লালমনিরহাট বার্তা
স্বাধীনতার ইতিহাস হৃদয়ে ধারণ করি : বিশ্ব নেতৃবৃন্দের নিকট মাওলানা ভাসানীর বার্তা
বিশেষ প্রতিবেদক : Jul 19, 2021, 9:19:01 PM সময়ে

স্বাধীনতার ইতিহাস হৃদয়ে ধারণ করি : বিশ্ব নেতৃবৃন্দের নিকট মাওলানা ভাসানীর বার্তা

মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী বাংলার সাড়ে সাত কোটি নিরস্ত্র মানুষকে ইয়াহিয়া বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমন, হত্যা, নির্যাতন, নিপিড়ন ও ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষার এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বীকার করে নেয়ার জন্য বিশ্বের নেতৃবৃন্দের কাছে তার বার্তা ও চিঠি পাঠিয়েছিলেন। এই দিনটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন। 
মওলানা ভাসানী যে সকল বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে তার বার্তা ও চিঠি পাঠিয়েছিলেন, তারা হলেন ১। জাতিসংঘের সেক্রেটারী জেনারেল উ-থান্ট, (২) মহাচীনের চেয়ারম্যান মাও সেতুং, (৩) মহাচীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই, (৪) সোভিয়েত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পোদগর্নি, (৫) সোভিয়েত রাশিয়ার কম্যুনিস্ট পার্টির সেক্রেটারী জেনারেল ব্রেজনেভ (৬) সোভিয়েত রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী কোসিগিন (৭) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিক্সন, (৮) ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পমপিডু, (৯) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথ, (১০) যুগো¯øাভিয়ার প্রেসিডেন্ট টিটো, (১১) মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাৎ, (১২) আরব লীগের সেক্রেটারী জেনারেল আবদেল খালেক হোসাইনী, (১৩) আফ্রিকার ঐক্য সংস্থার সেক্রেটারী জেনারেল ডয়োলো টেল্লি।
বিশ্ব নেতৃত্বের প্রতি মওলানা ভাসানীর তার বার্তা ও চিঠি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, ভারত ও অন্যান্য দেশে সংবাদপত্র, রেডিও টেলিভিশনে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছিল। মওলানা ভাসানী তার বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে পাকিস্তানে অস্ত্র সরবরাহ না করার অনুরোধ জানান। চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছেন, সমাজতন্ত্রের আদর্শ হলো নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা। ইয়াহিয়ার সামরিক বাহিনী আপনাদের সরবরাহকৃত আধুনিক অস্ত্রের সাহায্যে নির্দয়ভাবে বাংলার নিরস্ত্র শ্রমিক, কৃষক, বুদ্ধিজীব, ছাত্র, জনতা এবং নারী ও শিশুকে হত্যা করছে। আপনাদের সরকার এই হত্যাযজ্ঞের প্রতিকার না করলে গোটা বিশ্ববাসী এ কথাই মনে করবে যে, আপনারা নির্যাতিত জনগণের বন্ধু নন।
রাশিয়ার নেতৃবৃন্দকে বলেছিলেন, মহামতি লেলিনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত আপনাদের দেশ ও জনগণ সব সময়েই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত জনগণের দুর্দিনে বৈষয়িক এবং রাজনৈতিক সমর্থন জুগিয়ে এসেছে। তাই বাংলাদেশের জনগণের বর্তমান সংগ্রামেও আপনাদের সার্বিক সাহায্য আমরা আশা করি। 
মওলানা ভাসানী মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের সমস্যা ও সমাধানের উপায় নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে বৈঠক করেছিলেন। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ারও আহবান জানান। জবাবে ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন, ‘উপর্যুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে’। 
মুক্তিযুদ্ধের কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্বাধীনতার পক্ষে সর্বস্তরের জনগণের জাতীয় ঐক্যকে প্রতিভাত করার জন্য সেপ্টেম্বর’৭১ মাসে কোলকাতায় বাংলাদেশের ৫টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয়েছিল। 
সভাপতিত্ব করেন মওলানা হামিদ খান ভাসানী। উপদেষ্টা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, কমিনিস্ট পার্টির মনি সিংহ। ন্যাপের অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনোরঞ্জন ধর এবং আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমদ ও খন্দকার মোস্তাক আহমদ। পরবর্তীতে খন্দকার মোস্তাক আহমদ বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের মদদদাতা হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিলেন। মওলানা ভাসানী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অধিকাংশ সময়ে ভারতের দেরাদুনে নজরবন্দী ছিলেন। (সূত্র: দু’শো ছেষট্টি দিনে স্বাধীনতা ও দৈনিক সমকাল)