সোহেলকে গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন ও কালো ব্যাজ ধারন
জাহাঙ্গীর আলম শাহীন: লালমনিরহাটের সন্ত্রাসী সোহেলের পরিবারের উত্থান রূপ কথার গল্পকেও হার মানায়। কয়েক বছরে শত কোটি টাকার মালিক সোহেল পরিবার। গ্রেফতার এড়াতে পুরো পরিবার লাপাত্তা হয়ে গেছে। এই সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের দাবিতে আজ ২৯ অক্টোবর জেলা দলিল লেখক সমিতি এক ঘন্টা কর্মবিরতি ও কাল ব্যাচ ধারণ করেছে।
জেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হামিদুল রহমান (৪৯) কে গত ২৭ অক্টোবর সন্ত্রাসী সোহেল তার সাপটানাস্থ বাসার সামনে একটি পেট্রোল পাম্পে তেল নেয়ার সময় কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এই ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
হামলার শিকার হামিদুর বাদি হয়ে সদর থানায় একটি মামলা করেছে। মামলার পর সন্ত্রাসী সোহেল রানার পরিবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার এড়াতে লাপাত্তা হয়ে গেছে। এদিকে এই সন্ত্রাসীকে ধরতে জেলা দলিল লেখক সমিতি মানববন্ধন করেছে। আজ ২৯ অক্টোবর কালোব্যাচ ধারণ করে কাজে যোগ দিয়েছে। তারা সকালে এক ঘন্টা প্রতিকী কর্মবিরতি পালন করেছে। জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক জানান, সন্ত্রাসী সোহেল রানার অত্যাচারে সাপটানার মানুষ অতিষ্ঠ। তার বাসায় নির্যাতনের টর্চার শেল রয়েছে। হামিদুলের ওপর হামলা সুপরিকল্পিত। তিনি সোহেলকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিবেন বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন দলিল লেখক সভাপতি।
॥ কে এই সন্ত্রাসী সোহেল রানা ॥
এলাকাবাসীর তথ্য ও সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে জানা গেছে সোহেল রানা (৩৪) এলাকায় এমন কোন অপরাধ নেই যা সে করেনি। প্রতিবারেই অপরাধ করে অর্থের জোরে রহস্যজনকভাবে সোহেল রক্ষা পায়। তার পিতা এন্তা মিয়া ৮০’র দশকে অন্যের ট্রাক্টর চালিয়ে স্ত্রী, তিন পুত্র ও এক মেয়েকে নিয়ে অতিকষ্টে জীবনযাপন করতেন। পরবর্তীতে এরশাদ সরকার ক্ষমতায় এলে এন্তা মিয়া জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সুদের ব্যবসা, চোরাচালানিসহ নানা অবৈধ ব্যবসা শুরু করেন। কয়েক বছরে ফুঁলে ফেঁপে অর্থ বিত্তের মালিক হয়ে যান।  
বিএনপি ক্ষমতায় এলে সুদের ও অবৈধ ব্যবসায়ী এন্তা মিয়ার সম্রাজ্যের দায়িত্ব নেয় পুত্র সোহেল রানা। এসময় শহরের সাপটানায় গড়ে তুলে টর্চার শেল। সুদের টাকা উত্তোলন, চুরি, ছিনতাই, হুন্ডির টাকা লুটপাটে জড়িয়ে পড়ে। এমন কী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়দের ধরে নির্যাতন করতো সোহেল ও তার গং। সন্ত্রাসী সোহেল তার সা¤্রাজ্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে যুব সমাজকে মাদকে আসক্ত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সদর থানায় সোহেল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
বর্তমানে শহরে তাদের রয়েছে বহুতল বিলাস বহুল বাড়ি, একরকে একর ফসলের জমি, যৌথ মালিকানায় ৫টি ইটের ভাটা। এ সকল ইট ভাটায় লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকিরও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এলে এই সুবিধাবাদী সন্ত্রাসী পরিবারটি সুকৌশলে ক্ষমতাসীনদের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে। তাদের অর্থের বিনিময়ে নিজের সা¤্রাজ্য বিস্তারের কাজে লাগায়।
সাপটানা গ্রামের বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এন্তার মিয়া দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার ভাইয়েরা এখানো শ্রমজীবী। ভিডিও ফুটেজে সন্ত্রাসী সোহেল রাম দা দিয়ে একজনকে কুপিয়ে জখন করছে মানুষ দুরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। পুলিশ আসার কয়েক মিনিট পর সোহেলের  মা ও স্ত্রী এসে তাকে নিয়ে যায়। পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি।
সদর থানার ওসি শাহ আলম জানান, সোহেল রানা ক্রিমিনাল মাইন্ডের। পুলিশ তাকে ধরতে বাসাসহ কয়েকটি জায়গার অভিযান চালিয়েছে। সে জেলার বাহিরে আছে। পুলিশের নজরদারিতে আছে। সোহেলের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।




এক নজরে- এর অন্যান্য খবর