লালমনিরহাট বার্তা
রংপুরের ১কোটি ৬৩ লাখ টাকা আত্মসাত ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত
রংপুর অফিসঃ | ২৫ আগস্ট, ২০২১ ১০:০৯ AM
রংপুরের ১কোটি ৬৩ লাখ টাকা আত্মসাত ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত
রংপুরের বদরগঞ্জে আয়নাল হক নামের এক ইউপি চেয়ারম্যানকে অর্থ আত্মস্াৎ এর অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ, প্রতারণামূলক ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এক কোটি তেষট্টি লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। আয়নাল হক উপজেলার ১০ নং মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। গত সোমবার (২৩ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভগের উপসচিব মোঃ আবুজাফর রিপন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করে আদেশ জারি করেছেন।বিষয়টি বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজ ২৫ আগস্ট (বুধবার) সকালে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
আদেশে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান আয়নাল হকের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ, প্রতারণামূলক ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এক কোটি তেষট্টি লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বদরগঞ্জ থানায় রয়েছে। ওই মামলায় এ বছরের ১২ মে চেয়ারম্যান আয়নাল হক গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে থাকায় তাঁর দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে।সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় এবং স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী আয়নাল হককে তাঁর স্বীয় পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে আয়নাল হকের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যরা একাধিক অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ হরিলুটের অভিযোগ তোলেন। এসবের তদন্ত দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রংপুর জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে ছাড়াই একা একা সভা করতেন চেয়ারম্যান আয়নাল হক। কারো মতামতের না নিয়ে পরিষদ পরিচালনা করতেন। একই সঙ্গে মাতৃত্বকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ পরিষদের অনুকূলে আসা বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা লুটপাট করেন। চেয়ারম্যান নিজেই স্বাক্ষর জাল করে অনেকের টাকাও আত্মসাত করেছেন।
ইউপি সদস্যরা জানান, চেয়ারম্যান আয়নাল হক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের নির্বাচিত শত ভাগ বিধবা ভাতা ভোগীদের কাছ হতে জনপ্রতি চার হাজার টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ করেন। অনেকের কাছ থেকে উৎকোচ নেয়ার পরও ভাতা কার্ড না করে দেওয়া, প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না করার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। ২০১৯ সালে আয়নাল হকের বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ড ও এলজিএসপির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল।চলতি বছরের ৬ মে চেক জালিয়াতি মামলায় চেয়ারম্যান আয়নাল হক গ্রেফতার হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন। জামিনের ছয়দিন পর ১২ মে তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহারের টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় ওই দিন চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করেন বিক্ষুব্ধ জনগন।
এই বিভাগের আরও খবর