লালমনিরহাট বার্তা
কালীগঞ্জে ৮ ইউনিয়নে ৪৮৬ প্রার্থী
বিশেষ প্রতিনিধিঃ | ২৬ নভেম্বর, ২০২১ ১২:২৮ PM
কালীগঞ্জে ৮ ইউনিয়নে ৪৮৬ প্রার্থী
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ৮ ইউনিয়নে ৪শ ৮৫ জনের মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে।
৮ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫৩জন,সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১০৭ জন ও সাধারন সদস্য পদে ৩২৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছেন। একজন চেয়ারম্যান,একজন সংরক্ষিত মহিলা ও ৮জন সাধারন সদস্য প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বিভিন্ন কারনে বাদ পড়েছে।
ক্ষমতাশীল আ’লীগের ৮ জন প্রার্থী ৮ ইউনিয়নে মনোনয়ন পেলেও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ৮ জন। জাপা’র প্রার্থী রয়েছেন ৫ইউনিয়নে ৫ জন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোটমারী ইউনিয়ন বাদে সব কটি ইউনিয়নে প্রার্থী রয়েছে। চন্দ্রপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টী ও কাকিনা ইউনিয়নে এনপিপি’র প্রার্থী রয়েছে একজন করে।বাদবাকী সবাই স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করছেন।
এ উপজেলায়তৃতীয় ধাপে ভোট হবে আগামী ২৮ নভেম্বর। গত ২ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন এবং পরের দিন ছিল যাচাই বাচাইয়ের দিন। ঋৃণ খেলাপী ও অন্যান্য কারনে বাদ পড়েছেন ১০জন। তাদের মধ্যে মদাতী ইউনিয়নে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও একজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী এবং অন্যান্ন ইউনিয়নে ৮ জন সাধারন সদস্য প্রার্থীর মনোনয়ন বিভিন্ন কারনে বাতিল হয়েছে।
তুষভান্ডার ইউনিয়নে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নুর ইসলাম আহমেদ। এখানে নৌকা না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজেদা বেগম। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী রয়েছে। এ ছাড়া ৩ টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে ১৩ জন প্রার্থী রয়েছে এবং ৯ ওয়ার্ডে সাধারন সদস্য রয়েছে ৪৮জন।
চলবলা ইউনিয়নে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম বসুনিয়া ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি নয়ন কুমার রায়। সব মিলে এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে ৭জন। ৩ টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে ১১ জন এবং ৯টি সাধারন ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছে ৪১ জন।
মদাতী ইউনিয়নে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের। এ ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থ হিসেবে লড়াইয়ে নেমেছেন কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব। ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে একজনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বর্তমান প্রার্থী রয়েছে ৫ জন। ৩ টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছে ১৩জন। এ ছাড়া, ৯ টি সাধারন ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছে ৩৭ জন।
কাকিনা ইউনিয়নে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তাহির তাহু। এ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে লড়ছেন যুবলীগের ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ফারুক হোসেন। সবমিলে এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে ৮জন। ৩ টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছে ১৪ জন এবং ৯ টি সাধারন ওয়ার্ডে ৪২ জন প্রার্থী রয়েছে।
দলগ্রাম ইউনিয়নে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান ছোটন । এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ছাত্রলীগের ইউনিয়ন আহবায়ক জিন্নাহ রহমান জয়। এ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নাথ রায় সহ চেয়ারম্যান পদে ১৩ জন প্রার্থী রয়েছে। ৩ টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে ১৩ জন এবং ৯ টি সাধারন ওয়ার্ডে সদস্য প্রার্থী রয়েছে ৪১ জন।
গোড়ল ইউনিয়নে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদুল ইসলাম। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরল আমীন ও আওয়ামী লীগ সদস্য ও ইউনিয়ন পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক উমা শংকর রায়।চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রয়েছে ৫ জন। ৩ টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছে ১০ জন এবং ৯ টি সাধারন ওয়ার্ডে ৩৭ জন প্রার্থী রয়েছে।
চন্দ্রপুর ইউনিয়ন আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান । এ ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন চেয়েছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জামাল হোসেন খোকন এবং জেলা কৃষক লীগের সহ সভাপতি শফিয়ার রহমান জমিদার। বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম সহ চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে ৫ জন। ৩ টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছে ১৪ জন এবং ৯ টি সাধারন ওয়ার্ডে ৪০ জন প্রার্থী রয়েছে।
ভোটমারী ইউনিয়নে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আহাদুল হোসেন চৌধুরী । এ ইউনিয়নে শামীমা আকতার নামে একজন মহিলা সহ চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে ৫ জন। ৩ টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছে ১৯ জন এবং ৯ টি সাধারন ওয়ার্ডে ৩৯ জন প্রার্থী রয়েছে।
গোটা উপজেলায় ভোটার সাধারনের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। অন্যান্ন বারের চেয়ে প্রার্থীর সংখ্যাও কম নয়। বর্ষা পরবর্তী হালকা শীতের পরশ । কাজের চাপও অনেকটা কম। নতুন ধান ঘরে আসতে শুরু করেছে। গ্রাম-গঞ্জের হাট বাজার গুলোতে জন সমাগম অনেক বেড়ে গেছে। স্বাস্থ্যবিধির কথা যেন ভুলেই গেছে। ইতোঃমধ্যে চলছে উঠান বৈঠক,পথসভ্।া ছোট খাটো বিবাদ-কলহ ভুলে গিয়ে চলছে দোয়া-প্রার্থনার কৌশল।সব মিলে নির্বাচনী হাওয়া বইছে সর্বত্র। তবে,গত কয়েকদিনের ব্যবধানে নির্বাচনী হাওয়া অনেকটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। চলবলা ইউনিয়নে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার রেশ কাঁটতে না কাঁটতেই চন্দ্রপুর ইউনিয়নে আ’লীগ প্রার্থীর বাড়ির পাশের গ্রাম নওদাবাসে গত ১৮ নভেম্বর ভোর রাতে কে বা কারা নওদাবাস দাখিল মাদ্রাসার সামনে টাঙ্গানো একটি কাঠের নৌকা পুড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ২ শ’ থেকে আড়াইশ’ জনের নামে একটি মামলা হয়েছে। এ মামলায় দোলন নামের একজনকে পুলিশ গত ২১ নভেম্বর আটক করে কোর্টে সোপর্দ করেছে। ২২ নভেম্বর মামলার ১ নম্বর আসামী সহ ৩৪ জন আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।
ইতো:মধ্যে নির্বাচন কমিশন কালীগঞ্জ থানার ওসি আরজু মোঃ সাজ্জাদ হোসেনকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন । সব মিলে ইতো:মধ্যে নির্বাচনী হাওয়া অনেকটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে, প্রশাসন,আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অনেকটা তৎপর হয়েছে।
এই বিভাগের আরও খবর