লালমনিরহাট বার্তা
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় প্রাণিসম্পদ পরিচালককে হত্যা স্ত্রীর দাবী
স্টাফ রিপোর্টারঃ | ২২ জুন, ২০২২ ৫:০৬ AM
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় প্রাণিসম্পদ পরিচালককে হত্যা স্ত্রীর দাবী
রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক অলিয়ার রহমান আকন্দকে সুপরিকল্পিতভাবে রহস্য জনক হত্যার অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী ও স্বজনেরা। বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অফিসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হলে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হবে বলে দাবি করেছেন তারা। মঙ্গলবার (২১ জুন) সন্ধার পর নিহত অলিয়ার আকন্দের স্ত্রী আফরোজা বেগম দুই সন্তান মেয়ে লাবিবা রহমান ও ছেলে শুশফিক রহমানকে নিয়ে বগুড়া থেকে সরাসরি নগরীর ষ্টেশন রোডের গ্রান্ড হোটেল মোড় এলাকায় অবস্থিত জেলা ও বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে এসে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোঃ মাহফুজার রহমান বলেছেন, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ তদন্তের জন্য আমরা জব্দ করেছি। তবে এটি হত্যা না আত্মহ্যা ময়না তদন্ত রির্পোট না পাওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছেনা।নিহতের লাশ ময়না তদন্ত শেষে রাতে তার স্ত্রী আফরোজা বেগমের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত পরিচালকের স্ত্রী আফরোজা বেগম অভিযোগ তুলে বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা বা ১১টার সময় এ ঘটনা ঘটেছে। অথচ রংপুর জেলা বা বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তাদের কোনও খবর দেওয়া হয়নি।একটি অফিসের প্রধান মারা গেলেন, সেই খবরটিও কি আমরা জানার অধিকার রাখি না।রংপুর জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়ের একটি চক্র দুর্নীতি লুটপাট করতে উঠেপড়ে লেগেছিল। আমার স্বামী তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ান। এ কারণেই তাকে মরতে হয়েছে। খুনিরা অফিসেই বহাল তবিয়তে আছে।অফিস স্টাফদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নিখুত তদন্ত করলেই সব রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি বলেছেন।
নিহত পরিচালকের স্বজনরা বলেছেন, নিহত অলিয়ার রহমান পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন, কোরান তেলাওয়াত করতেন। এমন মানুষ কোনোভাবে আত্মহত্যা করতে পারেন না। প্রতিদিন রাতে ভিডিও কলে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গ তিনি কথা বলতেন। সোমবার রাতেও ভিডিও কলে কথা বলেছেন তিনি। আজ সকালে ফোন না করায় আমরা ভেবেছি তিনি হয়তো কোন জরুরি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন। কিন্তু তাকে সুপরিকল্পিতভাবে যে হত্যা করা হবে, তা আমরা ভাবতে পারিনি।তারা অভিযোগ করেন, নিহত অলিয়ার রহমান আকন্দ এক জন সৎ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি চাকরিজীবনে এক পয়সাও ঘুষ খাননি। অবৈধ কোনও টাকা উপার্জন করেননি। বিষয়টি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন সব কর্মকর্তা জানেন। শুধুমাত্র সততা আর কর্তব্যনিষ্ঠার জন্য চাকরিজীবনে তিনি কোথাও বেশিদিন টেকেননি। দুর্নীতি করতেন না কাউকে করতেও দিতেন না। এ জন্য বেশিদিন তিনি এক স্থানে চাকরি করতে পারতেন না।
নিহত পরিচালক অলিয়ার রহমানের মেয়ে লাবিবা রহমান বগুড়া আজিজুল হক কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, বাথরুমে শাওয়ারের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে কীভাবে একজন আত্মহত্যা করেন? এটা পাগলও বিশ্বাস করবে না। আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে খুনিদের দ্রæত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান ।
অলিয়ার রহমানের ছেলে বগুড়া জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান বলেন, আমার বাবাকে হত্যা করে তার লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা খুনিদের গ্রেপ্তার সহ বিচার চাই।
স্বজনরা আরো জানান, অলিয়ার রহমানের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলায়।বগুড়াতেই বর্তমানে তার পরিবার বসবাস করছে। সেখানেই তিনি স্থায়ী আবাস গড়ে তুলেছেন।
বগুড়া থেকে অলিয়ার রহমানের স্ত্রী ও সন্তানেরা রংপুরের প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে এসে পৌঁছান। তাদের বুক ফাটা কান্না আর আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এ সময় রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ)আবু মারুফ হোসেন , মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি মাহফুজার রহমান, পরিদর্শক (তদন্ত) হোসেন আলী সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে স্বজনরা জানিয়েছেন, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক অলিয়ার রহমান আকন্দ নিহতের ঘটনায় তারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করবেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কশিশনার আবু মারুফ হোসেন বলেন, আমরা পরিবারের অভিযোগসহ সব বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সিসিক্যমেরার ভিডিও নিয়ে পুলিশ বিশ্লেশন শুরু করেছে রহস্য উৎঘাটনে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিহতের স্ত্রীও স্বজনদের কাছে রাত প্রায় ৯টার দিকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অলিয়ার রহমানের মৃত্যুর খবর পেয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঢাকা থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. জসীম উদ্দিন। তিনি বলেছেন,এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে সব ধরনের সহ যোগিতা করা হবে। ঘটনা তদন্তে বিভাগীয় একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
এই বিভাগের আরও খবর