লালমনিরহাট বার্তা
রংপুর জেলার হাট বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা সবজিসহ মাছ, মাংস, মুরগিসহ অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধি
রংপুর অফিসঃ | ১৮ অক্টোবর, ২০২১ ১:২৭ PM
রংপুর জেলার হাট বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা সবজিসহ মাছ, মাংস, মুরগিসহ অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধি
রংপুর জেলার হাট বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা সবজিসহ মাছ, মাংস, মুরগিসহ অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন যাত্রা থমকে গেছে।কোনোভাবেই সামাল হয়ে উঠছেনা না বাড়তে থাকা বাজার দরের।গত সপ্তাহের ব্যবধানে রংপুরে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দর কিছুটা কমলেও তা এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই রয়েছে। সেইসঙ্গে শীতের আগাম সবজি ও মুরগিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামই চড়া। এতে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।
গতকাল সোমবার নগরীর সিটি বাজার, সিও বাজার ও লালবাগসহ বিভিন্ন বাজার,লালবাগবাজার,মাহিগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ ৬৫-৭০ এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে এখন দাম কিছুটা কমে বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।মাস খানেক আগেও ১২৫-১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে ব্রয়লার মুরগি। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকায়। পাকিস্তানি মুরগিরও দাম বাড়তি। বিক্রেতারা প্রতি কেজির দাম নিচ্ছেন ৩০০-৩২০ টাকা। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৮৫-৪০০ টাকা কেজি দরে। উৎপাদকরা বলছেন, লকডাউনের পর কয়েক দফায় বেড়েছে ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম।
নগরীর আমতলা বাজারে মুরগি কিনতে আসা ক্রেতা জাহাঙ্গিও ও এনামুল হক জানান, দুই সপ্তাহ আগেও পাকিস্তানি মুরগি ২৫০ টাকা কেজি দরে কিনেছেন। এখন ৩০০-৩২০ টাকা কেজিতে কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার মতো নি¤œœœ আয়ের মানুষদের। এভাবে চলতে থাকলে মাসে একদিনও মাংস খাওয়ার স্বাদ পূরণ হবে না বলে জানান তারা।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাইদুল ইসলাম,মানিক মিয়া ও হাফিজুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে এভাবে মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় তার সন্তানদের ওপর খুব প্রভাব পড়ছে। তার সন্তান মাছের তুলনায় মুরগি খেতে বেশি পছন্দ করে। সম্প্রতি মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। তারা বলেন স্বল্প বেতনে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তির পক্ষে মুরগি বাদে অন্য যেকোনো মাংস প্রতিনিয়ত কেনা সম্ভব নয় ।
রংপুর নগরীর লালবাগ এলাকার খামারি কবির হোসেন জানান, পোল্ট্রি ফার্মগুলোতে মুরগিকে সাধারণত সয়াবিন মিল খেতে দেয়া হয়। সয়াবিন মিলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পোল্ট্রি খামারিরা সংকটের মুখে পড়েছেন। মুরগির দাম বাড়ার পেছনে একটি অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তিনি।
নগরীর সিও বাজার এলাকার খামারি আসাদ রহমান জানান, করোনা ও বর্ষা শেষে এখন সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান বেড়ে গেছে। এ কারণে পোল্ট্রি মুরগির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।
অপরদিকে বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা স্বর্ণা ও বিআর-২৮ জাতীয় চালের দাম কেজিতে দুই-তিন টাকা বেড়ে ৫০-৫৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মিনিকেট ৬২-৬৫ টাকা, নাজিরশাইলের দাম ৬৫-৭০ টাকা।
সোমবারার নগরীর সিটি বাজার, ধাপ সিটিবাজার, সিও বাজার,কামাল কাছনা,সাতমাথা,মাহিগঞ্জ ও লালবাগসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়,দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজিতে, ভারতীয় পিঁয়াজ ৬৫ টাকা, টমেটো ১২০-১৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৫৫-৬০ ফুলকপি ১০০-১১২ টাকা,কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমে ১০০-১১০ টাকায়, বরবটি ৬০ টাকা, শসা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।লাউ প্রতি পিস ৩০-৪০ টাকা, ডিমের হালি ৩৪-৩৬ টাকা, লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকা প্রতি হালি এবং রসুন ৫০-৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও প্রতিটি মাছ তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারে পাঙ্গাশ মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। শিং মাছ (মাঝারি) ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, কই মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, চিংড়ি মাঝারি ৫০০ টাকা।রুই মাছের কেজি মানভেদে ২৫০-২৮০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩২০ টাকা, কই মাছ ২৫০-২৭০ টাকা, চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
পুরো সপ্তাহের জন্য বাজার করতে বাজারে একদিন আসেন এনজিওর চাকরিজীবী হাসান আজিজ রংপুরের সব থেকে বড় পাইকারী ও খুচরা বাজার রংপুর সিটি বাজারে কাঁচা সবজিসহ মাছ, মাংস, মুরগিসহ অতিরিক্ত দাম দেখে তিনি কিছুটা থমকে গেছেন। চড়া দামের কারণে সপ্তাহের বাজারের বদলে শুধু দুই তিনদিনের বাজার করে ফিরেছেন তিনি।
শুধু যে হাসান আজিজ তা কিন্তু নয় কিংবা রংপুর সিটি বাজার সেটাও নয় বরং সকল বাজারে এসে সব কিছুর চড়া দামে হতাশা প্রকাশ করেছেন বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা। সব মিলিয়ে কয়েকদিন থেকে বাজারে আসা প্রায় সব ক্রেতারাই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখে পুরো ব্যাগের পরিবর্তে ব্যাগের অর্ধেকের কম বাজার করে ফিরছেন।
পাশাপাশি সকল ধরণের মুরগির দাম বেড়েছে। কয়েকদিন আগেও কেজিতে ১২৫-১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে ব্রয়লার মুরগি। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হ”েছ ১৮০-২০০ টাকায়। পকিস্তানি মুরগির বিক্রি হ”েছ ৩০০-৩২০ টাকা কেজিতে। দেশি মুরগি বিক্রি হ”েছ ৩৮০-৪০০ টাকা কেজি দরে।
এদিকে বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা স্বর্ণা ও বিআর-২৮ জাতীয় চালের দাম কেজিতে দুই-তিন টাকা বেড়ে ৫০-৫৩ টাকায় বিক্রি হ”েছ। আর মিনিকেট ৬২-৬৫ টাকা, নাজিরশাইলের দাম ৬৫-৭০ টাকা,দোকানে ও ভ্যানে প্রতি আঁটি শাক প্রকারভেদে ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ৯ সেপ্টেম্বর খোলা চিনির দাম প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ৭৪ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনি প্রতি কেজি ৭৫ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কিন্ত এই দামে রংপুরের কোথাও খুচরা বিক্রেতারা সয়াবিন তেল ও চিনি বিক্রি করা হচ্ছে না।
কাচা তরকারীর বাজারে শীতের সবজি আসা শুরু হলেও দাম অনেক চড়া। বিক্রেতারা ছোট আকারের প্রতি পিস ফুলকপির দাম হাঁকছেন ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা। এছাড়া শিম ৯০-১০০ টাকা, টমেটো ১২০-১৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৫৫-৬০ টাকা, করলা ৪৫-৫০ টাকা, গাজর ১৩০-১৪০ টাকা, মূলা ৪০-৪৫ টাকা, পটল ৩০-৩৫ টাকা, ঢেঁড়শ ৪০-৪৫ টাকা, গোল বেগুন ৫৫-৬০ টাকা, চিকন বেগুন ৩৫-৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, কার্ডিনাল আলু খুচরা বাজারে ১৫-১৬ টাকা এবং শিল আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ।
নগরীর কামাল কাচনা বাজার থেকে বাজার করতে এসেছেন ব্যবসায়ি মোঃ রাশেদ তিনি বলেন, সব কিছুর দাম বেশি। যে জিনিসেরই দাম জিজ্ঞেস করি তারই দাম চড়া। সব কিছুর এত বেশি দাম হলে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষরা কী খাবে? প্রতিটি জিনিসের দামের ঊর্ধ্বগতি দেখে অর্ধেক ব্যাগ বাজার করেই ফিরতে হচ্ছে।
এই বিভাগের আরও খবর