লালমনিরহাট বার্তা
লালমনিরহাটে সার সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয়
বার্তা রিপোর্ট | ২৮ নভেম্বর, ২০২২ ৭:২২ AM
লালমনিরহাটে সার সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয়

“ভূট্টায় ভরা সবার ঘর, লালমনিরহাট স্বণির্ভর” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে জেলাকে ভ‚ট্টা ব্রাডিং করা হয়। ভ‚ট্টা চাষের মৌসুম শুরুতেই সারের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। জেলায় সার সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় হওয়ার দরুণ এমওপি সার উধাও সেই সাথে অতিরিক্ত মুল্য ছাড়া পাওয়া যাচ্ছে না পটাশ-টিএসপি সার। ভুট্টা ও আলু চাষীরা সময়মত নায্য দামে সার না পেলে জেলার অর্থনৈক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার অর্থনৈতিক আশঙ্কা রয়েছে।

অতিরিক্ত মূল্য ছাড়া কোন ভাবেই সার বিক্রি করছে না ডিলাররা। আবার অনেক ডিলার অধিক লাভের আশায় বিসিআইসি বাফা গোডাউন থেকে সার উত্তোলন করলেও ইউনিয়নে না নিয়ে মজুদ করছে। সার না পেয়ে রবি ফসলসহ ভুট্টা ও আলু চাষাবাদে জন্য আগ্রহী চাষাবাদে আগ্রহী কৃষকারা হতাশাগ্রস্থ হচ্ছে।

এই সিন্ডিকেটের বিষয়ে তদন্ত করে আইনের আওতায় নেয়ার জোর দাবি করেছেন কৃষক ও কৃষক নেতারা। তারা মনে করেন জেলা প্রশাসনের প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করলে সঠিক সময়ে নায্য দামে সার পাবে কৃষকরা।

ট্রাকে লোড সারের বস্তা
ট্রাকে লোড সারের বস্তা

খুনিয়াগাছ ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার জানান, টিএসপি সার ১শত টাকা বস্তার পরিবর্তে ক্রয় করছে ১৬শত টাকায় ক্রয় করেছেন। এমওপি ৭৫০ টাকার মূল্যের পরিবর্তে ৯শত টাকা। অতিরিক্ত টাকা ছাড়া মিলছে না কোন সার। ইউরিয়া সার সঠিক দামে বিক্রি করছে বাকী সকল সার অতিরিক্ত টাকা ছাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে চর চিনাতুলি এলাকার কৃষক সগির মিয়া জানান অতিরিক্ত দামের প্রতিবাদ করলে কৃষকের নিকট সার বিক্রি করতে না বলে হুমকি দিচ্ছে ডিলাররা। এই চিত্র কেবলমাত্র খুনিয়াগাছ অঞ্চলেই নয়। জেলার বিভিন্ন প্রতন্ত অঞ্চল ঘুরে একই দৃশ্য দেখা গেছে।

ভোটমারীর শোলমারী কৃষক ওলে মিয়া, তাজুল, লিটন মিয়াসহ অনেকে জানান, রবি মৌসুমে ৩ মাস সার ব্যাবসায়ীরা প্রতিবছর বাড়তি টাকা ছাড়া সার দেয় না আমেদেকে। আদিতমারীর কৃষক তবারক আলী জানান, বিসিআইসি সার ডিলাররা অধিক মুনাফার জন্য ইউনিয়নে সার না এনে আদিতমারীর তামাক কোম্পানীর কাছে বিক্রি করে। ডিলার সার বিক্রি করে তামার কোম্পানীর কাছে আর কৃষক সার চাইলে বলে বরাদ্দ নাই। আর বাড়তি টাকা দিলে সার পাওয়া যায়, না দিলে সার নাই।

রইচব্যাগের কৃষক তালেব মিয়ার অভিযোগ অধিক লাভের আশায় ডিলাররা তামাক কোম্পানীর নিকট সার বিক্রি করছে। সারপুকুরের কৃষক ফেদৌস আলী জানান, গোডাউন থেকে উত্তোলনকৃত সার ট্রাক ইউনিয়নে না নিয়ে শহরের গোডাউনে মজুদ রাখছে কতিপয় ডিলার।

জেলার পাটগ্রাম,হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার কৃষকরা সঠিক সময়ে এমওপি (পটাশ) সার না পেলে জমিতে ফলন কমে যাওয়ার আশংকা করছে কৃষকরা। কৃষি বিভাগ থেকে বিসিআইসি ডিলারের দোকানে সার বিক্রির জন্য উপ-সহকারী কর্মকতা কাগজে কলমে থাকালেও বাস্তবে ২/৩ টি ইউনিয়নে চালু থাকলেও বাকী ইউনিয়নে ডিলারের ম্যানেজাররা খেয়াল খুশিমত দামে বিক্রি করছে সার।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট জেলায় কৃষি কার্ডধারী কৃষকের সংখ্যা ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮ জন। তবে কার্ড এর বাহিরেও কৃষক রয়েছে অনেক কৃষক। অক্টোবর মাসে ৫২ জন বিসিআইসি ডিলার কে ৭শত ৭৪ মেঃ টন এমওপি (পটাশ) সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নভেম্বর মাসের জন্য বাড়িয়ে ১ হাজার ১শত ২৭ মেঃটন এমওপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের পোড়া বটেরতল এলাকায় গত ২৯ অক্টোবর চোরাই সার মজুদ গোডাউনে অভিযান চালায় নিবার্হী ম্যাজিট্রেট। অভিযান চালিয়ে এমওপি (পটাশ) সার সহ প্রায় ৫শত ২৫ বস্তার মজুদ চোরাই সার উদ্ধার করে। ওই সার গুলো পাচারের উদ্যেশে বিসিআইসি ডিলার আদিতমারীর মেসার্স শওকত এন্টারপ্রাইজের লোকজন মজুদ রাখে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সদর থানার পুলিশ সার উদ্ধার করে দুই জনের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২৫ (১) ধারায় মামলা করে। উদ্ধারকৃত এমওপি (পটাশ)সহ অন্যান্য সার সদর থানার রয়েছে। মামলা নং ৪৮ তারিখ ২৯/১০/২০২২।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পচিালক জানান, মজুদ রাখার কোন উপায় নেই। প্রতিটি ডিলারের নিকট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতার মাধ্যমে সার বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে । ওদিকে বিসিআইসি ডিলার সমিতির সাধারন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন দুলু জানান, মজুদ রাখলে তার বিরুদ্ধে সমিতিও নিবে ব্যবস্থা ।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, মজুদ সার রাখলে ভ্রামান্যমান আদালতের মাধ্যমে ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত মাসে মজুদ সার উদ্ধার করে মামলা দেওয়া হয়েছে। তবে কেউ এ থেকে শিক্ষা না নিলে আরো কঠোর ব্যবস্থাসহ লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

উল্লেখ্য, কৃষকের অভিযোগে জানা গেছে, বিসিসিআই ডিলারেরা সার বিক্রয়ের মেমো প্রদর্শন করেন না। ফলে নিজের খেয়াল খুশী মতো করে সার বিক্রি করে। সরকারী বিধানের প্রতি বৃদ্ধাংগুলি প্রদর্শন পূর্বক সার ব্যবসায়ীরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর