লালমনিরহাট বার্তা
দহগ্রামে বিজিবির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ
স্টাফ রিপোর্টার, পাটগ্রামঃ | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১০:৩৭ AM
দহগ্রামে বিজিবির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কতিপয় সদস্যের বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙলবার সন্ধা থেকে প্রায় ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে এ বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দহগ্রাম ইউনিয়ন থেকে বের হওয়ার পথে দহগ্রাম তিনবিঘা তল্লাশী চৌকি (চেক পোস্ট) ও দহগ্রামে প্রবেশ করার সময় পানবাড়ী তল্লাশী চৌকিতে বিজিবি ও ভারতীয় অংশে তিনবিঘা করিডর সড়কের দুই দিকে ভারতীয় বিএসএফের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। একমাত্র এ সড়কটি দিয়ে সাধারণ লোকজন, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবি, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন গাড়ি চালক চলাচলের সময় বিজিবি কর্তৃক তল্লাশীর নামে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। সবচেয়ে বেশি হয়রানির মধ্যে পড়ে নারী ও ছাত্রীরা। তাঁদেরকে স্থানীয় ইজি বাইক, অটো বা ভ্যান গাড়ি থেকে নামিয়ে পুরুষ সৈনিকেরা বিভিন্ন ধরনের আপত্তিজনক কথা বার্তা বলেন। বোরখা পড়লে বিজিবি অতিরিক্ত ঝামেলা করেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা। গত মঙলবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মহিলা ও পুরুষ যাত্রী নিয়ে পাটগ্রাম উপজেলা থেকে দহগ্রামে যাওয়ার পথে দহগ্রামের বাসিন্দা অটো চালক নবাব আলীকে (৩৫) পানবাড়ি তল্লাশী চৌকিতে পড়নের কাপড় ধরে হেনস্থা করে বিজিবির দায়িত্বরত নায়েক হাফিজ ও অন্য সদস্যরা। এ সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে দহগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা সন্ধা সাড়ে ৭ টা থেকে দহগ্রামের গুচ্ছগ্রাম বাজার- তিনবিঘা করিডর আঞ্চলিক চলাচলের সড়ক অবরোধ করে। আগুণ জ্বালিয়ে প্রায় দুই শতাধিক সাধারণ বাসিন্দা বিক্ষোভ সমাবেশ করতে থাকে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে বিজিবির বিরুদ্ধে নানা ধরণের স্লোগান দিতে থাকে স্থানীয়রা। পরে দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে বিজিবির উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ঘটনা জানাবেন ও উপযুক্ত বিচার চাইবেন জানিয়ে আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় স্থানীয়রা। পরদিন বুধবার (২১সেপ্টেম্বর) নায়েক হাফিজকে পানবাড়ি বিজিবি কোম্পানি থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

এ বিষয়ে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রংপুর ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল এএফএম আজমল হোসেন খান বলেন, ‘সম্প্রতি বিজিবি মানব পাচার প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ কারণে কেউ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ ধরণের বিক্ষোভ বা অবরোধের ঘটনা ঘটিয়েছে। নায়েক হাফিজের বদলী স্বাভাবিকভাবে হয়েছে-এ ঘটনার সম্পর্কে নয়।’ দহগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বলেন, ‘সড়ক অবরোধের ঘটনা জেনে ঘটনাস্থলে যাই। দহগ্রাম ইউনিয়ন চেয়াম্যান কথা বলায় অবরোধকারীরা আমরা যাওয়ার আগে সরে যায়।’

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘কোনো সমস্যা হলে সড়ক অবরোধ করে তো সমাধান হয়না। আলোচনা করে সমাধান করতে হয়। এজন্য আমার ইউনিয়নের লোকজনদেরকে বুঝিয়ে নিয়ে যাই।’

এই বিভাগের আরও খবর