লালমনিরহাট বার্তা
এডিটার'স মেইলবক্স: বসুন্ধরার এমডি
বার্তা ডেস্কঃ : May 1, 2021, 8:22:28 PM সময়ে

এডিটার'স মেইলবক্স: বসুন্ধরার এমডি

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে যে বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রবল আলোচনা হচ্ছে, বলতে পারেন বিতর্কের ঝড় বয়ে যাচ্ছে, তা হল ঢাকার গুলশানে একজন কলেজ ছাত্রীর অপমৃত্যু এবং তার কথিত আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে শিল্পপতি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা। সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান: তবে সে ব্যাপারে খুব আশাবাদী নন মাসুম বিল্লাহ, যিনি ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র:যাদের অঢেল টাকা পয়সা আছে তারাই দেখা যায় দেশে একটা কুকীর্তি করে নিজের প্রাইভেট জেটে করে দেশ ত্যাগ করে। বেশ কিছু দিন আগেও আমরা দেখলাম এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও অতিরিক্ত এমডিকে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামী শিকদার গ্রুপ-এর এমডি রন হক শিকদার ও তার ভাই দিপু হক শিকদার দেশ থেকে পালিয়েছে। বড় ভাই দেশে ফেরার পর তাকে গ্রেফতার করা হল, কিন্তু আদালতে জামিনও পেয়ে গেল। অর্থ বৈভব এর কাছে যদি আইন এর প্রয়োগ দুর্বল হয়, তবে আইন সবার জন্য সমান সেটা কেন বলা হয়?' আইন তো সবার জন্য সমানই হবার কথা মি. বিল্লাহ। কিন্তু হের-ফের হয় আইনের প্রয়োগ নিয়ে, বা ঘটনা তদন্তের সময়। তদন্ত যদি সঠিক না হয় বা আইজীবীরা যদি মামলা ঠিক ভাবে না সাজান, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পার পেয়ে যেতে পারেন। শিকদার ভাইদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করা হলেও, তারা যেভাবে দেশ ছেড়ে চলে গেলেন, তা দেখে অনেকে ভাবতেই পারেন যে আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা হয়েছে। বসুন্ধরার এমডির ক্ষেত্রে তাই হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে 'আত্মহত্যায় প্ররোচনা' দেবার মামলা হওয়ার পর তার বিদেশ যাত্রার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। কিন্তু পুলিশ এখনও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আর্থিক খাতের বহু কেলেঙ্কারির হোতা পি কে হালদারের ক্ষেত্রেও এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগেই সে দেশ ত্যাগ করেছিল। এখন দেখার বিষয় পুলিশের আইনের জোর কতটুকু আর বসুন্ধরা গ্রুপের খুঁটির জোর কত? পুলিশ কি পারবে তাকে আটক করতে? নাকি পুলিশ শুধু খুঁজতেই থাকবে?' বিষয়টি বেশ জটিল মি. রহমান। ঢাকার বিভিন্ন পত্রিকায় ইতোমধ্যেই খবর হয়েছে, হয় মি. সোবহান, না হয় তার স্ত্রী একটি মালবাহী বিমানে দেশত্যাগ করেছেন। কিন্তু খবরটি আসলেই সত্য নাকি স্রেফ গুজব, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পুলিশের অবশ্যই এখন দায়িত্ব আছে মি. সোবহানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা। তবে এখানে একটি জিনিস মনে রাখা দরকার, পি কে হালদার পালিয়ে যেতে পেরেছিলেন ঠিকই, কিন্তু রানা প্লাজার মালিক রানা পারেননি, এবং আপন জুয়েলার্স-এর মালিকের ছেলেও কিন্তু বেশি দিন লুকিয়ে থাকতে পারেননি। কাজেই, আপনার আশঙ্কা হয়তো সত্য নাও প্রমাণিত হতে পারে।(সূত্র: বিবিসি)