রংপুরে ৬৪বছর ধরে চলছে নগরীর সংস্কারহীন রংপুর সরকারি হাঁস-মুরগি খামার
রংপুর অফিস: রংপুর মহানগরীর লালবাগে দেশী জাতরে হাঁস-মুরগি পালনে উদ্ধুদ্ধ  করতে খামার ত্রলাকায় ১৯৫৭ সালে স্থাপন করা হয় সরকারি হাঁস-মুরগি খামার। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৬৪ বছর পেরিয়ে গেলেও খামারের শেডসহ অনন্যান্য  ভবনে হয়নি সংস্কার। খামারের শেডসহ অনন্যান্য  ভবনে দেখা দিয়েছে প্রাচীনের জীর্নতা। অনেক দেয়ালে প্লাষ্টার খসে পড়েছে। টিনসেড খামারে মুসুল ধারের বৃষ্টিতে পানি পড়ে। ত্রতে বৃষ্টি অথবা বন্যার সময় শেডে পানি ঢুকে প্রতি বছর দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। সবশেষ গতবছর সেপ্টেম্বরের বন্যায় শেডে পানি ঢুকে প্রায় দুই হাজার ডিম দেয়া মুরগির মৃত্যু হয়।
হাঁস-মুরগি খামার সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে খামারটি পরিচালিত হতো । ১৯৮৬-৮৭ সাল থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে খামারটি পরিচালিত হচ্ছে। নগরীর প্রান কেন্দ্রে ১০ ত্রকর জমির ওপর নির্মিত এই খামারে ১৯ টি শেড ঘড় রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ত্ররই মধ্যে পাঁচটি শেড পরিত্যাক্ত হয়ে গেছে। বাকি শেড গুলোর অবস্থাও বড়ই নাজুক।বর্তমানে ফাওমি জাতের লেয়ার ত্রবং আর আই আর জাতের মোরগের ক্রসের মাধ্যমে সোনালী মুরগী উৎপাদন করা হচ্ছে। সাড়ে পাঁচ মাস বয়স থেকে সোনালী মুরগী ডিম দেওয়া শুরু করে। ত্রক টি মুরগি বছরে ১৮০-২২০টি ডিম দেয় । বর্তমানে পর্যাপ্ত শেড না থাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখতে হচ্ছে মুরগি গুলোকে। পাশাপাশি খামারে কর্মরত কর্মকর্তা -কর্মচারীরারও পুরনো ভবনে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সরজমিন দেখা গেছে , মুরগি রাখার ১৯টি শেডের মধ্যে পাঁচটি শেড ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অনেক আগে। ভাল শেডগুলোও  পুরনো জরাজীর্ণ হওয়ায় মুরগির বায়ো সিকিউরিটি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে ।  এছাড়া শেডগুলো অনেক আগে নির্মিত হওয়ায় শেডের মেঝে ত্রবং সামনের ফাঁকা মাঠের জমির উচ্চতা প্রায় সমান । পয়ঃনিস্কাশনের ড্রেন না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে সৃষ্ট বন্যায় কয়েকটি শেডের প্রায় আড়াই হাজার মুরগি পানিতে ডুবে মারা যায়। বন্যা -পরবর্তী  সময় খামারের অবস্থা আরো খারাপ  হয়েছে। অনেক শেডের নিচে ইঁদুর বাসা বেঁধেছে ।  এছাড়া কোথাও কোথাও সীমানা প্রাচীর অনকে নিচু হওয়ায় প্রায়ই বহিরাগতদের  অনাকাঙ্খিত  প্রবেশ ঘটছে। খামারের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্মিত ভবনটিও অনেক পুরনো হওয়ায় ছাদ ত্রবং দেয়ালের দেয়ালের প্লাষ্টর খসে পড়েছে ।
রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড  ইন্ড্রাষ্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট মোস্থফা সোহরাব  চৌধুরী  টিটু বলেন, রংপুরের এই খামারে দেশীয় মুরগির জাত  সংরক্ষণের মাধ্যমে আমিষের চাহিদা পূরণে খামারটি নিরলস কাজ করছে। কিন্তু এর অবকাঠামো সেই পাকিস্থান আমলে তৈরি। এটির আধুনিকায়ন জরুরী হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন  দ্রুত এর ডিম ও বাচ্চা  উৎপাদনের ক্ষমতা বৃিদ্ধ করা হলে অনেক কর্মহীন যুবকের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।পাশাশাশি রংপুর অঞ্চলে পড়বে অর্থনৈতিক ইতিবাচক প্রভাব।এই অঞ্চলের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে রংপুরের মুরগী খামার বাড়ী বিশেষ অবদান রাখতে পারে।
রংপুর মহানগরীর লালবাগে দেশী জাতরে হাঁস-মুরগি খামারের সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ ড.মোঃ নাজমুর হুদা সাংবাদিকদের বলেন, সংস্কার না করায় এই খামারের ফাঁকা মাঠও মুগি পালনের সেডের উচ্চতাপ্রায় সমান হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টির পানি মুগি পালনের সেডে ঢুকে পড়ে।একারনে বর্ষা মৌসুমে অনেক মুরগী মারা যায়।মুরগি পালনের সেডের অবকাঠামো সংস্বারের জণ্য উদ্ধুতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অতি দ্রুত খামারটি আধুনিকায়নের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই আধুনিকায়নের জন্য স্থানীয় নির্বাহী প্রোকৌশল অধিদপ্তর (এল জিইডির) মাধ্যমেপ্রকল্প স্কিম তৈরী করে প্রানী সম্পদ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শাহাজালাল খন্দকার বলেন, নগরীর মুরগি খামারের পালনের সেডের অবকাঠামো সংস্বারের জণ্য উদ্ধুতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। অতি দ্রুত খামারটি আধুনিকায়নের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই আধুনিকায়নের জন্য স্থানীয় নির্বাহী প্রোকৌশল অধিদপ্তর (এল জিইডির) মাধ্যমেপ্রকল্প স্কিম তৈরী করে প্রানী সম্পদ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পটি একনেকের সভায় পাশ হলে তবেই আধুনিকায়নের কাজ শুরু হবে।

 
এক নজরে- এর অন্যান্য খবর