লালমনিরহাট বার্তা
রংপুরে নিজেই রোগাক্রান্ত হয়েপড়েছে বক্ষব্যাধি হাসপাতাল।একজন ডাক্তারদিয়ে চলছে চিকিৎসা ব্যবস্থা
রংপুর অফিস : Jun 3, 2021, 12:37:09 PM সময়ে

রংপুরে নিজেই রোগাক্রান্ত হয়েপড়েছে বক্ষব্যাধি হাসপাতাল।একজন ডাক্তারদিয়ে চলছে চিকিৎসা ব্যবস্থা

রংপুরের বক্ষব্যাধি হাসপাতালে নেই কোন রোগীর চাপ । এখানে আগত রোগীদের নেই সেবা না পাওয়ার অভিযোগ। চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্য স্টাফরা আছে সংখ্যায় জনবল  থুবই নাজুক। জুনিয়র কনসালটেন্ট পদটি রয়েছে তিন বছর ধরে শূন্য।আর পাঁচ বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে এক্স-রে মেশিন। বক্ষব্যাধি হাসপাতালটির জরাজীর্ণ ভবনে রয়েছে ফাটল আতঙ্ক। সংস্কারের অভাবে স্যাঁতসেঁতে দেয়াল, থেকে মাঝে-মাঝে খসে পড়ছে প্লাষ্টার। বক্ষব্যাধি হাসপাতালে রোগীদের বিছানা থেকে টয়লেট, বাথরুম সবই অপরিচ্ছন্ন এ কথায় ব্যবহার অনুপযোগী। এ রকম নোংরা পরিবেশে  করুন দশা নিয়ে কোনো রকমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে রংপুরের বক্ষব্যাধি হাসপাতালটি।
জানাযায়,ষাটের দশকে নির্মিত বক্ষব্যাধি এই  হাসপাতালটির এখন নানা সমস্যায় উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরাও।চিকিৎসা নিতেআসা রোগী ও তাদের স্বজনরা বলছেন, নিরুপায় হয়েই এখানে চিকিৎসা নিতে আসতে হয়। তানাহলে কেউই আসত না এই ভুতুড়ে এই হাসপাতালে।গতকাল বুধবার দুপুরে দেখা গেছে, সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে হাসপাতাল জুড়ে। চিকিৎসক সংকট আর দুর্বল অবকাঠামোর কারণে হাসপাতালটি যেন নিজেই বক্ষব্যাধি রোগে আক্রান্ত। হাসপাতালের নোংরা পরিবেশে যত্রতত্র পড়ে আছে রোগীদের বেড গুলো। শৌচাগারও ব্যবহারের অনুপযোগী। মরিচা পড়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে প্রয়োজনীয় আসবাসপত্র। মাঠে থাকা টিউবওয়েলটিও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ড সহ একটি টয়লেট ও বাথরুমের সংস্কার কাজ চলছে।এই হাসপাতালের পাশেই রয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বক্ষব্যাধি ক্লিনিক। সেখানকার এক্স-রে মেশিনটি পাঁচ বছর ধরে অচল। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এর অভাবে। মাত্র একজন চিকিৎসক আর দশজন স্টাফ দিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। এ ছাড়া জনবল কম থাকায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক থেকে দুইজন ও যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি হতে আরও দুইজন সেখানে কাজ করছেন। যেন হাসপাতালের মতোই এই  ক্লিনিকেরও বেহাল দশা।এখানে একটি জিন এক্সপার্ট মেশিন দিয়ে রোগীদের কফ পরীক্ষা করা হয়। দু”তলা বিশিষ্ট এই ক্লিনিকে দশটি কক্ষ রয়েছে। পাঁচটি টয়লেটের তিনটিই ব্যবহার অনুপযোগী। দীর্ঘ দিনের পুরাতন দরজা-জানালার অবস্থা এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম। ক্লিনিকের পেছনের দেয়াল থেকে খসে পড়ছে প্লাষ্টার। কর্তৃপক্ষ বলেছেন, বক্ষব্যাধি ক্লিনিকটি সংস্কারের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে চিঠি দিয়ে অবগত করছেন।জানা গেছে, বর্তমান রংপুর নগরের তাজহাটে ১৯৬৫ সালে যক্ষা রোগীদের চিকিৎসার জন্য বক্ষব্যাধি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এক তলা একটি ভবনের ছয়টি কক্ষে চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এর মধ্যে একটি নারী ও দুটি পুরুষ ওয়ার্ড রয়েছে। অন্য তিনটি কক্ষে চিকৎসক, কর্মচারীদের বসার ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলে। ২০ শয্যার এই হাসপাতালে চারটি মহিলা বেড ৪ ও ১৬টি পুরুষ বেড। বর্তমানে সেখানে দুইজন চিকিৎসক ও ১০ জন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। এদের মধ্যে চিকিৎসক ছাড়াও তিনজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, সহকারী নার্স তিনজন, ওয়ার্ডবয় দুইজন, বাবুর্চি দুইজন এবং একজন ফার্মাসিস্ট রয়েছেন।
  ব্র্যাক থেকে এই ক্লিনিকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) হিসেবে দায়িত্বে থাকা গোলাম রব্বানী  জানান, জনবল সংকট থাকার কারণে তিন বছর ধরে ব্র্যাক থেকে সেখানে দুই জন সার্ভিস দিচ্ছেন। বক্ষব্যাধি হাসপাতাল থাকলেও রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য উন্নত মেশিন ও ল্যাবরেটরি নেই। ক্লিনিকের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন নষ্ট থাকার কারণে রোগীদের বাইরে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
   বক্ষব্যাধি মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মেশকাতুল আবেদ  জানান, হাসপাতালের মতো ক্লিনিকেরও অবকাঠামো খুব দুর্বল। অনেক আগে নির্মিত ভবনটির সংস্কার হয়নি। মাস তিনেক আগে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর থেকে অফিস কক্ষ রং করা হয়েছে।
রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ হিরম্ব কুমার রায় বলেন, ক্লিনিক ও হাসপাতালটির সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে । তিনি আরো বলেন, এই হাসপাতাল ভবনটি অনেক পুরোনো। এ কারণে জীর্ণদশা হয়ে পড়েছে। ভবনটি সংস্কার করা জরুরি। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদফতর ও গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়েছিল। সম্প্রতি ক্লিনিকের সংস্কার কাজের জন্য বাজেট পাওয়া গেছে। জুনের মধ্যেই সংস্কার কাজ শেষ হবে।  
এ ব্যাপারে রংপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ্ আল মামুন  সাংবাদিকদের বলেন, সংস্কার কাজের জন্য সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই তিনটি কাজের চুক্তি সম্পাদন করা হবে। রং করা, পানির লাইন সংযোজন, টাইলস পরিবর্তনসহ কিছু সংস্কার কাজ করতে বাকি রয়েছে।