করোনা ভ্যাকসিন নিবন্ধনের সময় জানতে পারে ৭ বছর আগে তার মৃত্যু হয়েছে
বার্তা রিপোর্ট: লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কাকেয়া টেপা গ্রামে জমি-জমা বিরোধের জের ধরে মৃত হরিস্ব চন্দ্র রায় ছেলে লক্ষ্মী কান্ত রায়কে (৫২)  মৃত দেখিয়ে একই এলাকার মনমোহন রায় ভোটার আইডি নম্বর দিয়ে তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাতিল করেছে। করোনা টিকা নিবন্ধনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র ‘অকার্যকর’ দেখালে তিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়  থেকে জানতে পরেন ২০১৪ সালের ৩ জুন তিনি মারা গেছেন। নাম কর্তনের আবেদনে সত্যতা যাচাই না করেই সংশ্লিষ্ট মোগলহাট ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান  ও নির্বাচন কর্মকর্তা স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে নাম কর্তন হয়।  
আদিতমারী উপজেলার বালা পুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক লক্ষ্মী কান্ত রায় জানায়, ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ২০১৯ সালে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। তখন ধারণা করেছি ভুল করে হয়তো কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম আসেনি। এবারো করোনার টিকার নিবন্ধন করার জন্য স্থানীয় কম্পিউটারের দোকানে ইন্টারনেট সমস্যা মনে করে প্রথম দোকানে নিবন্ধন করতে পারিনি। পরে আরও দুইটি কম্পিউটার দোকানে চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পরে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারি আমার মৃত্যু হয়েছে। পরে আমি জীবিত থাকতেই মৃত দেখানোর বিষয়টি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে সমাধান করার জন্য আবেদন দিয়েছি। তারা যদি সমাধান না করে তাহলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করবে বলে তিনি জানান।
ভোটার আইডি কার্ড থেকে নাম কর্তনের আবেদন একই এলাকার মনমোহন রায় কেন করেছে ? এ বিষয় জানতে চাইলে জীবিত শিক্ষক লক্ষ্মী কান্ত রায় বলেন, মন মোহন আমার প্রতিবেশি এবং তার সাথে জমি-জমা সংক্রান্ত একটি মামলা উচ্চ আদালতে চলমান রয়েছে। এই  জের ধরে এ ধরনের কাজ করতে পারে।
নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, স্থানীয় মনমোহন রায় নামের এক ব্যক্তি ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মী কান্তের ভোটার আইডি নম্বর দিয়ে তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করেন। আবেদনে মনমোহন নিজেকে লক্ষ্মী কান্তের ভাই উল্লেখ করে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুলাঘাট ইউনিয়নের ধাইরখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোমিনুর রহমানের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়। যাচাইপত্রে স্বাক্ষর করে মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও তৎকালীন সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফতাব উজ্জামানের অনুমোদনে তালিকা থেকে লক্ষ্মী কান্তের নাম বাতিল হয়। আফতাব উজ্জামান এখন নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।
এ ব্যপারে  চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, লক্ষ্মীকান্ত রায়ের মৃত্যু সংক্রান্ত কোনো কাগজে স্বাক্ষর করেননি। এমন কিছু হয়ে থাকলে তা জাল করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তথ্য যাচাইকারি অপর স্কুল শিক্ষক মোমিনুর রহমান এ ব্যপারে জানান, মনমোহন রায়ের মাধ্যমে অবহিত হয়ে লক্ষ্মী কান্ত রায়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে কর্তনের সুপারিশ করেছি। তাঁরা একই গ্রামের এবং একই সম্প্রাদায়ের হওয়ায় আমি সরল মনে বিশ্বাস করেছি।
বর্তমান লালমনিরহাট সদর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা আজাদুল হেলাল জানান, জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব সমাধান করা হবে।
জাতীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর