রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরব: রংপুরে জামায়াতের আমির


প্রকাশ : (১৬ ঘন্টা আগে)
১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরব: রংপুরে জামায়াতের আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেছেন, সমস্ত অপশক্তি, অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবে। আমরা নেমেছি দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় করতে। সেই অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।’ ‘আমার সহকর্মীরা বলেছেন আট দফা যেকোনো সময় জাতির প্রয়োজনে এক দফায় পরিণত হতে পারে। আজকে সারা বাংলা থেকে একটি আওয়াজ, আর সহ্য হয় না আপনারা একটা কিছু করেন।’ 

 শনিবার রাতে ঢাকা টু রংপুর লংর্মাচ শেষে রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোট রংপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল সমাপনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বক্তারা একথা বলেন। রংপুর-২ বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলা সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।  

 ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, সেই একটা কিছু হয়ার আগে আমরা চাই সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যদি না হয়, বসে বসে আঙুল চুষব না। সংসদের ভেতরে তীব্র প্রতিবাদ হবে, সমান্তরাল ভাবে রাজপথেও আন্দোলন চলবে। আর সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা জনতার দাবি আদায় করব, ইনশাআল্লাহ। এই দাবি আমাদের দলীয় দাবি নয় এই দাবি ১৮ কোটি মানুষের দাবি। আজকে হাজার হাজার মা-বোন মাঠে নেমে আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন। সংহতি ও একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। যে আন্দোলনে মায়েরা নেমেছেন, সে আন্দোলন সফল হবে, ইনশাআল্লাহ। 

জামায়াত আমির বলেন, আমরা যে কথা দিয়েছি জাতিকে আমরা যেন বেইমান না হই, আমরা যেন জাতির সঙ্গে প্রতারণা না করি, বিশ্বাসঘাতকতা না করি। জীবন যাবে জুলাই দেব না। জুলাই বাস্তবায়ন হবে, ইনশাআল্লাহ। ‘আপনাদের আকাংঙ্খা পূরণ হবে। শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ হবে, চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ হবে, ইনশাআল্লাহ। আধিপত্যবাদ মুক্ত বাংলাদেশ হবে। আট দফা দাবি আদায় না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার কথা উঠে আসে। এর আগে লংমার্চের বিভিন্ন পথসভাতেও তিনি আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে বলে বক্তব্য দেন।

 

 

সমাপনী সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহবায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয়হুইপ মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ডক্টর কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আব্দুল কাইউম সোবহানী, এনসিপির সদস্য সচিবও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আখতার হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম খান এমপি, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ডক্টর এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, আমার বাংলাদেশ পার্টি এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান ইরান, জাতীয় গনতান্ত্রিক পার্টি জাগপার মুথপত্র ইঞ্জনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভোলেপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ও রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, এনসিপির কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির উত্তরাঞ্চলমূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রফেসর ওমর ফারুক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি মাওলানা ফখরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টিম সদস্য ও রংপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য, রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, গাইবান্ধা-৩ সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগর আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা এটিএম আজম খান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসাইন, এনসিপির কেন্দ্রীয়যুগ্ম আহবায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ডক্টর আতিক মুজাহীদ, ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনির্য়াস এফডিইবি এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারশাহ্, রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, রাবি শিবির সভাপতি মুজাহদি ফয়সাল, জগসুজি এস আব্দুল আরীফ , ডাকসু পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, কুড়িগ্রাম জেলা আমীর আজিজুর রহমান সরকার স্বপন, দিনাজপুর জেলা আমীর অনিসুর রহমান,পঞ্চগড় জেলা আমীর ইকবাল হোসাইন, ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর বেলাল উদ্দিন প্রধান, লালমনিরহাট জেলা আমীর এডভোকেট আবু তাহের, নীলফামারী জেলা নায়েবে আমীর ডক্টর খায়রুল আনাম, আমার বাংলাদেশ পার্টি এবিপার্টির কন্দ্রীয় কমিটির সমবায় ও পল্লীউন্নয়ন সম্পাদক ও রংপুর মহানগর আহবায়ক এডভোকেট আব্দুর রউফ, এনসিপির মহানগর আহবায়ক আবু হাসান চঞ্চল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহানগর সভাপতি মাওলানা ইব্রাহীম খলিল, বাংলাদেশ লেবার পার্টির জেলা সভাপতি শামসুদ্দিন রাজা, জাগপার জেলা সভাপতি রতন মুন্সী, মহানগর সভাপতি মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, এনসিপির মহানগর সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহানগর আহবায়ক মোহাম্মদ আবু তালেব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি নুরআলম সিদ্দিক, বাংলাদেশ লেবারপার্টির জেলা সভাপতি এম এ হক আকরাম সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সমাবেশে এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় সরব পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে সমাবেশের সাউন্ড সিস্টেমের দায়িত্বে থাকা নাজমুল ডেকোরেটরের কর্মী অমূল্য চন্দ্ররায় বলেন, এই সমাবেশ ঘিরে দুশো মাইক টাঙানো হয়েছে। এরমধ্যে মাঠে রয়েছে ৮০টি এবং মাঠের বাইরে বিভিন্ন সড়কে ১শ' ২০ টি মাইক টাঙানো হয়েছে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সারাদেশে এখন জনমনে আতঙ্ক যে বাংলাদেশের মানুষের জননিরাপত্তা নেই। শিশুদের নিরাপত্তা নেই।সারাদেশে এখন জনমনে আতঙ্ক যে, বাংলাদেশের মানুষের জননিরাপত্তা নেই। শিশুদের নিরাপত্তা নেই।আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা নেই। কেন এই নিরাপত্তা নেই? কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হচ্ছেন? তিনি তার জবাবদিহিতা সংসদে দিচ্ছেন না।জবাবদিহি চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।গুম আইন করে গুমের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। বিরোধী দল দমনে পুলিশকে আবারও ব্যবহারের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন ।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না, কেন দিল্লির সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা বা নেগোশিয়েশন করতে পারছে না। ভূ-রাজনীতিতে কেন তারা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ আদায় করতে পারছে না। এটা থেকে আমরা বুঝতে পারি, বিএনপি দেশের জাতীয় স্বার্থ নয়, কেবল নিজেদের দলীয় স্বার্থ আদায়ে সরকারে গিয়েছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন ,সরকার দিল্লির পথে শেখ হাসিনার পথে গেছে এই চেষ্টা ব্যর্থ হবে। কারণ বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা আর কাউকেই স্বৈরাচারী হতে দেবে না।কেউ স্বৈরাচারী হওয়ার চেষ্টা করলে রংপুরের মাটি থেকেই ‘প্রথম বিদ্রোহ, প্রথম বিপ্লবের আহ্বান আসবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী এবং রংপুর মহানগর আমির এটিএম আজম খান বক্তব্য রাখেন ।

বিজ্ঞাপন