লালমনিরহাট বার্তা
ফারাক্কা নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর  নিকট মাওলানা ভাসানীর পত্র
বার্তা ডেস্ক : May 20, 2021, 6:12:50 PM সময়ে

ফারাক্কা নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নিকট মাওলানা ভাসানীর পত্র

প্রিয় মিসেস গান্ধী, আপনার ৪ঠা মে, ১৯৭৬ এর পত্র ফারাক্কা প্রশ্নে সরকারী বক্তবের পুনরাবৃত্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। পন্ডিত মতিলাল নেহরুর নাতনী ও পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর কন্যার নিকট থেকে এটা আমি আশা করিনি। আপনার প্রথিতযশা পূর্ব পুরুষগণ এবং আপনি নিজে সর্বদা বঞ্চিত জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সর্বক্ষেত্রে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংগ্রাম করেছেন। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে সহযোগিতা দানের জন্য আমি আপনার ও ভারতের মহান জনগণের নিকট অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। ফারাক্কা প্রশ্নে আমি পুনর্বার আপনাকে উত্তরাঞ্চলীয় জেলাসমূহ সফর এবং আমাদের শিল্প ও কৃষি উৎপাদনে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ অনুধাবনের অনুরোধ জানাচ্ছি। আপনার অফিসারদের রিপোর্টের উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভর না করার জন্যও আমি আপনাকে অনুরোধ জানাচ্ছি। কারণ ঐ সব রিপোর্টে সবসময় বিদ্যমান পরিস্থিতির সত্যিকার চিত্র প্রতিফলিত হয় না। পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে আপনার মনোভাব আমি উপলব্ধি করেছি। তাই সমাধান হতে হবে স্থায়ী ও ব্যাপক। এটা শুস্ক মওসুমের দু’মাসে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না, সারা বছরের প্রবাহ এর আওতায় আনতে হবে এবং ন্যায্য অংশ ভাগ করতে হবে। এ লাইনে ফারাক্কা সমস্যার সমাধান উদ্ভাবনের জন্য এর আগে আমি আপনাকে কয়েকটি টেলিগ্রাম করেছি। এ সমস্যা যা বাংলাদেশের সাড়ে ৩ কোটি মানুষের জীবন মরণ প্রশ্ন, তার সমাধান আমলাদের দ্বারা হতে পারে না। এ জন্য দু’দেশের নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই আলোচনায় বসতে হবে এবং উভয়ের গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে পৌঁচ্ছাতে হবে। কোনরূপ মোকাবিলা ও বৈরী মনোভাব পোষণ না করে আমি আপনার নিকট এ বাপারে আপনার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশের ৮ কোটি মানুষের গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান বের করার আবেদন জানাচ্ছি। আমার অনুরোধ আপনার গ্রহণযোগ্য না হলে নির্যাতিত জনগণের তো আপনার পূর্বপুরুষ ও মহাত্মা গান্ধীর নিকট সংগ্রামের পথের যে শিক্ষা আমি পেয়েছি, তা অনুসরণ করে সমস্যা সমাধানের জন্য আমি ভবিষ্যৎ কর্মসূচী প্রণয়নে বাধ্য হব। আমাদের দুই বন্ধু দেশের মৈত্রী বন্ধন শক্তিশালী করতে সংকটময় সমস্যা সমাধানে আপনাকে আমার সর্বাধিক সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিচ্ছি। শুভেচ্ছাসহ- ভবদীয় মোঃ আবদুল হামিদ খাঁ ভাসানী [সূত্রঃ ফারাক্কা ব্যারাজ ও বাংলাদেশ, বি. এম. আব্বাস এ. টি] (সংগৃহিত)