দেশে দ্রুত অতিমাত্রায় ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধি : স্বাধীনতার চেতনা ও লক্ষ্যের পরিপন্থী
বার্তা রিপোর্ট: বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, দেহের সমস্ত রক্ত মুখে এসে জমা হলে সেটাকে স্বাস্থ্যের লক্ষণ বলে না। তেমনি গোটা দেশ রিক্ত করে, নিঃস্ব করে, বঞ্চিত করে স্বল্প কিছু সংখ্যক মানুষের জন্য অনন্যসাধারন সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করাটাও কোন সভ্য সমাজের রীতি নয়।
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে এসে রক্তস্নাত বাংলাদেশে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তি মিলে যাচ্ছে। দেশে দ্রুত অতিমাত্রায় ধনী ব্যক্তিদের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েই চলছে। সামান্য টোকাই, সরকারি গাড়ির ড্রাইভার, অফিস সহকারী, চোরাচালানী, হুন্ডি ব্যবসায়ী, মাদক ও গরু ব্যবসায়ী, রাজনীনৈতিক নেতা-নেত্রী, সরকারি আমলা, কর্মচারী, মিলার, ডিলার, আমদানি-রপ্তানী কারক, ব্যাংক ঋণ খেলাপী অর্থাৎ ব্যাংক ডাকাত, সরকারি ভূমি ও সম্পদ লুণ্ঠনকারী, শিল্প কারখানার মালিক, করপ্রতারক পেশাজীবী, পরিবহন মালিক, ঔষধ কোম্পানীর মালিকসহ অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা শত থেকে  হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হচ্ছে। এরা দ্রুত অতিমাত্রায় ধনী হয়েছে। অপরদিকে দেশের কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটসহ কয়েকটি জেলায় অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১তে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, সেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে। মানব সত্তার মর্যাদা ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা না মানলে একজন ব্যক্তি যেমন প্রকৃত মুসলিম হতে পারেন না। অনুরূপ রক্ত¯œাত বাংলাদেশের সংবিধান না মানলে একজন ব্যক্তি প্রকৃত সু-নাগরিক হতে পারেন না। দেশে ধর্মীয় ব্যবসা, পীর-মুরিদী ব্যবসা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি  পেয়েছে। দরিদ্র কিংবা সামর্থবান স্বার্থান্বেষী ও দুর্নীতিবাজ মুরিদের টাকায় পীর ও তাদের সন্তানের শত কোটি টাকার মালিক। ধর্ম ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে এরা বিলাস বহুল জীবন যাপন করছে- যা ইসলামের পরিপন্থী।
অপরদিকে সংবিধান অমান্যকারীরা দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে দেশে ও বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। দুর্নীতিবাজরা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করছে। বিদেশে বিলাস বহুল বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। অনেকেই যৌথ নাগরিক হয়েছে। এরা সম্পদ অর্জন করতে গিয়ে হায়েনায় পরিণত হয়েছে। এরা একাত্তরের জানোয়ার ইয়াহিয়ার প্রকৃত দোসর। দেশে বিদেশে অবস্থানকারী এ সকল হায়েনাদের খতম করা না হলে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা অর্থবহ হবে না। এই সকল দুর্নীতিবাজদের সমুদ্র পিপাসা বন্ধ করতে হবে।
রক্তের সাগর পাড়ি দিয়ে আগুনের পাহাড় ডিঙ্গিয়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে তা কিছু সংখ্যক মানুষরূপী হায়েনা ধ্বংস করে দিবে তা কিছুতেই দেশবাসী মানবে না। মানতে পারে না।
রক্ত¯œাত বাংলাদেশে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষ অতিদ্রুত অতিমাত্রায় ধনী হওয়া সম্ভব। যা এশিয়ায় কোন দেশেই সম্ভব নয়। এই দুর্নীতির কালিমা দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রী-এমপি, মেয়র, গণপ্রতিনিধি, সামরিক-বেসামরিক আমলা,  শিল্পপতি, ব্যাংকার, ঠিকাদার,  রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী, পাতি-ফুতি নেতা, ড্রাইভার, টোকাইসহ অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের অচ্ছাদিত করেছে। যার সুস্পষ্ট প্রমাণ দেশে রয়েছে।
পরিশেষে বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন বাংলাদেশকে এশিয়ার সুইজারল্যান্ড হিসাবে গড়তে হলে কিছু সংখ্যক দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে গোটা জাতিকে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে। তবেই গণতন্ত্র, আইনের শোষণ, মানুষের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ, সকল ক্ষেত্রে সচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাসহ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। প্রতিটি মানুষের মর্যাদা রক্ষা এবং সকল ক্ষেত্রে প্রভুত্বের অবসান হবে। আদর্শহীন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী ও দুর্নীতিবাজদের কবল থেকে জাতি রক্ষা পাবে।
জাতীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর