্রতি বছর সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিলেও এবার যেতে না পারায় নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে, যা আমার জন্য বিব্রতকর।”

এদিকে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ লালমনিরহাট জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক, গেরিলা লিডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম শফিকুল ইসলাম কানুকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। জেলায় একমাত্র জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে বাদ দেওয়া লজ্জাজনক। তিনি এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার চিঠি দেওয়ার পরও জেলা প্রশাসক এখনো মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ইউনিট কমান্ডের কাছে হস্তান্তর ও দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছে না। এতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, একাধিকবার লিখিত ও সরাসরি যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০০টি আমন্ত্রণ কার্ড পাঠানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্নজন বিভিন্ন কথা বলতেই পারেন।