লালমনিরহাট বার্তা
নারী ও পুরুষের সম্পর্ক
ইয়ার আলী | ২ জুন, ২০২৪, ৯:৩৯ AM
নারী ও পুরুষের সম্পর্ক

এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মহান সৃষ্টিকর্তাকে যে নামেই তাকে ডাকুন না কেন,তিনি কিন্তু একজনই। যাকে আমরা আল্লাহ তা'আলা বলি ডাকি। অসংখ্য নামের মধ্যে এই নামটি তার একক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হওয়ার কারণে বেশিরভাগ মানুষ এই নামেই তাকে ডাকে। আল্লাহ তাআলা বিশ্ব জগতের সকলপ্রানীকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন বলে প্রকাশ করেছেন। জোড়া সৃষ্টির মধ্যে মানুষ একটি অন্যতম সৃষ্টি।

আল্লাহপাকের জোড়া সৃষ্টির একটি উত্তম উদাহরণ। শুধুমাত্র মানব সৃষ্টির বা মানব জন্মের জন্যই তিনি জোড়া সৃষ্টি করেননি।তিনি পৃথিবীতে মানুষের বসবাসের জন্য এবং মানুষকে শান্তিতে থাকার জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়।

মানুষ পরিণত বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত জানে না কার সঙ্গে কার জোড়া নির্ধারিত করা রয়েছে। পশুপাখি প্রাণী জন্ম থেকেই জোড়া সৃষ্টি হয় কিন্তু মনে হয় মানুষই একমাত্র প্রার্নী পরিণত বয়সে জোড়া বা একত্র হওয়ার সুযোগ পায়। জোড়া লাগানোর প্রক্রিয়া আল্লাহ পাক নির্ধারণ করে দিয়েছেন।বিয়ে পদ্ধতিকে জোড়া লাগানোর সঠিক পদ্ধতি হিসাবে সার্বজনীন রূপ দিয়েছে। আসলে বিয়েটা তেমন কোন কিছুই না ,শুধুমাত্র জনসম্মুখে বা সাক্ষীর উপস্থিতিতে দুইজনের প্রস্তাব সম্মতিতে একটি নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে একটা চুক্তিপত্র মাত্র।

এই চুক্তিপত্রের লিখিত বা অলিখিত কিছু শর্ত মানুষ তার পরবর্তী জীবন পালন করে জোড়ায় জোড়ায় বসবাস করে। বিশেষ প্রয়োজনে এইচুক্তি মানুষ যে কোন সময়ই আবার ভঙ্গ করতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষ জোড়া বিহীন ও থাকতে পারে। জোড়াকে মানুষ স্বামী ও স্ত্রী হিসেবে বেশি পরিচিতি দিয়ে থাকে। মানব সমাজে জোড়া সৃষ্টির এই প্রক্রিয়াকে মানুষ যখন পদদলিত করে,নতুন কোন পন্থা সৃষ্টি করে ,ঠিক তখনই জোড়া লাগার বিষয়টিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়ে থাকে।আমাজন জঙ্গলেও যে সমস্ত মানুষ পোশাক ছাড়া বসবাস করে,তাদেরও সমাজব্যবস্থায় এই বিয়ের প্রক্রিয়াটি চালু রয়েছে। যেহেতু মানব জীবনে নারী ও পুরুষ বিপরীত ধর্মী দুইটি প্রজাতিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির মাধ্যমে জোড়া লাগানো হয়, তাই জোড়া লাগার পূর্ব পর্যন্ত বিপরীত ধর্মেই মানুষের জীবন চলতে থাকে। সমাজে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াকে অস্বীকার করে অথবা এড়িয়ে মানুষ যখন বিকল্প কোন পন্থা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তখন সেই প্রক্রিয়াটি অবৈধ বলে স্বীকৃত লাভ করে থাকে।

নারী ও পুরুষ জোড়া লাগার ক্ষেত্রে বা একত্রে বসবাসের ক্ষেত্রে পার্থীব্য নিয়ম-নীতিকে যারা অস্বীকার করে অথবা পাশ কাটিয়ে যায় অথবা এড়িয়ে যায় এবং নিজেই একটি প্রক্রিয়া সৃষ্টি করে,মানুষ তাকেই অবৈধ প্রক্রিয়া বলে গণ্য করে,এবং সেই প্রক্রিয়ায় কোন মানুষ জন্ম নিলে তাকেসামাজিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। যেহেতু নারী ও পুরুষ বিপরীত চরিত্রের এবং চৌম্বকীয় আকর্ষনের একটি সৃষ্টি। তাই বৈধ প্রক্রিয়ায় চুম্বক একত্বকরম ছাড়া অন্য কোন ভাবে চুম্বককে একত্বকরণের প্রক্রিয়া কখনোই বিশ্বাসযোগ্য লাভ করতে পারে না।

এতে পৃথিবী কোন উপকৃত হয় না, সামাজিক নিয়ম শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পৃথিবীর বুকে বিশৃংখলতা বৃদ্ধি পায়। যারা যুগে যুগে পৃথিবীর জমিনের উপর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল ,আল্লাহ পাক বা সৃষ্টিকর্তা সেই সমস্ত লোকদেরকে বা সেই সমস্ত জাতিকে পৃথিবীর জমিন থেকে ধ্বংস করে দিয়েছে,কখনো হালাক করে দিয়েছে। যেমন লুত আঃ এর সময় সমকামি জাতিকে পৃথিবীর জমিন থেকে একেবারে সমূলে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আংশিকভাবে বা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে,বিভিন্ন নামে সেই সম্প্রদায় গুলোকে বা ব্যক্তিগুলোকে পৃথিবীর জমিন থেকে বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর আদি ইতিহাস থেকে এখন পর্যন্ত যত ইতিহাস লেখা হয়েছে,তার মধ্যে অন্যতম ইতিহাস হলো নারী পুরুষের জোড়া লাগা বা ভাঙ্গার ইতিহাস।মানব জীবনের পরিণত বয়সে বিপরীত লিঙ্গের দুইটি সৃষ্টিকে একাত্মকরণ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ, সংঘর্ষ ,হত্যা, মৃত্যু,ষড়যন্ত্র,অবিশ্বাস, হিংসা সবকিছুই চলে আসছে। সেজন্যই সৃষ্টিকর্তা বিভিন্ন সময়ে ধর্মের যে বাণী পৃথিবীতে প্রেরণ করেছিলেন তারমধ্যে মানব চরিত্রের এই বিপরীত লিঙ্গের দুইটি প্রজাতিকে একাত্মকরণের এবং জন্ম প্রক্রিয়া সৃষ্টি করনের একটি প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি সকল জায়গায় বর্ণনা করেছেন ।

যারাই স্রষ্টা কর্তৃক নির্ধারিত/ প্রদত্ত এই প্রক্রিয়ার নিয়ম-শৃংখলার বাইরে গেছে ,তারাই গজব অথবা বিশৃঙ্খলার দায়ে পৃথিবী থেকে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। পৃথিবীতে আজকে যারা নারী পুরুষকে অবাধে মেলামেশার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়ে একটি উদার সমাজ তৈরি করার পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন।

তাদের সম্ভবত পৃথিবীর মানব চরিত্রের এই ইতিহাস গুলো হয়তো কমই অনুধাবন হয়েছে। বৈধ প্রক্রিয়ায় জোড়া লাগানোর পদ্ধতি ছাড়া অন্য যেকোনো প্রক্রিয়ায় মানুষ যখন কোন সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন, তখনেই সেই প্রক্রিয়াটি বাতিল বলে পৃথিবীর মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন। পৃথিবীতে যারা গবেষক বা মহান ব্যক্তি তারাও ধর্মের বাণী ছাড়াও নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং ধারণা লব্ধ জ্ঞান মানুষের সামনে তুলে ধরে বলেছেন, যে নারী ও পুরুষ কখনোই বৈধ পন্থা ছাড়া একত্রে বসবাস কিংবা বন্ধু সৃষ্টি করতে পারে না।

যদি হয় তাহলে সেটা অবশ্যই ভুলে ভরা থাকে। যেমন-শেক্সপিয়র বলেছিলেন , "একজন ছেলে কখনো একজন মেয়ের বন্ধু হতে পারে না, কারণ এখানে আবেগ আছে , দৈহিক আকাঙ্খা আছে । "একই কথা বলেছেন আইরিশ কবি Oscar Wilde. "নারী এবং পুরুষের মাঝে কেবলই বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকা অসম্ভব । যা থাকতে পারে তা হলো আকাঙ্খা, দুর্বলতা, ঘৃণা কিংবা ভালোবাসা।"হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন , "ছেলে আর মেয়ে বন্ধু হতে পারে কিন্ত তারা অবশ্যই প্রেমে পড়বে । হয়তো খুবই অল্প সময়ের জন্য অথবা ভুল সময়ে । কিংবা খুবই দেরিতে , আর না হয় সব সময়ের জন্য ।

তবে প্রেমে তারা পড়বেই।"সত্যি বলতে, ছেলে ও মেয়েতে শুধুমাত্র বন্ধুত্ব অসম্ভব ও প্রকৃতি বিরুদ্ধ । কেননা শুধুমাত্র বন্ধুত্ব হলে প্রকৃতি নিজের অস্তিত্ব হারাবে। চুম্বক আর লোহা কখনো পাশাপাশি থাকতে পারে না। আকৃষ্ট করবেই। যদি কেউ তা এড়িয়ে যায় তবে সে ভণ্ডামি করছে নয়তো ধোঁকা দিচ্ছে ।আগুনের পাশে মোম গলবেই। ছেলে ও মেয়ে বন্ধুত্ব হতে পারে ,কিন্তু একসময় প্রেমে বা অবৈধ সম্পর্কে রুপ নিবেই। আর এটাই স্বাভাবিক। মহান আল্লাহ তায়ালা পুরুষ ও নারীর মধ্যে বিপরীত আকর্ষন।সমাজে পুরুষ এবং মহিলাদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর, আরও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য কাজ করা উচিত। পৃথিবীতে এমন পরিবেশ গড়ে তুলা যেথে পারে যেখানে উভয়ই সমানভাবে উন্নতি করতে পারে।

বিশ্বব্যাপী নারী ও পুরুষের মধ্যে সুস্থ ও ন্যায়সঙ্গত সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য ধর্মের আলোকে কিছু মূলনীতির থাকা উচিত।

(লেখক- মোহাম্মদ ইয়ার আলী প্রোপাইটার আলিবাবা থিম পার্ক)

এই বিভাগের আরও খবর