লালমনিরহাট বার্তা
নদী আর মহাসড়ক জুড়ে বালুর রমরমা ব্যবসা, ক্ষতির সড়ক ও বসতবাড়ি
স্টাফ রিপোর্টার, পাটগ্রামঃ | ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৭:৪৬ AM
নদী আর মহাসড়ক জুড়ে বালুর রমরমা ব্যবসা, ক্ষতির সড়ক ও বসতবাড়ি

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার হিড়িক চলছে। পাশাপাশি মহাসড়ক আর আঞ্চলিক সড়ক জুড়ে চলছে বালুর রমরমা ব্যবসা। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ভাঙন তীব্র হচ্ছে। প্রতিবছর বসতভিটা নদীতে বিলীন হচ্ছে। প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীদের নিকট এলাকাবাসীর পাশাপাশি প্রশাসনও নির্বিকার।

পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম পৌরসভা, পাটগ্রাম ইউনিয়ন, শ্রীরামপুর ও বুড়িমারী ইউনিয়নের ধরলা নদীর প্রবাহিত অংশ/এলাকা থেকে নিকটবর্তী প্রায় ১৫ টি গ্রামের অন্তত ২০-২৫ টি আঞ্চলিক পাকা ও কাঁচা সড়ক দিয়ে বেপরোয়া ট্রাক্টর গাড়ির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বালু পরিবহন করা হয়। এতে রাস্তা গুলো ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কে গাড়ি দাঁড় করিয়ে বালু লোড আনলোড/ খালাস ও ভর্তি করায় দুর্ঘটনা বেড়েছে।

অপরিকল্পিতভাবে/অনিয়মতান্ত্রিক করে বালু উত্তোলন, পরিবহন ও বিক্রি করায় সরকার রয়্যালিটি/রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে- বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে ঢাকাগামী মহাসড়কের দুইদিকে একাধিক বালুর পাহাড়সম স্তুপের নিকট সাইনবোর্ড দেখে মনে হবে বালুর শহর পাটগ্রাম। মহাসড়কের ঘুন্টি, বেলতলী, চিলার বাজার, সরেঅর বাজার, মির্জারকোট সড়কের অংশ জুড়ে স্তুপকারে বালু রেখে বিক্রি করার এক ধরণের প্রতিযোগীতা চলছে। কোনো প্রকার আইন-কানুন বা বিধি নিষেধের তোয়াক্কা না অবাধে বালু উত্তোলন, পরিবহন ও বিক্রি করায় উপজেলা জুড়ে ভ‚-গর্ভস্থ ক্ষতি, প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয় এবং সাধারণ মানুষ চলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন, পরিবহন রাজনৈতিক কতিপয় নেতা জড়িত হওয়ায় উপজেলা ও স্থানীয় প্রশাসন নির্বিকার বলে দাবি এলাকার একাধিক বাসিন্দাদের। প্রতিদিন অসংখ্যবার এলাকার আঞ্চলিক রাস্তা দিয়ে অনুমোদনহীন ট্রাক্টরে বালু পরিবহন করায় কাঁচা, আধাপাকা ও পাকা সড়ক ভেঙে নষ্ট হয়ে চলাচলে দুর্ভোগে পড়ছেন স্থানীয় জনসাধারণ। পৌর শহরের মধ্য দিয়ে ও মহাসড়ক হয়ে বেপরোয়া গতিতে এসব বালু পরিবহনে নিত্য ঘটছে দুর্ঘটনা।

পাটগ্রাম পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের বেংকান্দা এলাকার গৃহিনী মিনা বেগম (৪৫) বলেন, ‘ধরলা নদী প্রতিবছর ভাঙছে। এতে নদীর নিকট বসতবাড়ি ও বসতভিটা হওয়ায় আমাদের মত হতদরিদ্র পরিবারের কষ্টের শেষ নাই। নদীর কিছু দূরে বালুর চর পড়ে বালু গুলো বালু ব্যবসায়ীরা গাড়িতে করে নিয়ে যায়। এতে বসতভিটাসহ বাড়ি-ঘর প্রতিবছরই ভাঙনের মুখে পড়ছে। বালু নিয়ে যেতে নিষেধ করলেও কেউ শুনছেন না।’

বুড়িমারী ইউনিয়নের উফারমারা গ্রামের বানিয়াডাঙ্গী এলাকার গৃহিনী মজিদা খাতুন বলেন, ‘ বালু নিয়ে ট্রাক্টর গুলো খুব দ্রæত যায় এ কারণে রাস্তার কাছে বাড়ি হওয়ায় ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে আতঙ্কে থাকি।

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হক সুমন বলেন, ‘বালু উত্তোলন, বিক্রি অবৈধ কাজ এটা পরিস্কার। এ ব্যাপারে থানার ওসির সাথে কথা বলেছি। কিছু ইনফরমেশন আমার কাছে এসেছে। মামলা বা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

এই বিভাগের আরও খবর