লালমনিরহাট বার্তা
সুজন-এর ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা
বার্তা অনলাইন ডেস্কঃ | ১৩ নভেম্বর, ২০২১ ৩:০২ PM
সুজন-এর ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা
১২ নভেম্বর ২০২১ ছিল নাগরিক সংগঠন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে আজ ১৩ নভেম্বর, সকাল ১০:৩০ টায় 'বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের চেতনা ধারণ করি, গণতান্ত্রিক-মানবিক বাংলাদেশ গড়ি' শীর্ষক একটি অনলাইন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সুজন-এর কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য বিচারপতি মোঃ আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে এবং সুজন সম্পাদক জনাব বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় এই আলোচনায় প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। সভায় আলোচনায় অংশ নেন- সুজন-এর সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, প্রফেসর সিকান্দর খান, প্রকৌশলী মুসবাহ আলীম, ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, শফিউদ্দিন আহমেদ সহ সুজন জাতীয় কমিটির সদস্য সঞ্জীব দ্রং ও মিজানুর রহমান এফসিএ প্রমুখ। স্থানীয় সুজন নেতৃবৃন্দের মধ্যে যোগ দিয়েছিলেন লালমনিরহাট জেলা কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা গেরিলা লিডার ড. এস. এম. শফিকুল ইসলাম কানু, ফিরোজপুর জেলা কমিটির সভাপতি মনিরুজ্জামান নাসিম আলী, সুজন ঝালকাঠি জেলা কমিটির সভাপতি ইলিয়াস শিকদার ফরহাদ, সুজন ময়মনসিংহ মহানগর কমিটির সভাপতি এডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন, জামালপুর জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তারিকুল ফেরদৌস, সুজন সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সম্পাদক শেখ হেদায়েতুল ইসলাম, ঝালকাঠি জেলা কমিটির সম্পাদক মঈন তালুকদার, সুজন সিলেট জেলা কমিটির সম্পাদক এডভোকেট শাহ সাহেদা আখতার, ফেনী জেলা কমিটির স¤পাদক শাহাদাত হোসেন, কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির স¤পাদক প্রদীপ কুমার সরকার, নোয়াখালী জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত স¤পাদক আবু নাছের মঞ্জুসহ উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সুজন নেতৃবৃন্দ।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সুজন একটি আস্থাশীল সংগঠন। কোনো দাতা সংস্থার সহায়তা ছাড়াই স¤পূর্ণ সেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই সংগঠনটি দাঁড়িয়েছে। সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে সুজন আজকে দেশে বিদেশে পরিচিত একটি সংগঠন। আমরা জাতি হিসেবে অনেকগুলো সঙ্কটের মুখোমুখি, এগুলো থেকে উত্তরণের জন্য আমরা কাজ করছি। পুরো সমাজ আজ বিস্ফোরণোন্মুখ এক বারুদের ওপর এসে দাঁড়িয়েছে, যার উৎস হলো দল-মত-পেশা-নারী-পুরুষ-বয়স নির্বিশেষে আমাদের জনগোষ্ঠীর এক বিরাট অংশের মধ্যে ক্রমাগতভাবে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িকতা, অসহনশীলতা ও ঘৃণার মানসিকতা। পুরো জাতি যে বারুদের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, ভবিষ্যতে যেকোনো দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আবারও জ্বলন্ত দেশলাইয়ের কাঠি, এমনকি একের পর এক অসংখ্য জ্বলন্ত দেশলাইয়ের কাঠির ওপর ছুড়ে দিতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কর্তৃপক্ষের পক্ষে সম্ভব না–ও হতে পারে। প্রত্যেকের অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।
দিলীপ কুমার সরকার বলেন, একটি অসা¤প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক-শোষণমুক্ত-আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মদানসহ অনেক ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হলেও, জন্মের প্রায় অর্ধশতক পরেও আমাদের সেই স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গিয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমাদের সমাজ আজ বৈচিত্রতাকে ধারণ করতে পারছে না। কয়েকদিন আগেই হিন্দু স¤প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব মা¬ন হলো সা¤প্রদায়িক হামলায়। হিন্দু স¤প্রদায়সহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর বিভিন্ন অজুহাতে হামলা-নির্যাতনের ধারাবাহিকভাবে ঘটেই চলছে। এই ধরনের ঘটনার মূল কারণ রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান ধর্মের ব্যবহার এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি।
রুবায়েত ফেরদৌস বলেন, সুজনের মত প্রতিষ্ঠান না থাকলে যে অবস্থায় আছে তার চেয়ে খারাপ হোত, খারাপ অবস্থা ঠেকিয়ে রাখা গেছে এটাই বড় অর্জন। একজন দার্শনিক বলছেন, দুর্দিনে টিকে থাকা সুদিনের বিল্পবের সমান। যেখানেই আদিবাসী, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে আমি সব জায়গাতেই যাওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে সমস্যার গভীরতা অনেক বেশি, কেবল নির্বাচন দিয়ে, কেবল সুশাসন দিয়ে এটাকে মেরামত করা যাবে না। সমাজের কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। পুলিশ দিয়ে কেন মন্দির পাহারা দিতে হবে? শাল−াতে মামুনুল হকের ওয়াজ-মাহফিল আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যুব লীগ-ছাত্র লীগের কর্মীরা। কাজেই আমার মনে হয় সমাজের গভীরে ক্ষত হয়ে গেছে। মাঝিপাড়ার ঘটনা একাত্তরকে হার মানিয়ে যায়, সেখানে ধানক্ষেতের মধ্যে মায়েরা সারারাত ধরে বাচ্চা কোলে নিয়ে ছিলেন, ধান বাচ্চাদের মুখে লেগে কাঁদছিল আর মায়েরা মুখ চেপে ধরে রাখে; শব্দ শুনে যদি হামলা বাড়িয়ে দেয়! এই বাংলাদেশ কী আমরা চেয়েছিলাম! বাংলাদেশের সমাজ মৌলিকভাবে পরিবর্তন হয়ে গেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামি ২০ বছরের মধ্যে এটা কাবুলের মতো পরিস্থিতি হবে।
জাকির হোসেন বলেন, সমাজের মানুষের মধ্যে সংখ্যাগুরুর শ্রেষ্ঠত্বের মনোভাব প্রথিত হচ্ছে যার ফলে আমরা বৈচিত্রকে অস্বীকার করছি। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে। (প্রেস বিজ্ঞ্প্তি)
এই বিভাগের আরও খবর