লালমনিরহাট বার্তা
সাহিত্য বিশারদ কবি শেখ ফজলল করিম
ড. এস এম শফিকুল ইসলাম কানু : May 1, 2021, 7:03:15 PM সময়ে

সাহিত্য বিশারদ কবি শেখ ফজলল করিম

মুসলিম জাগরনে অন্যতম কবি শেখ ফজলল করিমের অমর কবিতা- কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরী মাঝে স্বর্গ নরক মানুষেতে সুরাসুর। রিপুর তাড়নে যখনি মোদের বিবেক পায় গো লয় আত্মগøানির নরক অনলে তখনি পুড়িতে হয়। প্রীতি প্রেমের পূন্য বাঁধনে মিলি সবে পরস্পরে স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখনি আমাদের কুঁড়ে ঘরে। তিনি ১৮৮৩ সালের ১৪ এপ্রিল মোতাবেক ১২৮৯ বঙ্গাব্দের ৩০ চৈএ, সোমবার রংপুর জেলার ( বর্তমানে লালমনিরহাট) কালীগঞ্জ থানার কাকিনা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা আমীর উল্লা সরকার ও মা কোকিলা বিবি। দাদা ছিলেন জশমত উল্লাহ সরদার। কবি শেখ ফজলল করিম ১৮৯৯ সালে কাকিনা মহিমারঞ্জন বিদ্যালয় থেকে মাইনর পরীক্ষায় উর্ত্তীন হন। কবি ছোট বেলা থেকে কবিতা লিখতেন এবং জ্ঞানার্জনের জন্য প্রচুর বই পড়তেন। স্কুলের বাঁধাধরা নিয়ম তাঁকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। তাই তিনি উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে পারেন নি। কবির ১২ বছর বয়সে হাতের লেখা প্রথম সরল পদ্য বিকাশ প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি নিয়মিত পত্র পত্রিকা, সাময়িকি সহ বিভিন্ন বই পত্র সংগ্রহ ও পড়াশুনা করে জ্ঞান অর্জনে মনোনিবেশ করেন। কবি ১৮৯৬ সালে নিজ বাড়ীতে করিম আহামদিয়া লাইব্রেরি ও পরবর্তীতে সাহারিয়া প্রিন্টিং ওয়ার্কস প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯০৮ সালে মে মাসে ‘বাসনা’ নামে মাসিক পত্রিকার সম্পাদনা ও প্রকাশনা শুরু করেন। পত্রিকা ১৯১০ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। বাসন পত্রিকার কবি হিন্দু- মুসলমানের সম্প্রীতির পক্ষে প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। এই মাসিক পত্রিকাটিতে তৎকালীন কবি লেখক ও অনুবাদকদের লেখা ছাপানো হতো। এতে সমকালীন মুসলিম সাহিত্যিক ও লেখকদের মধ্যে হামেদ আলী, শেখ রেয়াজ উদ্দীন আহমদ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, তসলিম উদ্দীন আহমদ ও স্বনাম খ্যাত অনেক ব্যক্তির লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। এই মাসিক বাসনা ছিল পূর্ববঙ্গের শ্রেষ্ঠ পত্রিকা। কবি শেখ ফজলল করিমের প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৫৫টি। প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে, লাইলী মজনু, পরিত্রান কাব্য, পথ ও পাথেয়, খাজা বাবার জীবন চরিত, বিবি রহিমা, রাজর্ষী এবরাহীম, পয়গম্বয়গনের জীবনী, শেখ ফজলল করিমের কবিতা, ধ্রবতারা, কুসুম কলি, আমার জীবন চরিত, চিন্তার চাষ, বিবি খাদিজা, বিবি ফাতেমা,বিবি আয়শা, ছামিতত্ব বা ধর্ম সংঙ্গীত। তিনি ওমর খৈয়ামের লেখা কবিতা ও প্রবন্ধ বাংলা অনুবাদ করেছিলেন। তাছাড়াও কবির অন্যতম গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে তৃষ্ণা (কাব্য) পরিত্রান (কাব্য) মানসিংহ, ভগ্নবীনা বা ইসলাম চিত্র, আফগান স্থানের ইতিহাস, গাঁথা, ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি, হারুন অর রশীদের গল্প। কবি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেলেও তিনি জীবনগ্রহ, ইতিহাস, সমাজ গঠন মূলক ও তত্বকথা গল্প, নীতিকথা চরিতগ্রন্থ, বহু প্রবন্ধ, নাট্যকাব্য, এবং সমালোচনা মূলক রচনা লিখেছেন। তার লেখা তৎকালীন সাহিত্য ও সাময়িকিতে প্রকাশিত হয়েছিল। তম্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, কোহিনুর বাসনা, সওগাত, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, মোসলেম ভারত মাসিক মোহাম্মদী, বসুমতী, আরতি, নবনুর, প্রচারক, কল্পতরু শিশুমনি । তিনি সমকালীন মুসলিম কবি ও সাহিত্যকদের মধ্যে ছিলেন অন্যতম। কবি তার সাহিত্য কর্মে জন্য পুরস্কৃত ও খেতাব প্রাপ্ত হয়েছিলেন। পথ ও পাথেয় গ্রন্থের জন্য রৌপ্যপদক, চিন্তার চাষ গ্রন্থের জন্য নীতিভূষণ, নদীয়া সাহিত্য সভা তাকে সাহিত্য বিশারদ, বাসনা পত্রিকায় রোমিও জুলিয়েট সম্পর্কিত তার একটি কবিতা পাঠ করে হিন্দু সাহিত্যিকেরা তাকে বাংলার শেক্সপিয়ার আখ্যা দিয়েছিলেন। তাছাড়া তিনি কাব্য ভূষণ, সাহিত্যরণ, বিদ্যা বিনোদ, কাব্যরতœকর সহ নানাবিধ উপাধি ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।