জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় ও তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে ডিএসসিসি বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান।
বুধবার বিকেলে (২৮ অক্টোবর’২৬) ডিএসসিসি’র সভা কক্ষে ঢাকা আহছানিয়া মিশনে ও ডিএসসিসি’র যৌথ আয়োজনে ‘ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনে শতভাগ ধূমোপান ও তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণে করণীয়’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
সভায় তামাক নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসি'র বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুর হোসেন।এ সময় তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসি'র ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে তুলে ধরেন। এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের পক্ষে মূল প্রবন্ধে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান।
তিনি জানান, গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) এর তথ্যমতে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করে ও ১ কোটি ৯২ লক্ষ মানুষ ধূমপান করে এবং প্রায় ৪ কোটি মানুষ ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে। গ্যাটস ২০১৭ তথ্যমতে ধূমপান না করেও কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার এ হার ৪২ শতাংশ মানুষ। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে আইন সম্পর্কে সচেতনতা কম, তামাকজাত দ্রব্যের সহজলভ্যতা এবং সর্বপরি আইনের সঠিক ও যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়া এবং তামাক কোম্পানীর কূটকৌশল ইত্যাদি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, কর্মক্ষেত্রে যত্রতত্র ধূমপানের চিত্র দেখতে পাওয়া যায়, ফলে ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন অনেকেই। পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে সবাইকে রক্ষা করতে কর্মক্ষেত্রকে শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ডিএসসিসি’র আওতাধীন বাসস্টান্ড, রেস্টুরেন্টসহ পাবলিক প্লেসগুলোতে ধূমপান বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
কর্মক্ষেত্র ও আশেপাশের এলাকা ধূমপানমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান ও ধূমপানমুক্ত সাইনেজ লাগানো এবং ডিএসসিসি'র সকল কার্যালয়কে শতভাগ ধূমপান ও স্মোকিং জোনমুক্ত রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বক্তারা।
পাশাপাশি, তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হলেও তামাক কোম্পানী সুকৌশলে বিক্রয়কেন্দ্রগুলি ব্যবহার করছে বিজ্ঞাপন প্রচারের কাজে যেটা বন্ধ হওয়া উচিৎ। ডিএসসিসি’র আওতাধীন মার্কেট, পাবলিক প্লেস ও বিপনন কেন্দ্রগুলোতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের লংঘন বন্ধ করতে জোড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেন বক্তারা।
এছাড়াও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আসন্ন বাজেটে বরাদ্দ রাখা এবং সেই বরাদ্দকৃত বাজেট ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ধূমপানমুক্ত নিশ্চিত করতে হবে। এবং সামাজিক মাধ্যমে তামাকের কুফল সম্পর্কে প্রচারণা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের এ কাজে এগিয়ে আশার আহ্বান জানানো হয়।
ডিএসসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ডিএসসিসি’র সচিব মশিউর রহমান খান ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের আরবান হেলথ প্রোগ্রামের প্রোজেক্ট ম্যানেজার মাহ্ফিদা দীনা রূবাইয়াসহ ডিএসসিসি’র উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডির হাতে একক ক্ষমতা
৬ ঘন্টা আগে