লালমনিরহাট বার্তা
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ-এর নবম মৃত্যুবর্ষিকী   উপলক্ষ্যে সুজন-এর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত
বার্তা মনিটর : May 26, 2021, 6:03:26 PM সময়ে

অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ-এর নবম মৃত্যুবর্ষিকী উপলক্ষ্যে সুজন-এর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

সুজন-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, সমাজ সংগঠক অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ-এ নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর উদ্যোগে ২২ মে বিকাল ৩টায় একটি অনলাইন স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন  সুজন কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য বিচারপতি এম এ মতিন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ আবু নাছের বখতিয়ার, বিশিষ্ট সাংবাদিক অজয় দাস গুপ্ত, বিশিষ্ট আইনজীবি ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়–য়া, অধ্যাপক রেহমান সোবহান, অধ্যাপক রওনক জাহান, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জনাব রাজেকুজ্জামান রতন, সুজনের কেন্দ্রীয় সমনন্বয়কারী জনাব দিলীপ কুমার সরকার, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ।  
বদিউল  আলম মজুমদার বলেন,  নাগরিক সমাজ মৌলিক অধিকার পাহারা দেওয়ার জন্য কতগুলো সাংবিধানিক ও আইন  দ্বারা বিধিবদ্ধ কতগুলো প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছে। নাগরিক সমাজ হল পাহারাদারদের                    
পাহারাদার। নাগরিক সমাজ শক্তিশালী না হলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ভুলন্ঠিত হতে পারে। অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ ছিলেন নাগরিক সমাজের অবিসংবাদিত নেতা। আজকে দেশের এরকম পরিস্থতিতে আমরা তাঁর প্রয়োজন আরও বেশি অনুভব করছি।   
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এরকম একটি সময়ে যতখানি না তাঁর জন্য, তারচেয়ে আমাদের নিজেদের জন্য প্রয়োজন বলে মনে করি। অর্থনীতিবিদ  মনোযোগ দিয়েছেন আজকেও  ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক। রাষ্ট্রের ভ’মিকা কী হবে, রাষ্ট্র নাগরিকদের কীভাবে   সামাজিক সুরক্ষা দেয়া যায় সে ব্যাপারেও তাঁর চিন্তা ছিল। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ যখন উত্তরণকালীন সময়ের দিকে যাচ্ছিল তখন নতুন করে বিরাষ্ট্রীয়করণ, উন্মুক্তকরণ, উদারীকরণ হচ্ছিল সেসময় তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে একটি নৈতিক অবস্থান থেকে  যে কয়জন অর্থনীতিবিদ অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি তাঁর পুরাধা ছিলেন। বাংলাদেশের বাংলাভাষায় অর্থনীতি চর্চার সূত্রপাতও হয় তাঁর হাতে। তিনি ছিলেন বাংলা চিন্তার জগতে ক্রিটিকাল থিংকিং এর একজন  উত্তরাধিকার।  
অজয় দাশ গুপ্ত বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদায়লয়ের ব্যবসা প্রশাসন ইন্সটিটিউটের মত একটি প্রতিষ্ঠান তৈরিতে তাঁর অনেক বড় ভ’মিকা ছিল।  তাঁর মতের সঙ্গে সবাই একমত হয়েছেন তা না, কিন্তু দেশে বসেই কাজ করেছেন।   
প্রফেসর সিকান্দার খান বলেন, উনার অর্থনীতির গবেষণা এখনও রেফারেন্স হিসেবে আমাদের ব্যবহার করতে হয়। সফল সংগঠক হিসেবে উনি বুঝতে পারতেন যে কারা কাজে লেগে থাকবে। এমন মানুষকে খুঁজে খুঁজে বের করতেন।  
 নাছিমা আক্তার জলি বলেন, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ শুধু ব্যক্তি মানুষ ছিলেন না, উনি ছিলেন একটা প্রতিষ্ঠান । উনি যেটা বিশ্বাস করতেন সেটা একা হলেও  করতেন। 
রওনক জাহান বলেন, তিনি যতগুলো প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে তিনি স্বেচ্ছাব্রতী হিসেবে কাজ করেছেন।  এতগুলো প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থাকলেও ব্যক্তি মোজাফ্ফর আহমদ কখনো ¤¬ান হয়ে যাননি। ব্যক্তি হিসেবে একদিকে তিনি ছিলেন অসম্ভব বিনয়ী, আবার অন্যদিকে খুব চাঁচাছোলা কথা বলতেন। 
রেহমান সোবহান বলেন, ১৯৫৭ সালে আমরা একসাথে ক্যারিয়ার শুরু করি। উনি ছিলেন আমার চেয়ে মাচ বেটার ইকোনমিস্ট  এবং বাংলায়ও উনার দক্ষতা ছিল আমার চেয়ে বেশি। যার কারণে উনি বেশি পাঠকের কাছে পৌঁছাতে পেরেছেন। বর্তমানে করোনা মহামারী কালে আমাদের দুইটা সমস্যা প্রধান বলে মনে করি একটি স্বাস্থ্য রিলেটেড আরেকটি হচ্ছে সুশাসনের অভাব।  এই সময়ে এই দুটো বিষয়ে নেতৃত্ব দেওয়া জন্য সবচেয়ে যোগ্য লোক হচ্ছেন অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ। 
দিলীপ কুমার সরকার বলেন, আমরা অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলা শুরু করি অনেক আগে থেকে। উনার নেতৃত্বে ২০০৫ সালে যখন প্রার্থীদের তথ্য বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়, সে সময় আমরা যুদ্ধাপরাধীদের ভোট না দেয়ারও আহŸান জানিয়েছিলাম।  
আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়–য়া বলেন, নাগরিক সামষ্টিকভাবে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের চিন্তাধারাকে এগিয়ে নিতে হবে। শাসন ব্যবস্থায় নানা রকম দুর্দশার মধ্য দিয়ে আমরা, যাঁরা ক্রিটিক্যাল চিন্তা করেন, সমালোচনা করতে পারেন। তারা সামষ্টিকভাবে  হতে পারছেন না। 
সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মতো লোক আজও প্রয়োজন। তিনি খাটি ভদ্রলোক ছিলেন। পারিবারিক জীবন, শিক্ষক বা প্রশাসক হিসেবে যত বড় পদেই তিনি গিয়েছেন, তিনি সব সময়ই  সত্য বলতেন।
রাজনীতিক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শুধু যুক্তই ছিলেন না, তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হয়েছিলেন। তার মতে মানুষের অভাব এখন দেশে। দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত। যারা প্রতিষ্ঠান গড়েছেন তাদেরও হারাতে হচ্ছে। 
সুজনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ নাসের বখতিয়ার বলেন, কৃর্তিমান মোজাফফর আহমদ অর্থনীতিবিদ পরিবেশবিদ ছিলেন, তিনি সুজনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। 
রংপুর থেকে সুজন জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন ও লালমনিরহাট জেলা কমিটির সভাপতি গেরিলা লিডার ড. এস এম শফিকুল ইসলামসহ সুজনের অন্যান্য জেলা নেতৃবৃন্দ সংযুক্ত হয়ে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ এর নাগরিক সংগঠনে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও নৈতিকতার বিষয়ে তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিচারপতি এম.এ মতিন বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ আজীবনই তার কর্মস্থল ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি অঙ্গীকার বদ্ধ ছিলেন। কোন ক্ষেত্রেই কমতি ছিল না। ভালো মানুষ হলে তার কোন চিন্তা থাকে না। তাঁর লেখাগুলো বাংলা করে সবার জন্য পাঠ যোগ্য করা হলে তা জাতির জন্য পথের দিশা হবে। তিনি বলেন, আমরা জাতি হিসেবে কৃতজ্ঞ তার মৃত্যু দিবস পালন করতে পেরে।