১৯৭২ সালের গেজেট মোতাবেক মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ হয়নি -একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা
বার্তা রিপোর্ট: গত ২৫ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় প্রথম ধাপে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৩৭ জন মুক্তিযোদ্ধা ও ১৯১ জন শহীদ বুদ্ধিজীবি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে।
দলীয়করণ অর্থের বিনিময়ে বানিজ্যকরন ও আত্মীয়করনের মাধ্যমে এই তালিকা অমুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ভুক্ত করা হয়েছে বলে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের পক্ষ থেকে বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে ১৯৭২ সালে ৭আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর শাসন আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নির্ধারন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। ইংরেজীতে উক্ত গেজেট লেখা হয়েছে Freedom Fighters mean any person who had served as a member of any force engaged in the war oF liberation but shall not include members of the Defence Services or the Police or the Civil Armed Forces. বঙ্গানুবাদ করলে মুক্তিযোদ্ধা বলতে যে ব্যক্তি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে নিয়োজিত যে কোন বাহিনীর সশস্ত্র সদস্য হিসেবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন বা দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে প্রতিরক্ষা পরিসেবা, পুলিশ বা সিভিল সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অন্তভূক্ত হবে না। পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা পরিবর্তন করে দলীয়করন, অর্থের বিনিময়ে ( বাণিজ্যকরন) ও আত্মকরনের মাধ্যমে অমুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ভুক্ত করা হয়েছে। এদিকে  সারা দেশব্যাপী ২০০৯ সালে প্রতিটি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই করা হয়। উক্ত যাচাই বাছাইয়ে যাদেরকে ‘গ’ তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তাদেরকেও ২০২১ সালের ১ মার্চ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত যাচাই বাছাই করে অধিকাংশ‘গ’ তালিকাভুক্ত অমুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভুক্ত করা  সুপারিশ হয়েছে। তাছাড়াও কথিত ৩৩-এর প্রমানক এর মাধ্যমে হাজার হাজার অমুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা করা হয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্বাধীনতার ৫০ তম বার্ষিকীতে এসে সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫ শ ৩৭ জন মুক্তিযোদ্ধার আংশিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। অবশিষ্ট তালিকা আগামী ৩০ এপ্রিল প্রকাশ করা হবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। সুতরাং শেষ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত দাঁড়াবে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেনা। একাত্তের মুত্তিযোদ্ধারা মনে করেন, প্রকাশিত তালিকা সর্বাংশে গ্রহন যোগ্য নয়।  প্রকাশিত তালিকার মাঝেও ভুয়া অমুক্তিযোদ্ধা বিদ্যমান। আগামিতে যে তালিকা প্রকাশ করা হবে সে তালিকাতেও ভুয়া অমুক্তিযোদ্ধা রাজাকার থাকবে সেটি অস্বীকার করবার উপায় নেই। ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সরকার কর্তৃক প্রণীত ও গেজেটকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা অনুসরণ না করে, বরঞ্চ অবমাননা করে 'তথাকথিত ৩৩ প্রমাণক'-এর ভিত্তিতে তালিকা প্রণয়ন করার ফলে প্রকাশিত তালিকায় বহুসংখ্যক ভুয়া তথা অমুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে সাধারণভাবে সারা দেশ থেকেই অভিযোগ উঠেছে এবং উঠছে।  এটি সরকারের একটি মনগড়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা। এ তালিকা স্বীকৃত হলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায় সৃষ্টি হবে। সেই কলঙ্কময় ইতিহাসের দায়ভার বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এড়িয়ে যেতে পারবেন বলে, একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধারা মনে করেন না। আগামীদিনে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ হবেন। এসব বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে জীবন সায়াহ্নে উপনীত প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধারা ভুয়ামুক্ত একটি সঠিক ও চূড়ান্ত মুক্তিযোদ্ধা তালিকা দেখে যেতে পারবেন, এমন আশা করা আর আদৌ উচিত হবে কি? ১৯৭১ সালে ২০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে মন্ত্রী পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় মুক্তিযোদ্ধাদের পুর্নবাসন বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা ৮০ হাজার উল্লেখ করা হয়েছিল। (সুত্র:৭১ মুলধারা- লেখক মাইদুল ইসলাম) বীর মুক্তিযোদ্ধা পুর্নবাসনে মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে অর্থ্যাৎ ৫০ বছরে অর্ধ লক্ষাধিক অমুক্তিযোদ্ধা  নাম মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকায় অন্তরভূক্ত হতো না।
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর