লালমনিরহাট বার্তা
রংপুর মেডিক্যালে ২০ দিন ধরে ডায়ালাইসিস বন্ধ ১৮ কিডনি রোগীর মৃত্যু
রংপুর অফিস: : Apr 28, 2021, 11:47:09 PM সময়ে

রংপুর মেডিক্যালে ২০ দিন ধরে ডায়ালাইসিস বন্ধ ১৮ কিডনি রোগীর মৃত্যু

রংপু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তথা উত্তরাঞ্চলের একমাত্র বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস বিভাগটি ২০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কিডনি জটিলতার কারণে ডায়ালাইসিস করতে পারছেন না শত শত রোগী। হাসপাতাল সহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ দিনে ডায়ালাইসিস না করতে পারায় ১৮ জন কিডনি রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানাগেছে। কিডনি রোগীরা অসুখ নিয়ে দারুন বে কায়দায় পড়েছেন।দায়িত্বরত নার্স আয়া আর টেকনিশিয়ানরা বলছেন, ডায়ালাইসিসের পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট এবং বেশ কয়েকটি ডায়ালাইসিস মেশিন বিকল হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ছয় লাখ টাকা খরচ করলে দুটি পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট বসানো সম্ভব। কিন্তু সেটাই কেনা হচ্ছে না। অথচ ডায়ালাইসিস বিভাগ থেকে প্রতি মাসে আয় হয় তিন লাখ টাকারও বেশি।গতকাল বুধবার দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি (কিডনি) বিভাগের ডায়ালাইসিস বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, সবগুলো বেড রোগীশূন্য। চার-পাঁচ জন দায়িত্বরত নার্স, আয়া ও টেকনিশিয়ান অলস সময় পার করছেন। অন্য সময় ৪০ থেকে ৫০ জন কিডনি রোগী ভর্তি ও তাদের স্বজনদের উপস্থিতি থাকতো। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত ডায়ালাইসিস ইউনিটের টেকনিশিয়ান মাসুদ জানান, চলতি মাসের ৮ এপ্রিল থেকে ডায়ালাইসিস ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।তিনি জানালেন, ডায়ালাইসিসের প্রধান উপাদান পিউরিফাইড পানি, যা মেশিনের সাহায্যে পরিশোধন করা হয়। সেই মেশিন দুটি পুরোপুরি বিকল হয়ে গেছে। এর আগেও কয়েকবার মেশিন দুটি বিকল হয়েছিল, পরে কোনও রকমে মেরামত করা হয়। এবার ঢাকা থেকে আসা টেকনিশিয়ানরা জানিয়ে দিয়েছেন, এই মেশিন আর সচল করা সম্ভব নয়। নতুন মেশিন স্থাপন করতে হবে।তিনি আরও জানান, একজন কিডনি রোগীকে চার ঘণ্টাব্যাপী ডায়ালাইসিস করতে হয়। এজন্য একেক রোগীর জন্য ১‘শ৮০ লিটার পিউরিফাইড পানির প্রয়োজন । এ পানি ছাড়া ডায়ালাইসিস করা যাবে না। সেই মেশিন যদি নষ্ট থাকে তাহলে কোনও ভাবেই কিডনি ডায়ালাইসিস করা সম্ভবনয়। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কর্তব্যরত নার্স জানান, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস করতে ছয় মাসের প্যাকেজে মাত্র ২০ হাজার টাকা লাগে। প্রতিবার ডায়ালাইসিস করতে খরচ পড়ে ৪শ’ টাকা। আর বাইরে করলে রোগীদের প্রতিবার তিন হাজার টাকা লাগে। বেশি অর্থেও কারনে দরিদ্র রোগীরা বাইরে ডায়ালাইসিস করতে পারেন না । তারা সবাই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তালিকাভুক্ত রোগী।দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অনেক কিডনি রোগী মারা যাবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট ইনচার্জ মোখলেসুর রহমান জানান, ডায়ালাইসিস মেশিন আগে ছিল ৩০টি, এখন ১৮টিতে দাঁড়িয়েছে। বাকিগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। তার পরেও রোগীদের সেবা দেওয়া চলছিল কিন্তু দুটো মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ডায়ালাইসিস পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে হাসপাতালের পরিচালককে জানানো হয়েছে।এদিকে নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে গিয়ে মাত্র একজন কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর দেখা পাওয়া যায়।আর পুরো ওয়ার্ডে ফাঁকা পড়ে আছে অর্ধশতাধিক বেড। কুড়িগ্রাম থেকে আসা কিডনি রোগে আক্রান্ত ১৬ বছরের কিশোর সালাম জানালো, হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি তিন-চারটি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করা যায়। প্রথমে দিতে হয় ১৫ হাজার টাকা, এরপর প্রতিবারের জন্য দিতে হয় তিন হাজার টাকা। সালামের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। প্রতিবার তিন হাজার টাকা দিয়ে ডায়ালাইসিস করা কোনও ভাবে সম্ভব নয়। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করতে লাগে মাত্র ৪শ’ টাকা। ১৯ দিন যাবৎ মেশিন নষ্ট অথচ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন রেখেছেন তারা কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি জানান, বাইরে থেকে ডায়ালাইসিস করিয়ে ওয়ার্ডে ভর্তি করে অন্যান্য চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ডায়ালাইসিস করা যাচ্ছে না। রোগীদের চিকিৎসা হচ্ছে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন তিনি। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেয়াজুল করিমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন,কে কিভাবে মারা যাবেন এব্যাপারে আমাদের খোঁজ রাখার কথা নয়। অতি সত্তর মেসিন গুলো রংপুরে আসবে বলে তিনি জানান।