লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার রিপন রায়ের বিরুদ্ধে হয়রানি ও সাংবাদিকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের মধ্যে প্রতিবাদ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার রিপন রায় দীর্ঘদিন যাবৎ তুষভান্ডার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মরত আছেন। তাঁর স্থায়ী কর্মস্থল রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। তিনি একই জেলার তাড়াগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্বে সপ্তাহে একদিন অফিস করেন। এছাড়া,লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্বে সপ্তাহে দুইদিন মঙ্গলবার ও বুধবার অফিস করেন।
সাব-রেজিস্ট্রার রিপন রায় প্রতিনিয়ত দেরিতে অফিসে আসেন। অনেক রাত পর্যন্ত অফিস করেন। বিলম্বিত সময়ের অজুহাতে দলীলদাতা-গ্রহিতাদের কাছ থেকে আদায় করা হয় অতিরিক্ত কমিশন। তা' নাহলে দলীল সম্পাদন হবেনা-ফিরে যেতে হবে। আসতে হবে অন্য আরেকদিন। এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে গুণতে হয় অতিরিক্ত টাকা। দলীল করতে আসা সাধারনের চরম ভোগান্তির শেষ হচ্ছে না। অভিযোগ করেও প্রতিকার নেই।
এসব অভিযোগের বিষয় জানতে চাইতে গেলে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ, এমনকি সাংবাদিকদেরকেও দুর্ব্যবহার ও হেনস্তার শিকার হতে হয়।
বুধবার, ২৯ জুলাই অফিস সময়ের পর অতিরিক্ত কমিশন নিয়ে দলিল নিবন্ধন হচ্ছে - মর্মে জানতে চেয়ে কালীগঞ্জ রিপোটাস ক্লাবের সভাপতি, দৈনিক মুক্তির সম্পাদক নুর আলমগীর অনু কে কক্ষ থেকে বেড়িয়ে যেতে বলেন এবং তাঁর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার রিপন রায় ও তাঁর লোকজন । এ ঘটনার পর জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, "সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা উচিত হয় নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লালমনিরহাট জেলা সদর সহ ৫ উপজেলার চারটি উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য রয়েছে। আদিতমারী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একজন মহিলা সাব-রেজিস্ট্রার সম্প্রতি পোস্টিং দিয়েছে। লালমনিরহাট সদর সহ পাটগ্রাম,হাতীবান্ধা, তুষভান্ডার(কালীগঞ্জ) সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বছরের পর বছর ধরে সাব-রেজিস্ট্রারের মত জনগুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন অন্য জেলার সাব-রেজিস্ট্রার দ্বারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে।ফলে, ভুমি কেনা-বেঁচায় সাধারন মানুষকে চরম ভোগান্তি পোঁহাতে হচ্ছে।
লালমনিরহাট সীমান্তে ৬ ভারতীয় গরু জব্দ
২ দিন আগে