লালমনিরহাট বার্তা
রংপুর বিভাগের করোনার রেড জোনে ৩ জেলা বাড়ছে সংক্রমণ
স্টাফ রিপোর্টারঃ | ২০ জানু, ২০২২ ৪:৪১ AM
রংপুর বিভাগের করোনার রেড জোনে ৩ জেলা বাড়ছে সংক্রমণ
গত ১৯ জানুয়ারি রংপুর বিভাগের তিন জেলাকে করোনা সংক্রমনের রেড জোনে (অধিক ঝুঁকিপূর্ণ) দেখছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। উত্তরের এই বিভাগের আট জেলার মধ্যে ভারতীয় সীমান্তবর্তী পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট জেলাকে রেড জোনে (অধিক ঝুঁকিপূর্ণ) দেখছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ইয়েলো জোনে (মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ) রংপুর, কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁও জেলা। এ পর্যন্ত কম ঝুঁকিপূর্ণ (গ্রিন জোন) জেলা গাইবান্ধা ও নীলফামারী।
রংপুর বিভাগে করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে উদ্বেগ বেড়েছে । গত এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। করোনার রেড জোনে থাকা রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলায় করোনা সংক্রমণের হার ১১.২৬ শতাংশ, পঞ্চগড়ে ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং লালমনরিহাটে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ ছাড়া ইয়েলো জোন বা মধ্যম ঝুঁকিতে থাকা রংপুর, কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁও জেলায় শনাক্তের হার ৫ থেকে ১০ শতাংশ।
রংপুর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ আবু জাকিরুল ইসলাম জানিয়েছেন,গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে ৯৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ২৯ শতাংশে।গত মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) বিভাগে শনাক্ত হয় ৭২ জন। সে দিন শনাক্ত ছিল ১৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ।সোমবার (১৭ জানুয়ারি) ৪৯ এবং রোববার (১৬ জানুয়ারি) শনাক্ত হয় ২৫ জন।গতকাল বুধবার দুপুরে তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ।তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের আট জেলার ৪৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরের ৪৮, রংপুরের ১৮, ঠাকুরগাঁওয়ের ১০, নীলফামারীর ৯, গাইবান্ধার ৯, কুড়িগ্রামের ২, পঞ্চগড়ের ২ এবং লালমনিরহাট জেলার ১ জন করোনা পজিটিভ হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগে করোনা আক্রান্ত ২৫ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সংকটাপন্ন ৭ রোগীকে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছে। বাকিদের বাসায় রেখে চিকিৎসা চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৪ জন সুস্থ হয়েছে। একই সময়ে ভারত হতে লালমনিরহাটের বুড়িমারী, দিনাজপুরের হিলি ও পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছেন ২৭ জন।
রংপুর বিভাগ করোনার সংক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে নেই কোনো করোনা আতঙ্ক। পুরো বিভাগেই নতুন করে দেওয়া সরকার নির্দেশিত বিধিনিষেধের কোনো প্রভাব পড়েনি। এমনকি সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনের নেই তৎপরতা।বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার কথা থাকলেও হাটবাজার, পরিবহন, হোটেল-রেস্তোঁরা সহ সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত সবখানেই উপেক্ষিত। সুরক্ষা নীতি বা স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে চলছে সভা-সমাবেশ, উৎসবসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম চলছে দিব্যি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ আবু মোঃ জাকিরুল ইসলাম বলেন, গণটিকাসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে টিকার আওতায় আনার ফলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার আগের চেয়ে কমে আসছে। তবে বর্তমানে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন এবং করোনার ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে এ অবস্থা উদ্বেগজনক।
এই বিভাগের আরও খবর