লালমনিরহাট বার্তা
বাংলাদেশে অসহায় শিশুদের জন্য হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক
বার্তা অনলাইন ডেস্কঃ | ৭ অক্টোবর, ২০২১ ১১:৫৬ AM
বাংলাদেশে অসহায় শিশুদের জন্য হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক
রাজধানীতে হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ উদ্যোগটি যেসব শিশু জন্মের সময় মা হারায় বা মায়ের অসুস্থতার কারণে বুকের দুধ পায় না কিংবা মায়ের দুধ নবজাতকের পুষ্টির জন্য পর্যাপ্ত নয় তাদের জন্য৷
‘স্ট্রেনদেনিং মাল্টিসেক্টরাল নিউট্রেশন প্রজেক্ট' এর আওতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবজাতক ইউনিট, ঢাকা শিশু হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মাতুয়াইলের শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে (আইসিএমএইচ) এই মিল্ক ব্যাংক করতে চায় এফএইচআই৩৬০৷ হাসপাতালগুলোর সঙ্গে এরই মধ্যে তাদের প্রাথমিক চুক্তি হয়ে গেছে৷ দুই বছর আগে একবার মাতুয়াইলের শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট মিল্ক ব্যাংক স্থাপনের উদ্যোগ নিলে ধর্মীয় কারণে তা আটকে যায়৷

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্যামিলি হেলথ ইন্টারন্যাশনাল-এফএইচআই ৩৬০ সেজন্য গত ৩১ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতির জন্য আবেদন করেছে৷

ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘‘এতে ধর্মীয় বিষয় জড়িত থাকায় সবার সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, একা সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না৷ ইসলামিক ফাউন্ডেশন আছে, ধর্মীয় নেতারা আছেন, সব স্টেকহোল্ডারদের যুক্ত করে এগোতে হবে৷''

মিল্ক ব্যাংক স্থাপনের এই নতুন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত আছেন বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ৷তিনি বিডিনিউজকে বলেন, ‘‘নবজাতক এবং শিশু স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো মায়ের বুকের দুধ৷ শরীরে পুষ্টি যোগানোর পাশাপাশি বুকের দুধ টিকা হিসেবে কাজ করে, সংক্রমণ প্রতিরোধে কাজ করে৷''
মিল্ক ব্যাংক খোলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানাতে গিয়ে ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ বলেন, ‘‘মায়ের বুকের দুধ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন প্রিম্যাচিওর বাচ্চার পুষ্টির জন্য৷ মা পর্যাপ্ত দুধ দিতে পারছে না, মায়ের অপারেশন বা একটা রোগ ধরা পড়েছে, এমন ওষুধ খাচ্ছে যে বুকের দুধ দিতে পারছে না-এ ধরনের নবজাতককে বর্তমানে হাসপাতাল বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে অন্য মায়েদের অনুরোধ করে তার বুকের দুধ খাওয়ানো হয়৷কিন্তু এটা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নয়, ধর্মীয়ভাবেও প্রশ্ন থেকে যায়৷ কার বাচ্চাকে কার দুধ খাওয়াচ্ছি, রেকর্ড রাখছি কি না সেটাও প্রশ্ন৷ এসব কারণেই মিল্ক ব্যাংক তৈরি করা দরকার৷''

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে জন্মের পর প্রতি এক হাজারে ১৬ জন নবজাতকের মৃত্যু হয়৷ জন্মের পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতি হাজারে মারা যায় ২৯টি শিশু৷মায়ের বুকের দুধ নিশ্চিত করতে না পারা শিশু মৃত্যুর প্রধান চারটি কারণের একটি বলে জানান এফএইচআই ৩৬০ এর অ্যাডভাইজার ডা. গাজী মাসুম আহমেদ ৷ মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে পারলে যেসব শিশু মারা যাচ্ছে তাদের অর্ধেককে বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি৷

‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক' নিয়ে বিতর্ক
মায়ের বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত শিশুদের মায়ের দুধের ব্যবস্থা করতে ২০১৭ সাল থেকে কাজ শুরু করে ঢাকার মাতুয়াইলের শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (আইসিএমএইচ)৷ বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতিও আনার পরেও ওলামাদের একটি অংশের বিরোধিতা কারণে থেমে যায় উদ্যোগটি৷ এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অবস্থান সম্পর্কে গবেষণা বিভাগের মুফতি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ গত মাসে বিডিনিউজকে জানিয়েছিলেন, যে প্রক্রিয়ায় এটা হবে বলা হচ্ছে, এভাবে বৈধতা দেওয়া যাবে না৷

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর রেকর্ড নিয়ে আলেম সমাজের আপত্তি রয়েছে তবে এর বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানও রয়েছে৷
এর সমাধান করতে দুগ্ধদানকারী মা এবং দুধ পান করেছে যে শিশু তার সব তথ্যসহ দুটো আলাদা আইডি নম্বর ড্যাশবোর্ডে থাকবে বলে জানান এফএইচআই ৩৬০ এর অ্যাডভাইজার ডা. গাজী মাসুম আহমেদ৷(ডয়েচে ভিলা)
এই বিভাগের আরও খবর