লালমনিরহাট বার্তা
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রমের সচেতনতা প্রচারণার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি, পাটগ্রামঃ | ১৩ আগস্ট, ২০২২ ৮:৩৮ AM
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রমের সচেতনতা প্রচারণার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রমের ভাতাসমূহ ডিজিটাল উপায়ে প্রদান নিশ্চিতে সচেতনতামূলক প্রচারণা কর্মসূচীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল পত্রে পেমেন্ট ব্যবস্থা ডিজিটাল ও শক্তিশালীকরণে জোর দেয় সরকার। ডিজিটাল ব্যবস্থায় অর্থ সহায়তা প্রদান বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ভাতাভোগীদের দক্ষ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/দপ্তরের সহায়তায় অর্থ বিভাগের নের্তৃত্বে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) সমন্বিত একটি জিটুপি (গর্ভমেন্ট টু পার্সন) এর মাধ্যমে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলাদের ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও বিভিন্ন শিক্ষা উপবৃত্তি প্রভৃতি ভাতাভোগীদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রদান করে আসছে সরকার সম্প্রতি ভাতাভোগীরা তথ্য প্রযুক্তির অবৈধ ব্যবহারকারীদের খপ্পরে পড়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এসব কারনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, এটুআই প্রকল্পের সহযোগীতায় এবং উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ওই ইউনিয়নের ভাতা ভোগীদের নিয়ে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে সচেতনতামূলক প্রচারণা কর্মসূচী করার উদ্যোগ নেয় সরকার।

অভিযোগ উঠেছে পাটগ্রাম উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কতিপয় কর্মকর্তা যোগসাজস করে প্রচারণার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ নামমাত্র ব্যয় করে অধিকাংশ আত্মসাত করেছেন। যেন তেন করে প্রচারণা চালিয়ে দায় মুক্ত হওয়ায় ভাতাভোগীদের সচেতন করার সরকারি এ উদ্দেশ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের ভাতাভোগীদের এ প্রচারণা অনুষ্ঠান আয়োজনে ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে ৬৫ অংশগ্রহণকারী উপকার ভোগীদের মাথা পিছু বরাদ্দ উল্লেখ করা হয়েছে ১২৫ টাকা। ব্যানার ১ হাজার টাকা ও যাতায়াত ৫ শ টাকা হিসেবে মোট বরাদ্দ ১০ হাজার টাকা।

গত ২ আগস্ট উপজেলার বুড়িমারী ও দহগ্রাম এবং ৩ আগস্ট পাটগ্রাম সদর, জগতবেড় ও কুচলিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে প্রচারণা চালায় উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর। এতে একটি ব্যানারে তারিখ ও ইউনিয়নের নামের স্থানে সাদা কাগজে নাম লিখে সবখানে ব্যবহার করে। অংশ নেওয়াদের জন্য ছোট কেক, কলা, সন্দেশ ও একটি করে সিঙ্গারা দিয়ে প্যাকেট করা নাস্তা সরবরাহ করা হয়। অনুষ্ঠানে দায়সারাভাবে আলোচনা করা হয় বলে ভাতাভোগীরা জানায়। পাটগ্রাম ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের এছাহাক আলী ও আছর উদ্দিন বলেন, ‘মোবাইল নম্বর তো ঠিকই দিছি। টাকা নাকি আসছে, আমরা বহুবার দেখছি কোন টাকা আসে নাই। সভায় কি যে বললো কিছুই বুঝি নাই। ভালোভাবে না বুঝাইলে কিভাবে বুঝবো।’

জগতবেড় ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের জয়নাল আবেদীন ও ৪ নং ওয়ার্ডের নুর ইসলাম বলেন, ‘বিকাশ পিন নম্বর কাউকে বলা যাবে না, দেওয়া যাবেনা সমাজসেবার লোকজন বলল, টাকা আসে না এসবের কিছু তো বললনা।’

এই বিভাগের আরও খবর