মেট্রো ডিবির এএসআই রাহেনুলকে কারাগারে প্রেরণ: রিমান্ড আবেদনের শুনানী ৪ নভেম্বর
রংপুর অফিস:
 রংপুর মহানগরীর হারাগাছ থানার ময়নাকুঠি কচুটারীর নবম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষন মামলার প্রধান অভিযুক্ত মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএসআই রাহেনুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। পিবিআই পুলিশ তার রিমান্ডের আবেদন কোর্টে জানালে তার রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য করা হয়েছে ৪ নভেম্বর হারাগাছ চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট। আজ ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধায় এই তথ্য জানান তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের রংপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু বাসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
রংপুর চীফজুডিশিয়াল আদালতের সামনে আজ বিকেল ৫ টায় প্রেসব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, এএসআই রাহেনুলকে রংপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট হারাগাছ আমলি আদালতের বিচারক স্নিগ্ধা রানীর কাছে উপস্থাপন করা হয় এবং সেখানে আমরা অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করি। বিজ্ঞ বিচারক আগামী ৪ নভেম্বর  রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য করেন এবং রাহেনুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এই মামলায় আমরা নিবিড় তদন্ত করছি। কোন কিছুই এতে বাদ যাবে না এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হওয়ার পর চার্জশিট দেয়া হবে।
এর আগে নজর কড়া পুলিশী পাহাড়ায় বিকেল ৪ টা ৩৫ মিনিটে রাহেনুলকে আাদালতে হাজির করে রংপুর পিবিআই পুলিশ। দিনভর সেখানে অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে তাতে পুলিশ বাঁধা দেয়া হয়। এসময় সেখানে হট্রগোল বাঁধে। ছবি তুলতে না দেয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাংবাদিকরা। পরে নীচে এসে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পুলিশ সুপার। ৫ টা ১০ মিনিটে রাহেনুলকে আদালত থেকে প্রিজন ভ্যানে করে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।  
পিবিআই পুলিশ সুপার আবু বাসার মোহাম্মদ  জাকির হোসেন আরও  জানান, বুধবার নির্যাতিতা ওই ছাত্রী জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর আলমের আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে রাজু নামের এক পুলিশ সদস্যের কথা বলেছে। ওই রাজুই হচ্ছে মেট্রো ডিবি পুলিশের এএসআই রাহেনুল ইসলাম। তিনি এই মামলার ২ নং এজহারভূক্ত আসামী। রোববার রাতে মামলার পরপরই রাহেনুলকে আটক করে পুলিশ লাইনে হেফাজতে রাখে মেট্রোপলিটন পুলিশ। আমরা  তাকে বুধবার রাতে পৌনে ১০ টায় সেখান থেকে গ্রেফতার দেখিয়ে আমাদের হেফাজতে নেই।
তিনি আরও বলেন, গতকাল একই আদালতে অপর দুই আসামী আবুল কালাম আজাদ ও বাবুল হোসেন ধর্ষনের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়াও কারাগারে থাকে সুমাইয়া পারভীন মেঘলা ও সম্পা এই গণ ধর্ষনের ঘটনায় সহযোগি আসামী। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা নিবিড় তদন্ত করছি। এজন্য প্রযুক্তি ছাড়াও প্রমানযোগ্য যা যা প্রয়োজন তা আমাদের কাছে অলরেডি এসে গেছে। আরও অধিকতর তদন্ত করছি।
পুলিশ, মামলা ও পারিবারিক সূত্র জানায়, রোববার সকালে পূর্ব সম্পর্কের সূত্র ধরে রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবির এসএসআই রাহেনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৫) নগরীর হারাগাছা থানাধীন ময়নাকুঠি কচুটারী এলাকার আয়নালের নবম শ্রেণি পড়ুয়া কন্যাকে ডেকে নিয়ে এসে ক্যাদারের পুল এলাকার একটি বাড়ির ভাড়াটিয়ার রুমে নিজে ধর্ষন করার পর আরও কয়েক যুবকদের দিয়ে ধর্ষন করায়। এ ঘটনায় মুমুর্ষ অবস্থায় ওই ছাত্রীকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এঘটনায় সুমাইয়া পারভীন মেঘলা (২২) ও অপর সহযোগি সম্পা বেগমকে ঘটনার দিন গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলাটি পিবিআইয়ে হস্তান্তর হওয়ায় সোমবার সন্ধায় ওই দুই গ্রেফতার নারীকে পিবিআইয়ে হস্তান্তর করে পুলিশ। এছাড়াও গত ২৪ অক্টোবর ঘটনার ২ নম্বর আসামী মেট্রোডিবি পুলিশের এসএসআই (পূর্বে হারাগাছ থানায় কর্মরত) রাহেনুল ইসলাম রাজুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার পর আটক করে পুলিশ লাইনে পুলিশের হেফালজতে রাখা হয়। এছাড়াও সোমবার রাতে পিবিআই অভিযান চালিয়ে আরও ২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এক নজরে- এর অন্যান্য খবর