লালমনিরহাট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১ যুগ পরেও স্পোকেন ইংলিশ ও কোরিয়ান ভাষা কোর্স চালু হয়নি ॥ নানাবিধ সমস্যা
বার্তা রিপোটার: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রনালয়ের আওতায়  দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থার লক্ষ্যে বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য ২০০৬ সালে শহরের উপকন্ঠে হাড়িভাঙ্গা এলাকায় ৩ একর জমির উপর ১১ কোটি ৩৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ব্যয়ে লালমনিরহাট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। ২০০৭ সালে ১৮ আগষ্ট কম্পিউটার অপারেশন ট্রেড চালুর মাধ্যমে ক্লাস উদ্বোধন করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটিতে ৬ মাসব্যাপী কম্পিউটার অপারেশন ট্রেড, ইলেকট্রিক্যাল হাউস ওয়ারিং ইলেকট্রনিক্স ট্রেড, অটোক্যাড ট্রেড, আরএসি ট্রেড, গামেন্টস ট্রেড। সর্ট কোর্স (৪মাস) মধ্যে রয়েছে, ইলেকট্রিক্যাল ইন্সটলেশন এন্ড মেইনটেন্যান্স, গ্রাফিক্স ডিজাইন ট্রেড, মেশনারী ট্রেড, ওয়েন্ডিং এন্ড ফেব্রিকেশন ট্রেড, আরএসি ট্রেড, মোটর ড্রাইভিং উইথ বেসিক মেইনটেন্যান্স ট্রেড। স্পেশাল কোর্স রয়েছে, সুইং মেশিন অপারেটর (গামেন্টস) ট্রেড, স্পোকেন ইংলিশ ৩ মাস ব্যাপী ও ২ মাসব্যাপী কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা কোর্স।
তাছাড়াও ২ বছরব্যাপী এসএসসি (ভকেশনাল) কোর্স সহ অন্যান্য কোর্স রয়েছে। ২০০৮ সালে ভকেশনাল কোর্স চালু হয়। ভর্তিকৃত প্রশিক্ষনার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৬৭ জন, ২০২০ সাল পর্যন্ত উত্তীর্ন হয়েছে ৮০৭ জন ড্রফ আউট হয়েছে ৭৩১জন। চাকুরী পেয়েছে ২৭৫ জন।
লালমনিরহাট কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রায় শতভাগ প্রশিক্ষনার্থী চাকুরী পেয়েছে। দেশে এবং বিদেশে চাকুরীর জন্য ইংরেজী ও কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা করা অতীব জরুরী। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালু হওয়ার ১ যুগ পরেও এখানে ইংরেজী ও কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা কোর্স চালু হয়নি। এ ব্যাপারে বর্তমান অধ্যক্ষ প্রকৌশলী দেলোয়ার উদ্দিন আহমেদ জানান, এই কোর্স দু’টির জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। তবে শিক্ষার্থী পেলেই কোর্স চালু করা হবে।
তাছাড়া এই প্রতিষ্ঠানটিতে মঞ্জুরীকৃত পদে সংখ্যা ৮১টি, তম্মধ্যে পূরণকৃত পদ ৪৭টি, শূণ্যপদ রয়েছে ৩৪টি। উপাধ্যক্ষ আনোয়ারুল আজিম ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে অনুপস্থিত রয়েছে সুদীর্ঘ ৫ বছরও পরেও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেন নি। ফলে এখানে নতুন কেউকে পদায়ন করা যাচ্ছে না। হয়তবা যুগের পর যুগ ধরে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপাধ্যক্ষের পদটি শূণ্য থাকবে।
লালমনিরহাট কারিগরী প্রশিক্সণ কেন্দ্রে ৬টি চীফ ইন্সট্রক্টের, ২টি সিনিয়র শিক্ষক, ৯টি সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর ৪টি ইন্সট্রাক্টর, লাইব্রেরিয়ার ষ্টোর কীপার, হিসাব রক্ষক, ড্রাইভার ও ৫টি ওর্য়াকসপ এটেনডেন্ট এর পদ শূণ্য রয়েছে। ফলে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে প্রশিক্ষণার্থীরা মান সম্মত প্রশিক্ষণ পাচ্ছে না। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে ২০০জন ছাত্রের জন্য ছাত্রবাস ও ডরমেটরি নির্মান, ১০০জন ছাত্রীর ছাত্রীনিবাস নির্মান, মালামাল রাখার জন্য একটি গোডাউন নির্মান, মসজিদ নির্মাণ ও বাউন্ডারী ওয়াল ১০ফিট উচু করণ প্রয়োজন।
উল্লেখ, লালমনিরহাট জেলাটি পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা প্রায় ১শত কিলোমিটার। দূর-দূরন্ত হওয়া বেকার যুবক ও যুব মহিলারা এখানে প্রশিক্ষণ নিতে পারে না।তাই ছাত্রাবাস, ডরমেটরি ও ছাত্রী নিবাস নির্মান অতিবো জরুরি। এই সকল নির্মান সম্পন্ন করার জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে প্রচুর ফাকা জায়গা রয়েছে।   
শিক্ষা বার্তা- এর অন্যান্য খবর