প্রশাসনিক জটিলতার কারনে শর্ত চাপিয়ে দিয়ে পণ্য বিক্রয় করছে রংপুরের টিসিবি ডিলাররা
রংপুর অফিস: রংপুরে টিসিবি ডিলারদের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আমদানি করা পচা পেঁয়াজ কিনতে ক্রেতাদের বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে ডিলাররা পচা পেঁয়াজ না কিনলে ক্রেতাদের কাছে সয়াবিন তেল, চিনি ও ডাল বিক্রি করছেন না।টিসিবি সূত্রে জানা গেছে তেল, চিনি ও মসুর ডালের দাম বাজারে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীর ১০টি স্থানে ট্রাকে করে এসব পণ্য সামগ্রী বিক্রি শুরু হলেও ক্রেতারা টিসিবির ডিলারদের দেওয়া শর্তের কারণে পণ্য কিনতে পারছেন না।
গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, রংপুর নগরীর প্রেসক্লাব এলাকা ও কাচারী বাজারে গিয়ে ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি করছে ডিলার কর্তৃক নিয়োজিত ব্যক্তিরা ও ডিলাররা। এসময় অপেক্ষামান ক্রেতারা নানা অভিযোগ তুলে ধরে।নগরীর মুন্সিপাড়া মহল্লার সালাম মিয়া বলেন, বিদেশি যে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে তার বেশিরভাগই পঁচা। তারপরেও বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তেল ও চিনি কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।অটো রিস্কা চালক নবিউর রহমান বলেন, আমরা যারা স্বল্প আয়ের মানুষ, তারা টিসিবির ডিলারদের দেওয়া শর্ত পূরন করতে না পারায় পণ্য কিনতে পারছি না। ধাপ এলাকার গৃহবধূ হাসিনা বেগম অভিযোগ করেন ৫/৭ কেজি পেঁয়াজ কিনলেই কেবল দুই লিটার ভোজ্য তেল বিক্রি করবে বলে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ডিলারদের বিক্রি করা পেঁয়াজের মান খারাপ এবং বেশিরভাগই পচা। প্রতিকেজি ২০ টাকা দরে ৫ কেজি পেঁয়াজের ১শ” টাকা আর ভোজ্য তেল ৮০ টাকা লিটার হিসাবে দুই লিটারী একটি বোতল ১৬০ টাকা মোট ২৬০ টাকা দিলেই পণ্য মিলছে। আবার কোথাও কোথাও ৭ কেজি পেঁয়াজের ১৪০ টাকা আর ভোজ্য তেল ৮০ টাকা লিটার হিসাবে দুই লিটারী একটি বোতল ১৬০ টাকা মোট ৩শ” টাকা দিলেই পণ্য বিক্রয় হচ্ছে।একই কথা জানান, নগরীর গুপ্তপাড়া মহল্লার আশরাফ কাদের। তিনি অভিযোগ করেন, পাঁচ কেজি পেঁয়াজ কিনলেই কেবল সঙ্গে দুই কেজি ডাল বা দুই কেজি চিনি কেনা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আগে যখন পেঁয়াজের কেজি ২০০ টাকা হয়েছিল, তখন তারা দুই কেজির বেশি পেঁয়াজ বিক্রি করবেন না বলে শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন। আর এখন পচা পেঁয়াজ চাপিয়ে দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে টিসিবির ডিলার শরিফুল জানান, তাদের বাধ্যতামূলকভাবে এক হাজার কেজি পেঁয়াজ নিতে বাধ্য করছে টিসিবি। একইভাবে ১০০লিটার তেল, ১০০ কেজি ডাল ও ১০০ কেজি চিনি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পেঁয়াজ নিম্নমানের হওয়ায় ক্রেতারা নিতে চাইছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার জানান, চারিদিক থেকে টিসিবি ডিলাররা বিপদে রয়েছেন। উত্তোলনকৃত মালামাল বিক্রিও হচ্ছে না। প্রশাসনিক জটিলতার কারনে রাখাও যাচ্ছে না। তাই শর্ত চাপিয়ে দিয়ে বিক্রয় করা হয়েছে এই পণ্য গুলো।
সার্বিক বিষয়ে জানতে টিসিবি আঞ্চলিক কার্যালয় রংপুর এর (অফিস প্রধান) উপ-ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী প্রতাপ কুমার এর সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হয়। এসময় তিনি বলেন, গোডাউনে প্রচুর পেঁয়াজ পড়ে আছে। সে কারণে আমরা শর্ত জুড়ে পণ্য বিক্রি করছি। ক্রেতাদের জিম্মি করে পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য করার কোনও নির্দেশনা আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি কোনও উত্তর দিতে পারেননি।
এক নজরে- এর অন্যান্য খবর