লালমনিরহাট বার্তা
আদিতমারীতে জমি নিয়ে বিরোধে বাড়িঘর ভাংচুর ও গাছপালা কেটে ফেলার অভিযোগ
স্টাফ রিপোটার, আদিতমারী : May 31, 2021, 7:58:12 PM সময়ে

আদিতমারীতে জমি নিয়ে বিরোধে বাড়িঘর ভাংচুর ও গাছপালা কেটে ফেলার অভিযোগ

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে জোর পূর্বক জমিতে প্রবেশ করে বাড়িঘর ভাংচুর ও মূল্যবান গাছপালা কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের দক্ষিণবালাপাড়া গ্রামে ঘটেছে। 


এ ঘটনায় ওই গ্রামের দুলাল মিয়া বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-২, লালমনিরহাটে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে আদিতমারী থানা পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


জানাগেছে, উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামের মৃত হাফেজ উদ্দিনের ছেলে দুলাল মিয়া ওই জমিতে বৃদ্ধ মা সহ পরিবারের লোকজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। এছাড়া ওই জমি নিয়ে উভয় পক্ষের আদালতে মামলা চলমানও রয়েছে। কিন্তু প্রতিপক্ষের লোকজন আফছার আলী (৬০),তাহাজুল (৩০), আখতার হোসেন (৩৫), গফফার (৩২) সহ আকস্মিকভাবে বসতভিটায় প্রবেশ করে বাড়ীঘর ভাংচুর করেন। এসময় তারা সংঘবদ্ধভাবে বসতভিটায় থাকা ২টি আমগাছ,১০টি সুপারির গাছ,৮টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে পাশ্ববর্তী পুকুরে ফেলে দেয়। যার আনুমানিক মূল্য ৭৫ হাজার টাকা বলে বাদী দুলাল মিয়া দাবী করেন। শুধু তাই নয়,আসামী পক্ষের লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় জোরপূর্বক আনিচা খাতুনকে শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্য  শাড়ি টেনে মাটিতে ফেলান।


এদিকে দুলাল মিয়ার অভিযোগটির তদন্তের দায়িত্বভার দেয়া হয় আদিতমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমারকে। সরেজিমনে গিয়ে গাছ কেটে পুকুরে রাখা ও বাড়িঘর ভাংচুরের সত্যতা পেলেও তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি এসব উল্লেখ করেননি। অভিযোগ উঠেছে এসআই প্রদীপ আসামী পক্ষের লোকজনের সাথে আতাত করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মনগড়া একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন। যা বাদী দুলু মিয়া প্রতিবেদন মনগড়া বলে দাবী করেছেন। এসময় তিনি বলেন,পুলিশের তদন্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে তিনি কোর্টে নারাজি করবেন।

আদিতমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার বলেন, তাদের জমাজমি নিয়ে উভয় পক্ষের আদালতে মামলা রয়েছে। তিনি আসামীর সাথে আতাতের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, গাছপালা কেটে নিলেও তা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

আদিতমারী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন,পুলিশ সরেজমিনে তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন,বাদী নারাজি করলে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে দেয়া হবে।