লালমনিরহাট বার্তা
স্কিন ক্যানসার: প্রকারভেদ ও সতর্কতা
অনলাইন বার্তা ডেস্ক : Jul 16, 2021, 10:56:44 PM সময়ে

স্কিন ক্যানসার: প্রকারভেদ ও সতর্কতা

আমরা প্রায়শই বলতে শুনি, ‘ক্যানসার- যার নাই অ্যানসার।’ কথাটি পুরোপুরি সামঞ্জস্য না হলেও ক্যানসার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে সত্যি করার কিছু থাকেনা। বিশেষ করে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত রোগির বাঁচার আশা খুবই কম।

ক্যান্সার শব্দটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত।আমাদের খাদ্যাভ্যাস,পারিবারিক ইতিহাস,আবহাওয়া ইত্যাদি নানা ফ্যাক্টর ক্যান্সার হওয়া কে প্রভাবিত করতে পারে, অনেক ক্ষেত্রে যা আমাদের হাতে থাকে না।তবে প্রাত্যহিক জীবনে নিজেদের অনেক ধরনের অসচতেনতার কারণে আমরা নিজের অজান্তেই আমাদের বিভিন্ন ক্যান্সার এর ঝুঁকি বাড়িয়ে চলেছি। যার মধ্যে অন্যতম হলো স্কিন ক্যান্সার যা চাইলেই আমরা প্রতিরোধ করতে পারি।

আক্রান্তের দিক থেকে স্কিন ক্যান্সার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন মানুষ স্কিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। যদিও এশিয়া মহাদেশে এর ঝুঁকি খুব একটা বেশি নয়।তবে স্কিন ক্যান্সারের সবচেয়ে মারাত্মক দিকটি হলো এটি দ্বারা কেউ আক্রান্ত হলে তার অন্যান্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

ত্বকের ক্যান্সার হচ্ছে ত্বক থেকে উদ্ভূত ক্যান্সার। এটা ঘটে অস্বাভাবিক কোষ বিকাশের কারণে যা শরীরের অন্যান্য অংশে আক্রমণ করার বা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।  ত্বকের ক্যান্সারের প্রধানত তিন ধরনের রয়েছে: বেসাল-সেল স্কিন ক্যান্সার (বিসিসি), স্কোয়ামাস-সেল স্কিন ক্যান্সার (এসসিসি) এবং মেলানোমা । প্রথম দুটি বেশ কম সাধারণ ত্বকের ক্যান্সার, এই দুইটি ক্যানসার ননমেলেনোমা স্কিন ক্যান্সার (এনএমএসসি) নামে পরিচিত।  বেসাল-সেল ক্যান্সার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং এটি তার চারপাশের টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে তবে দূরবর্তী অঞ্চলে ছড়িয়ে যাওয়ার বা মৃত্যুর ফলস্বরূপ হওয়ার সম্ভাবনা কম । স্কোয়ামাস-সেল স্কিন ক্যান্সার ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সাধারণত এটির মাথায় আঁশযুক্ত একটি শক্ত দলা দেখা যায় তবে এটি আলসারও তৈরি করতে পারে।  মেলানোমাস সবচেয়ে আক্রমণাত্মক। এর লক্ষণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত একটি হলো তিল যা আকার, আকৃতি, রঙে পরিবর্তিত হয়, চুলকানি বা রক্তপাত রয়।

৯০% এর বেশি ক্ষেত্রে ত্বকের ক্যানসার সূর্য থেকে অতিবেগুনী বিকিরণের সংস্পর্শে আসে।  এই সমস্যা তিনটি প্রধান ধরনের ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। আংশিকভাবে পাতলা ওজোন স্তরের কারণে প্রকপ বেড়েছে। মেলানোমাস এবং বেসল-সেল ক্যান্সারের ক্ষেত্রে শৈশবকালে প্রকটটি বিশেষত ক্ষতিকারক। স্কোয়ামাস-সেল ক্যান্সারের ক্ষেত্রে, মোট প্রকট এটি যখনই ঘটুকনা কেন তা সর্বদা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মেলানোমাসের ২০% থেকে ৩০% মোল এর মধ্যে থেকে বিকাশ ঘটে। হালকা ত্বকের লোকেরা উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে।সূত্র: উইকপিডিয়া

প্রকারভেদ: কত প্রকার?

আমাদের ত্বক কোষগুলোর উপর ভিত্তি করে স্কিন ক্যান্সার মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে-

  ১. বেসাল- সেল স্কিন ক্যানসার (বিসিসি): বেসাল সেল কার্সিনোমা (বিসিসি) হ'ল ত্বকের ক্যান্সারের সর্বাধিক সাধারণ রূপ এবং সমস্ত ক্যান্সারের মধ্যে প্রায়শই ঘটে যাওয়া ফর্ম। একমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, প্রতি বছর আনুমানিক ৩.৬ মিলিয়ন কেস নির্ণয় করা হয়। বিসিসিগুলি বেসাল কোষগুলির অস্বাভাবিক, অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি থেকে উদ্ভূত হয়।

যেহেতু বিসিসি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়, বেশিরভাগ নিরাময়যোগ্য হয় এবং ধরা পড়লে এবং চিকিত্সা করা হলে তা ন্যূনতম ক্ষতি করে। বিসিসির কারণগুলি, ঝুঁকির কারণগুলি এবং সতর্কতার লক্ষণগুলি বোঝা আপনাকে তাড়াতাড়ি সনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে, যখন তারা চিকিত্সা এবং নিরাময়ের পক্ষে সবচেয়ে সহজ হয়।

ব্যাসাল কোষের কার্সিনোমা রোদ-উদ্ভাসিত অঞ্চলে ত্বকে বিশেষত মুখে দেখা যায়। এই ক্যাসার খুব কমই মেটাস্ট্যাসাইজ করে এবং খুব কমই মৃত্যু ঘটায়। এগুলি সহজেই সার্জারি বা রেডিয়েশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। স্কোয়ামাস কোষের ক্যান্সারও সাধারণ, তবে ব্যাসাল কোষের ক্যান্সারের তুলনায় খুব কম সাধারণ। এই ক্যানসার ( স্কোয়ামাস কোষের ক্যান্সার) বিসিসি থেকে বেশি ঘন ঘন মেটাস্ট্যাসাইজ করে। সূত্র: উইকিপিডিয়া

২. স্কোয়ামাস- সেল স্কিন ক্যানসার (এনসিসি)

৩.ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা

বেসাল ও স্কোয়ামাসকে একত্রে কেরাটিক কারসিনোমা নামে অভিহিত করা হয়।

 কেরাটিনোসাইট কারসিনোমা:

এটি মূলত প্রাথমিক পর্যায়ের স্কিন ক্যান্সার যেটি ব্যাসাল ও স্কোয়ামাস আবরণী কোষের সাথে সম্পর্কিত। আমাদের ত্বকের যে অংশগুলো সরাসরি সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসে যেমন-গলা,মাথা ইত্যাদি স্থানে এটি বিস্তার লাভ করে। এই ধরনের স্কিন ক্যান্সার খুব বেশি মারাত্মক নয় কিংবা মৃত্যুঝুঁকিও নেই। তবে সঠিক চিকিৎসার অভাবে একটি শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে।

 ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা:

এই ধরনের স্কিন ক্যান্সার অনেকটা ত্বকের বর্ণের সাথে সম্পর্কযুক্ত।আমাদের মেলানোসাইট কোষগুলো ত্বকের বিভিন্ন বর্ণের জন্য দায়ী।মেলানোসাইট কোষগুলো থেকেই মেলানোমা স্কিন ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে।মেলানোমা স্কিন ক্যান্সার অপেক্ষাকৃত মারাত্মক এবং দ্রুত ছড়ায়।এটি যত দ্রুত শনাক্ত এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা করা সম্ভব তত এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভবনা বেশি।

এই দুই ধরনের স্কিন ক্যান্সারই মূলত স্কিন সেলে অবস্থিত ডিএনএ র জেনেটিক মিউটেশনের জন্য হয়ে থাকে।আমাদের ত্বক যখন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আসে তখন অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের স্কিন সেলে অবস্থিত ডিএনএতে মিউটেশন ঘটায়। যার ফলে এই স্কিন ক্যান্সার সৃষ্টি হয়।এছাড়া,কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্কোয়ামাস সেল স্কিন ক্যান্সার এর জন্য হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসও (HPV) দায়ী। তথ্য সূত্র: Intigra Science Organization

 বাড়তি সতর্কতা:

 স্কিন ক্যানসার থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।আপনাকে অনেক বিষয় থেকে বিরত থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

 প্রতি মাসে নিজের ত্বক পরীক্ষা করুন: সব থেকে ভাল হয় যদি বড় কোনও আয়নাতে নিজেই নিজের গোটা শরীরের ত্বকের পরীক্ষা করে নিতে পারেন। ত্বকে কোনও ধরণের অস্বাভাবিকতা, ছোট দাগ বা র‌্যাশ যা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না, যদি খালি চোখে ধরা পড়ে তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

 বছরে একবার বিশেষজ্ঞ দিয়ে ত্বক পরীক্ষা করান: নিয়মিত চেকআপ তো অনেক দূরের কথা, আমরা খুব বেশি সমস্যা অনুভব না করা পর্যন্ত কোনও ভাবেই চিকিৎসকের কাছে যাই না। কিন্তু এই অবহেলার কারণেই রোগ বড় আকার ধারণ করতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞ দিয়ে নিয়মিত ত্বক পরীক্ষা করান। ত্বকের ক্ষেত্রে বছরে অন্তত এক বার হলেও চিকিৎসকের কাছে ত্বক পরীক্ষা করিয়ে নিন।

 অতিরিক্ত রোদে ঘোরাঘুরি থেকে বিরত থাকুন: সকাল ৯ টার পর থেকেই রোদের তেজ মূলত বাড়তে থাকে এবং তা প্রায় বিকেল ৪টার পর পর্যন্ত থাকে। এই সময়টাতে রোদে বাইরে বের হওয়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে তাপমাত্রা যখন ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা উপরে ঘোরাফেরা করবে, তখন রোদের তেজ থেকে নিজেকে আড়ালে রাখুন। আর যদি বাইরে বেরতেই হয়, সে ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব নিজেকে কাপড়ে ঢেকে বাইরে যান।

 সব সময় ভাল ব্র্যান্ডের সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন: যেহেতু বর্তমানে কর্মব্যস্ত জীবনে কাজের প্রয়োজনে রোদে ঘোরাঘুরি করতে হতেই পারে, সেহেতু একটু বেশি খরচ করে বাজারের সেরা কার্যকরী বেশি এসপিএফ সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। সানস্ক্রিন শুধু মুখে নয় শরীরের অন্যান্য খোলা অংশেও (যেমন, হাত, গলা, ঘাড়) ব্যবহার করবেন। এতে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচতে পারবেন।

সূত্র: একুশে টিভি