লালমনিরহাট বার্তা
রংপুরে কিশোরী হত্যার অভিযোগে আসামী নাহিদ হাসানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডের আদেশ
রংপুর অফিসঃ | ৭ আগস্ট, ২০২২ ১২:২৬ PM
রংপুরে কিশোরী হত্যার অভিযোগে আসামী নাহিদ হাসানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডের আদেশ
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার জলসিংপুর বাউড়া কোর্ট গ্রামে ১৬ বছর বয়সী কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে একটি ভুট্টা ক্ষেতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করার অভিযোগে আসামী নাহিদ হাসানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। আজ রোববার বিকেলে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১ এর বিচারক তারিক হোসেন এ রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষনার সময় আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলো। এর পর পরেই তাকে কঠোর পুলিশী নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতের হাজত খানায় নেয়া হয়। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরনে জানা গেছে, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ডলসিংপুর বাউড়া কোর্ট গ্রামের মোতালেব হোসেনের কিশোরী কন্যার সাথে একই গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে নাহিদ হাসান প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে তারা শারীরীক সম্পর্ক স্থাপন করে এতে কিশোরী মেয়েটি ৪ মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হবার পর কিশোরী মেয়েটিকে তার স্বজনরা নাহিদ হাসানকে বিয়ে করার জন্য জানালে সে বিয়ে করতে অস্বিকৃতি জানায় এবং নানান টালবাহানা শুরু করে। এরই ধারাবহিকতায় ২০২১ সালের ২২ এপ্রিল তারিখে আসামী নাহিদ হাসান কিশোরী মেয়েটিকে মোবাইল ফোনে ডেকে আনে। এরপর বাড়ির অদুরে একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে মেয়েটির পড়নের ওড়না তার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে চলে যায়। দুদিন পর নিহত মেয়েটির লাশ ভুট্টা ক্ষেতে দেখতে পেয়ে এলাকাবাসি মিঠাপুকুর থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত মেয়েটির বাবা মতলুব হোসেন বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় কাউকেই আসামী করা হয়নি। পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামী নাহিদ হাসানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। এরপর আসামী আদালতে ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে। মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে বিজ্ঞ বিচারক আসামী নাহিদ হাসানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর আদেশ দিয়ে রায় প্রদান করেন।
সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজিবী অতিরিক্ত পিপি নয়নুর রহমান টফি এ্যাডভোকেট জানান আমরা বাদী পক্ষে মামলাটি সন্দেহাতীত ভাবে প্রমান করতে সক্ষম হয়েছি। আসামী যে অপরাধ করেছে এ জন্য সর্ব্বচ্য শাস্তি আশা করেলিাম আমরা বিচারক তাই দিয়েছে এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ্টি প্রকাশ করছে।
আসামী পক্ষের আইনজিবী আব্দুল হক প্রমানিক বলেন আমরা ন্যায় বিচার পাইনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপীল দায়ের করবো।
এই বিভাগের আরও খবর