গুজব ছড়িয়ে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা বুড়িমারীর ঘটনায় ইউএনও’র ভুমিকা নিয়ে জেলা প্রশাসকের তদন্ত
স্টাফ রিপোর্টার : লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে গত বছরের ২৯ অক্টোবর কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে রংপুরের আবু ইউনুছ মো. সহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা ও মরদেহ পুড়িয়ে দেয়া হয়।
ওই ঘটনায় উপস্থিত প্রাক্তন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কামরুন নাহারের ভূমিকা নিয়ে জেলা প্রশাসক আবু জাফর তদন্ত করেন। বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) বেলা ১১ টায় বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এ তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। তদন্তকালে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাম কৃষ্ণ বর্মণ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবেল রানা উপস্থিত ছিলেন। এরআগে ২১ মার্চ লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর স্বাক্ষরিত একপত্রে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ১৩ জনকে তদন্তকালীন উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ অক্টোবর সন্ধায় বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে রংপুরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক আবু ইউনুছ মো. সহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার লাশ আগুনে পোড়ানো হয়।
হত্যার ঘটনায় জুয়েলের চাচাত ভাই সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে গত বছরের ৩১ অক্টোবর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে পাটগ্রাম থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান আলী বাদি হয়ে একটি এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাইদ নেওয়াজ নিশাত একটিসহ মোট তিনটি মামলা করা হয়। আলোচিত এ তিন মামলায় ১১৪ জন নামীয়সহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ মামলা গুলো তদন্ত করে। মামলায় ৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে আতœসমর্পন করে ৫ জন। এদের মধ্যে ১৭ জনকে আদালতের আদেশে রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লালমনিরহাট ডিবি থানার ওসি ওমর ফারুক এসব তথ্য নিশিচত করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল বলেন, ওই মুহুর্তের উপস্থিত থেকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি ও বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিহত জুয়েল ও তাঁর বন্ধুকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। যথাসময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য না থাকায় এ ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে।  
জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ‘এটি একটি প্রশাসনিক তদন্ত। ওই ঘটনার সময় যারা উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তারা কাছে থেকে ওখানে কাজ করেছেন তাদের বক্তব্য নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত করেছি। যে সমস্ত তথ্য পেয়েছি তা কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হবে।


এক নজরে- এর অন্যান্য খবর