ঘোষনার ৪০ ঘন্টা পরেও আসেনি মাইগ্রেশনের অনুমতি: আন্দোলন অব্যাহত
রংপুর অফিস: বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল ঘোষিত মাইগ্রেশন এবং পাস করা শিক্ষার্থীদের ইন্টার্ন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বুধবারও দিনভর বিক্ষোভ করছে রংপুরের নবায়ন রেজিষ্ট্রেশন ও অনুমোদনবিহীন নর্দান মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও একাদশ ব্যাচের শিক্ষর্াীদের ফরম ফিলআপে অতিরিক্ত টাকা নেয়ারও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।
গতকাল  বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায থেকে সন্ধা পর্ন্ত তারা কলেজ ক্যাম্পাসে একত্রিত হয়ে  বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, বিএমডিসির প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার যে ঘোষণা দিয়েছেন তারা সেটির লিখিত নির্দেশনা এবং দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু  দেখতে চান।  যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের এই দাবি পূরণ না হবে  যতক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
 ধারাবাহিক আন্দোলনের  ১১ তম দিনে মঙ্গলবার  রংপুর সফররত বিএমডিসির প্রেসিডেন্ট ডঃ শহীদুল্লাহ  পাস করা শিক্ষার্থীদের এবং অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের  মাইগ্রেশন করার প্রক্রিয়া আজকের মধ্যেই শুরু হওয়ার ঘোষণা দেন। ঘোষণার ৬ ঘন্টা পর মঙ্গলবার সন্ধায় ইন্টার্ন করার অনুমতির একটি চিঠি বিএমডিসি থেকে দেয়া হয়। সেখানে রংপুর কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ ও প্রাইম মেডিক্যালে তাদের ইন্টার্ করার কথা বলা হয়। কিন্তু ঘোষনার ৪০ ঘন্টা পরেও বুধবার সন্ধ্যা পর্ন্ত মাইগ্রেশন সংক্রান্ত কোন লিখিত নিদের্শনা আশসনি। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ছাত্র-ছাত্রীরা জানিয়েছেন, মাইগ্রেশনের ঘোষণা বাস্তবায়ন না হলে তারা মাঠ ছাড়বেন না। 
এদিকে একাদশ ব্যাচে ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত ২ হাজার ৫০০ করে টাকা নেয়ারও অভিযোগ তুলেছেন তারা। এই টাকা নেয়া হলেও কোন ডকুমেন্ট কলেজ দেয়নি বলেও অভিযোগ তাদের।  তারা জানিয়েছেন অন্য কলেজে ৬ হাজার ৮০০ টাকা নেয়া হলেও এই কলেজে নেয়া হচ্ছে ৯ হাজার ৮০০। আবার সেখান থেকে বাড়িয়ে আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ১ লাখ ২ হাজার টাকা  প্রতিষ্ঠানটি বাড়তি নিচ্ছে। এটা আমরা দিতে চাই না।
এ ব্যপারে কলেজের অফিস সহকারি লুৎফর রহমান জানান, অন্যান্য কলেজ কেন কম নিচ্ছে না দেখার বিষয় নয়। যেহেতু পরিবেশের কারণে এখানে কেন্দ্র নেই। কেন্দ্র করা হয়েছে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ। সেখানে প্রতি ছাত্র প্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হবে। সেকারণে আমরা এটা নিচ্ছি।
প্রসঙ্গত:২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও শর্ত পুর্ণ না করায় কলেজটির একাডেমিক নবায়ন ও বিএমডিসির রেজিষ্ট্রেশন বাতিল হয় ১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন বাতিল হয় পরের বছর। এরপরই চতুরতার আশ্রয় নিয়ে হাইকোর্টে রিট করে পত্রিকায় অনুমোদন থাকার মিথ্যা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গত শেষন পর্যন্ত ভর্তি করায় কলেজটি। এভাবে প্রতিষ্ঠানটি পকেটস্থ করে শত কোটি টাকার ওপরে বলে জানায় শিক্ষার্থীরা।
এক নজরে- এর অন্যান্য খবর